শিরোনাম

পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার সরাসরি চলবে ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার সরাসরি চলবে ট্রেন
আধুনিক ইঞ্জিনযুক্ত ট্রেন

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা হিমালয়ঘেঁষা পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র শহর কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি চলবে ট্রেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের সবচেয়ে বেশি দূরত্বের এ পথে নতুন করে সরাসরি ২০টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ প্রায় আড়াইশ ট্রেন পরিচালনা করা যাবে।

রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়সহ পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ট্রেনে চড়ে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবে। সাড়ে ৪ বছরের মধ্যেই এ পথের ৫টি প্রকল্প সমাপ্ত করে ট্রেন চালানো হবে। এজন্য যথাযথ ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রায় আড়াইশ ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে।

রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এটি হবে রেল যোগাযোগের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক মেলবন্ধন। আমাদের লক্ষ্য– ট্রেনের গতি ও যাত্রীসেবাকে এমন এক স্তরে নিয়ে যাওয়া, যা আগে কেউ কল্পনাও করেনি।

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে পরিকল্পনা দপ্তর সূত্র জানায়, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০৭৭ কিলোমিটার রেলপথ ব্রডগেজ/ডুলেয়গেজ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের টঙ্গী থেকে আখাউড়া, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী এবং পশ্চিমাঞ্চলের শান্তাহার থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেলপথকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন করে ব্রডগেজ/ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণকাজ দ্রুততার সঙ্গে চলছে। এ পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

রেলওয়ে অপারেশন ও পরিবহণ দপ্তর সূত্র বলছে, পঞ্চগড়-কক্সবাজার রুট শুধু যাত্রীদের সেবাই বাড়াবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আনবে। চলমান আয়ের অর্ধেকের বেশি আয় হবে এ রুট চালুর মাধ্যমে।

মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫-২০ বছরের মধ্যে দেশে হয়তো মিটারগেজ ট্রেন চলাচলই বন্ধ হয়ে যাবে। সব রুটেই ব্রডগেজ ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। বিশ্বে মিটারগেজ কোচ, ইঞ্জিন ও রোলিং সামগ্রী নির্মাণ একেবারেই কমে আসছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণকাজ দ্রুততার সঙ্গে চলছে। ১২ হাজার কোটি টাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণকাজও এগিয়ে যাচ্ছে। ১৫ হাজার কোটি টাকা লাকসাম-চট্টগ্রাম, ১৪ হাজার কোটি টাকা আখাউড়া-টঙ্গী এবং ৭ হাজার কোটি টাকা শান্তাহার-বগুড়া রেলপথের উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল নেটওয়ার্ক নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৭ জুন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রেলওয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ রুট নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পর্যটন খাতে রাজস্ব আয় বাড়বে। তাছাড়া দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে উৎপাদিত লবণ ও শুঁটকি সরাসরি সারা দেশে সস্তায় ও দ্রুততম সময়ে পরিবহণ করা যাবে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকায় আমাদের ওপর দায়িত্বও অনেক। পঞ্চগড় থেকে ঢাকা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো রুটে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনার জন্য দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই ঐতিহাসিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দারুণ গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।

/এফসি/