ইসরায়েলে রেকর্ড ভোট, নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা আরব ভোটারদের

ইসরায়েলে রেকর্ড ভোট, নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা আরব ভোটারদের
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ১৯৭৭ সালের পর দেশটিতে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ভোট পড়েনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। ভোটার উপস্থিতির এই রেকর্ড প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না-থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর একটা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। আল-জাজিরাকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের পর এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা ৪ নভেম্বর।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, লেবাননে হামলা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঘটনাও এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে। ফলে ভোটারদের কাছে শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্রদের মধ্যে রয়েছে ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার, বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম। বেন-গভির ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস। এই শিবির সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট প্রায় ৫০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। কোনো জোট এই সংখ্যা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন কিংবা অন্য পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক আমোৎস আসা-এল মনে করেন, দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনো একটি অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। তার ভাষায়, বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা কম।
নেতানিয়াহুর সামনে জবাবদিহির প্রশ্ন
বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েল সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে তার সরকারের নীতি নিয়ে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে।
নেতানিয়াহু অবশ্য মনে করেন, দেশের শত্রুদের মোকাবিলা করার মতো দৃঢ় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তারই রয়েছে। বিপরীতে বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও ওই দিন ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা দেখা গিয়েছিল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট নির্বাচনের দিন বলেন, ভোটের পর দেশে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, গত তিন বছরের ঘটনাপ্রবাহ এবং ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে জেরুজালেমে ভোট দেওয়ার পর নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, কেউ কেউ নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে।
ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ স্পষ্ট। রামাত গানের বাসিন্দা রুথ এপস্টেইন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসকে ভোট দেওয়ার পর বলেন, তার দেখা নির্বাচনগুলোর মধ্যে এবারেরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে জেরুজালেমের বাসিন্দা লুইস লিপস্কি নেতানিয়াহুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
আরব ভোটারদের দিকে নজর
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি রাজনীতিক আহমেদ তিবি রয়টার্সকে বলেছেন, আরব ভোটাররা নজিরবিহীন সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তারপরও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে আরব দলগুলো কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও সরকার গঠন নিয়ে দর-কষাকষি চলতে পারে। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ১৯৭৭ সালের পর দেশটিতে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ভোট পড়েনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। ভোটার উপস্থিতির এই রেকর্ড প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না-থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর একটা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। আল-জাজিরাকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের পর এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা ৪ নভেম্বর।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, লেবাননে হামলা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঘটনাও এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে। ফলে ভোটারদের কাছে শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্রদের মধ্যে রয়েছে ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার, বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম। বেন-গভির ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস। এই শিবির সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট প্রায় ৫০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। কোনো জোট এই সংখ্যা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন কিংবা অন্য পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক আমোৎস আসা-এল মনে করেন, দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনো একটি অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। তার ভাষায়, বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা কম।
নেতানিয়াহুর সামনে জবাবদিহির প্রশ্ন
বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েল সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে তার সরকারের নীতি নিয়ে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে।
নেতানিয়াহু অবশ্য মনে করেন, দেশের শত্রুদের মোকাবিলা করার মতো দৃঢ় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তারই রয়েছে। বিপরীতে বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও ওই দিন ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা দেখা গিয়েছিল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট নির্বাচনের দিন বলেন, ভোটের পর দেশে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, গত তিন বছরের ঘটনাপ্রবাহ এবং ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে জেরুজালেমে ভোট দেওয়ার পর নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, কেউ কেউ নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে।
ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ স্পষ্ট। রামাত গানের বাসিন্দা রুথ এপস্টেইন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসকে ভোট দেওয়ার পর বলেন, তার দেখা নির্বাচনগুলোর মধ্যে এবারেরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে জেরুজালেমের বাসিন্দা লুইস লিপস্কি নেতানিয়াহুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
আরব ভোটারদের দিকে নজর
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি রাজনীতিক আহমেদ তিবি রয়টার্সকে বলেছেন, আরব ভোটাররা নজিরবিহীন সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তারপরও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে আরব দলগুলো কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও সরকার গঠন নিয়ে দর-কষাকষি চলতে পারে। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।

ইসরায়েলে রেকর্ড ভোট, নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা আরব ভোটারদের
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ১৯৭৭ সালের পর দেশটিতে কোনো নির্বাচনে এত বেশি ভোট পড়েনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। ভোটার উপস্থিতির এই রেকর্ড প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না-থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর একটা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। আল-জাজিরাকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের পর এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা ৪ নভেম্বর।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, লেবাননে হামলা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঘটনাও এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে। ফলে ভোটারদের কাছে শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্রদের মধ্যে রয়েছে ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার, বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম। বেন-গভির ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস। এই শিবির সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট প্রায় ৫০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। কোনো জোট এই সংখ্যা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন কিংবা অন্য পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক আমোৎস আসা-এল মনে করেন, দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনো একটি অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। তার ভাষায়, বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা কম।
নেতানিয়াহুর সামনে জবাবদিহির প্রশ্ন
বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েল সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে তার সরকারের নীতি নিয়ে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে।
নেতানিয়াহু অবশ্য মনে করেন, দেশের শত্রুদের মোকাবিলা করার মতো দৃঢ় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তারই রয়েছে। বিপরীতে বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও ওই দিন ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা দেখা গিয়েছিল, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট নির্বাচনের দিন বলেন, ভোটের পর দেশে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, গত তিন বছরের ঘটনাপ্রবাহ এবং ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে জেরুজালেমে ভোট দেওয়ার পর নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, কেউ কেউ নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে।
ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ স্পষ্ট। রামাত গানের বাসিন্দা রুথ এপস্টেইন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসকে ভোট দেওয়ার পর বলেন, তার দেখা নির্বাচনগুলোর মধ্যে এবারেরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে জেরুজালেমের বাসিন্দা লুইস লিপস্কি নেতানিয়াহুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
আরব ভোটারদের দিকে নজর
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি রাজনীতিক আহমেদ তিবি রয়টার্সকে বলেছেন, আরব ভোটাররা নজিরবিহীন সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তারপরও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে আরব দলগুলো কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও সরকার গঠন নিয়ে দর-কষাকষি চলতে পারে। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন আজ, নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণও
ইসরায়েলের নির্বাচন ব্যাহতের চেষ্টা করতে পারে ইরান: নেতানিয়াহু







