‘টক্সিক রিলেশনশিপ’ চিনবেন কীভাবে?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
‘টক্সিক রিলেশনশিপ’ চিনবেন কীভাবে?
সম্পর্ক। ছবি: এআই জেনারেটেড (সিজেডএন টোয়েন্টিফোর সম্পাদিত)

ভালোবাসা, সম্মান আর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে গড়ে ওঠে একটি সুস্থ সম্পর্ক। কিন্তু অনেক সময়ই সম্পর্কের মোড়কে লুকিয়ে থাকে মানসিক যন্ত্রণা ও শোষণের নানা ফাঁদ। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একে বলা হয় ‘টক্সিক রিলেশনশিপ’ বা বিষাক্ত সম্পর্ক। এমন সম্পর্কের প্রভাব কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরই পড়ে না, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও অচল করে দেয়।

এমন পরিস্থিতি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে এবং সম্পর্কের সুস্থতা বজায় রাখতে কোনটি বিষাক্ত আর কোনটি সুস্থ সম্পর্ক, তা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা টক্সিক রিলেশনশিপের বেশ কিছু স্পষ্ট লক্ষণ তুলে ধরেছেন-

সবসময় নিজেকে দোষী মনে হওয়া (গ্যাসলাইটিং)

টক্সিক সম্পর্কের অন্যতম বড় লক্ষণ হলো সঙ্গীর ‘গ্যাসলাইটিং’ আচরণ। এতে আপনার ভুল না থাকা সত্ত্বেও কৌশলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যাতে আপনি নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করেন। নিজের মতামত প্রকাশ করলে বা মন খারাপের কথা বললে সঙ্গী তা অবহেলা করে উল্টো আপনাকেই দায়ী করে বসে।

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও সন্দেহ

আপনি কার সাথে কথা বলছেন, কোথায় যাচ্ছেন কিংবা কী পরছেন—সবকিছুতে সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে বিষাক্ত সঙ্গী। ভালোবাসার নামে সন্দেহ প্রকাশ করা, নিয়মিত ফোন বা মেসেজ চেক করা এবং বন্ধুদের থেকে আপনাকে আলাদা করে ফেলা এই আচরণের প্রধান লক্ষণ।

প্রতিনিয়ত অপমান ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া

সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান। কিন্তু বিষাক্ত সম্পর্কে সঙ্গী প্রায়ই খোঁচা মেরে কথা বলা, সবার সামনে হেয় করা কিংবা আপনার অর্জনকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন এমন আচরণ সহ্য করতে করতে ভুক্তভোগীর আত্মবিশ্বাস তলারানিতে গিয়ে ঠেকে।

সার্বক্ষণিক মানসিক উদ্বেগ

সম্পর্কে থাকলে যেখানে শান্ত ও নিরাপদ বোধ করার কথা, সেখানে বিষাক্ত সম্পর্কে সঙ্গী কখন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন—তা নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতে হয়। মনের কথা খোলামেলা বললে যদি অশান্তি শুরু হয় এবং সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিয়ে সবসময় অনিশ্চয়তা কাজ করে, তবে তা স্পষ্টত বিষাক্ততার লক্ষণ।

কেবল দেওয়া, কিন্তু কিছু না পাওয়া

সম্পর্ক সব সময়ই দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টা ও ছাড় দেওয়ার বিষয়। কিন্তু টক্সিক সম্পর্কে ত্যাগ ও চেষ্টা কেবল একপক্ষ থেকেই আসে। আপনার অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়া বা প্রয়োজনীয়তা সেখানে সবসময়ই উপেক্ষিত থাকে।

মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ

মনোবিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে কখনো কখনো দূরত্ব বা মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সম্পর্কটি আনন্দ ও শান্তির চেয়ে বেশি ভয়, অপরাধবোধ ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝতে হবে আপনি কোনো বিষাক্ত সম্পর্কে রয়েছেন।

এমন অবস্থায় প্রথম পদক্ষেপ হলো সঙ্গীর সাথে খোলামেলা ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা এবং নিজস্ব সীমানা নির্ধারণ করা। যদি বারবার চেষ্টা করেও সম্পর্কের রূপ পরিবর্তন না হয়, তবে নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার স্বার্থে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে পেশাদার মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

/এবি/

বিষয়:

সম্পর্ক