এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা

এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন তারা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শিক্ষা জীবন থেকে যাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হারিয়ে না যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের এই সুযোগ দিচ্ছে সরকার।
কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দুই বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই মাসেই দেশের প্রথম সারির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষে হয়ে যাবে। ফলে ফেল করা পরীক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন নেওয়ার প্রক্রিয়া নভেম্বর মাসেই শেষ হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন শুরু এ মাসে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু করছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল। সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পেতেন। সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনাগ্রহের কারণে এবার শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল না–ও পেতে পারেন। তবে আরও কিছু জায়গায় ভর্তির সুযোগ থাকবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বছর প্রথমবার ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাই কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। তবে আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যান্য অসামঞ্জস্যতা থাকবে না। শুধু তা-ই নয়, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনো পরীক্ষার্থী তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে যদি এক বা দুই বিষয়ে পাস করেন, তাহলে তাঁর সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কিন্তু আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ হবে ২৩ নভেম্বর। অন্যদিকে সম্পূরক পরীক্ষার চলমান ফরম পূরণের শেষ সময় ৯ নভেম্বর। ফলে পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের আগেই ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলাফলের পরিবর্তনের কারণে সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও কোনো কোনো পরীক্ষার্থী সুযোগটি না–ও পেতে পারেন।
এবার এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এবার ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর শুরু হবে সম্পূরক পরীক্ষা । নিয়মিত ও অনিয়মিত—দুই ধরনের পরীক্ষার্থীরাই এতে অংশ নিতে পারবেন। ৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ নভেম্বর। তত্ত্বীয় প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের ফরম পূরণ ফি ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর। আবেদন চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২৬ ডিসেম্বর এবং আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে ১২ নভেম্বর। আবেদন শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি। ওই তিন দিনে যথাক্রমে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বুয়েটে ভর্তির পরীক্ষা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, কবে থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে, তা এখনো একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অনুমোদন হয়নি। তবে আশা করা যায়, ২০ তারিখের পরপর তা শুরু হবে। তিনি বলেন, তাঁরা সব সময়ই পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এবারও তা–ই করা হবে।
তবে সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না বলে অধ্যাপক কামরুল হাসানের কথায় বোঝা গেল। তিনি বলেন, বুয়েটে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে লাভ আছে?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম ১৫ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন কার্যক্রম চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ভর্তির আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাবে। যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হবে, তবু আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণের সময় সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ফল বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হলে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘সম্পূরক পরীক্ষার বিষয়টি দুইভাবে বিবেচনা করা যায়। একদিকে যেসব শিক্ষার্থী আগামী মাসে সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেবেন, তারা পাস করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। সেদিক থেকে সময়সূচির সমন্বয় না করার বিষয়টি অবশ্যই একটি সীমাবদ্ধতা।’
অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ আরও বলেন, ‘অন্যদিকে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, এসব শিক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। সরকার হয়তো দেখেছে, এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করার পরিবর্তে দ্রুত আরেকটি সুযোগ দেওয়ার চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এটিকে পুরোপুরি ব্যর্থ উদ্যোগ বলার সুযোগ নেই। বরং প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে সময়সূচি নির্ধারণ করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।’

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন তারা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শিক্ষা জীবন থেকে যাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হারিয়ে না যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের এই সুযোগ দিচ্ছে সরকার।
কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দুই বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই মাসেই দেশের প্রথম সারির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষে হয়ে যাবে। ফলে ফেল করা পরীক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন নেওয়ার প্রক্রিয়া নভেম্বর মাসেই শেষ হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন শুরু এ মাসে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু করছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল। সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পেতেন। সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনাগ্রহের কারণে এবার শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল না–ও পেতে পারেন। তবে আরও কিছু জায়গায় ভর্তির সুযোগ থাকবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বছর প্রথমবার ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাই কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। তবে আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যান্য অসামঞ্জস্যতা থাকবে না। শুধু তা-ই নয়, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনো পরীক্ষার্থী তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে যদি এক বা দুই বিষয়ে পাস করেন, তাহলে তাঁর সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কিন্তু আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ হবে ২৩ নভেম্বর। অন্যদিকে সম্পূরক পরীক্ষার চলমান ফরম পূরণের শেষ সময় ৯ নভেম্বর। ফলে পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের আগেই ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলাফলের পরিবর্তনের কারণে সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও কোনো কোনো পরীক্ষার্থী সুযোগটি না–ও পেতে পারেন।
এবার এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এবার ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর শুরু হবে সম্পূরক পরীক্ষা । নিয়মিত ও অনিয়মিত—দুই ধরনের পরীক্ষার্থীরাই এতে অংশ নিতে পারবেন। ৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ নভেম্বর। তত্ত্বীয় প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের ফরম পূরণ ফি ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর। আবেদন চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২৬ ডিসেম্বর এবং আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে ১২ নভেম্বর। আবেদন শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি। ওই তিন দিনে যথাক্রমে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বুয়েটে ভর্তির পরীক্ষা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, কবে থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে, তা এখনো একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অনুমোদন হয়নি। তবে আশা করা যায়, ২০ তারিখের পরপর তা শুরু হবে। তিনি বলেন, তাঁরা সব সময়ই পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এবারও তা–ই করা হবে।
তবে সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না বলে অধ্যাপক কামরুল হাসানের কথায় বোঝা গেল। তিনি বলেন, বুয়েটে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে লাভ আছে?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম ১৫ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন কার্যক্রম চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ভর্তির আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাবে। যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হবে, তবু আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণের সময় সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ফল বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হলে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘সম্পূরক পরীক্ষার বিষয়টি দুইভাবে বিবেচনা করা যায়। একদিকে যেসব শিক্ষার্থী আগামী মাসে সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেবেন, তারা পাস করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। সেদিক থেকে সময়সূচির সমন্বয় না করার বিষয়টি অবশ্যই একটি সীমাবদ্ধতা।’
অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ আরও বলেন, ‘অন্যদিকে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, এসব শিক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। সরকার হয়তো দেখেছে, এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করার পরিবর্তে দ্রুত আরেকটি সুযোগ দেওয়ার চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এটিকে পুরোপুরি ব্যর্থ উদ্যোগ বলার সুযোগ নেই। বরং প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে সময়সূচি নির্ধারণ করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।’

এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন তারা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শিক্ষা জীবন থেকে যাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হারিয়ে না যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাদের এই সুযোগ দিচ্ছে সরকার।
কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দুই বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই মাসেই দেশের প্রথম সারির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষে হয়ে যাবে। ফলে ফেল করা পরীক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন নেওয়ার প্রক্রিয়া নভেম্বর মাসেই শেষ হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন শুরু এ মাসে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু করছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল। সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পেতেন। সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আলোচনাও হয়েছিল। কিন্তু প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনাগ্রহের কারণে এবার শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল না–ও পেতে পারেন। তবে আরও কিছু জায়গায় ভর্তির সুযোগ থাকবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বছর প্রথমবার ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাই কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। তবে আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যান্য অসামঞ্জস্যতা থাকবে না। শুধু তা-ই নয়, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনো পরীক্ষার্থী তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে যদি এক বা দুই বিষয়ে পাস করেন, তাহলে তাঁর সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কিন্তু আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ হবে ২৩ নভেম্বর। অন্যদিকে সম্পূরক পরীক্ষার চলমান ফরম পূরণের শেষ সময় ৯ নভেম্বর। ফলে পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের আগেই ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলাফলের পরিবর্তনের কারণে সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও কোনো কোনো পরীক্ষার্থী সুযোগটি না–ও পেতে পারেন।
এবার এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এবার ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর শুরু হবে সম্পূরক পরীক্ষা । নিয়মিত ও অনিয়মিত—দুই ধরনের পরীক্ষার্থীরাই এতে অংশ নিতে পারবেন। ৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ নভেম্বর। তত্ত্বীয় প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের ফরম পূরণ ফি ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর। আবেদন চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২৬ ডিসেম্বর এবং আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে ১২ নভেম্বর। আবেদন শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি। ওই তিন দিনে যথাক্রমে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বুয়েটে ভর্তির পরীক্ষা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, কবে থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে, তা এখনো একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অনুমোদন হয়নি। তবে আশা করা যায়, ২০ তারিখের পরপর তা শুরু হবে। তিনি বলেন, তাঁরা সব সময়ই পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এবারও তা–ই করা হবে।
তবে সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না বলে অধ্যাপক কামরুল হাসানের কথায় বোঝা গেল। তিনি বলেন, বুয়েটে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে লাভ আছে?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম ১৫ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন কার্যক্রম চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ভর্তির আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাবে। যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হবে, তবু আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণের সময় সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ফল বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হলে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘সম্পূরক পরীক্ষার বিষয়টি দুইভাবে বিবেচনা করা যায়। একদিকে যেসব শিক্ষার্থী আগামী মাসে সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেবেন, তারা পাস করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। সেদিক থেকে সময়সূচির সমন্বয় না করার বিষয়টি অবশ্যই একটি সীমাবদ্ধতা।’
অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ আরও বলেন, ‘অন্যদিকে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, এসব শিক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। সরকার হয়তো দেখেছে, এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করার পরিবর্তে দ্রুত আরেকটি সুযোগ দেওয়ার চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এটিকে পুরোপুরি ব্যর্থ উদ্যোগ বলার সুযোগ নেই। বরং প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে সময়সূচি নির্ধারণ করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।’









