শিরোনাম

রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিটিজেন ডেস্ক
রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
রামিসা আক্তারের বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেন তিনি। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামিসার মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাদের বাসায় যান তিনি।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাবাকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমি এতটুকু বলতে এখানে এসেছি। আল্লাহর রহমতে বিচার আপনারা দেখতে পারবেন। আসামিকে ইতোমধ্যে ধরা হয়েছে।

রামিসার বাবাকে সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও একজন কন্যা সন্তানের বাবা। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কন্যা সন্তানের বাবা। কন্যা সন্তানের কষ্টটা আমরা বুঝি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা আক্তার সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। ৮ বছর বয়সী রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এদিকে রামিসার হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে।

বুধবার (২০ মে) বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত সোহেল রানা রামিসাকে টয়লেটে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তার আগেই অভিযুক্ত সোহেল রানা মরদেহটি বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে। পরে টয়লেটের ভেতরে থাকা একটি বালতি থেকে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার অপর অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্র জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি দিয়েছে।

/জেএইচ/