মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে কৃষকের আঙুলে পচন, মামলা করতে বিএনপি নেতাদের বাধার অভিযোগ

মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে কৃষকের আঙুলে পচন, মামলা করতে বিএনপি নেতাদের বাধার অভিযোগ
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের পর ডান হাতের একটি আঙুলে পচন ধরেছে আশরাফ আলী (৪৫) নামের একজন কৃষকের। চিকিৎসকরা তার আঙুলটি কেটে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন করেছেন। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগী কৃষক আশরাফ আলীর বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে।
পরিবারের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের কীটনাশক বিক্রেতা আব্দুল জব্বারের দোকান থেকে কার্টাপ্রিড নামের একটি দানাদার কীটনাশক কেনেন আশরাফ। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য অনুযায়ী, কীটনাশকটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ বছর জমিতে স্বর্ণা ধানের আবাদ করেছেন কৃষক আশরাফ। মাজরা পোকা দমনের জন্য কেনা কীটনাশকটি পরদিন (১৬ অক্টোবর) জমিতে প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। প্যাকেট খুলে পানিতে মেশানোর সময় কীটনাশক তার হাতে আঠার মতো লেগে যায়। পরে সাবান দিয়ে কয়েকবার হাত ধুলেও চুলকানি ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে হাত ফুলে যায়।
ওইদিনই আশরাফকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় নয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অর্থসংকটে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকেরা তার একটি আঙুল কেটে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাড়ি ফেরার পর গ্রামবাসীর পরামর্শে অসুস্থ আশরাফ কীটনাশক বিক্রেতার দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানান। এ সময় আব্দুল জব্বার ভুক্তভোগী আশরাফের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। কিন্তু আশরাফের পরিবার বিষয়টি না মেনে জব্বারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু তার আগেই ডিলার আব্দুল জব্বার কৌশলে পালিয়ে যান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফকে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ওসিকে মামলা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেন।
আশরাফের স্ত্রী জনিফা খাতুন অভিযোগ করেন, থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল রানা দুলুসহ কয়েকজন তাদের শরৎনগর গরুর হাটের পাশে একটি কক্ষে আটকে রাখেন এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সার ডিলার শামসুল আলম তাদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
জনিফা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কীটনাশকের মেয়াদ শেষ হয়। আমার স্বামী নিরক্ষর বলে সেটা বুঝতে পারেনি। এটা ব্যবহার করে হাতের একটা আঙুল পচে গেছে। চিকিৎসকেরা আঙুল কেটে ফেলার কথা বললেও তার অনুরোধে আরও কিছুদিন চিকিৎসা চালিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, মামলা করতে যাওয়ার পথে বাধা দিছে। শামসুল নেতা বলছে সমাধান করে দেবে। মামলা করে কী হবে, কিছুই পাবে না। এসব বলছে। এখন দেখি কী করে।
মামলা করতে বাধা দেওয়া শামসুল আলম ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আর রাসেল রানা দুলু জিয়া সাইবার ফোর্স ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন শাখার বহিষ্কৃত সভাপতি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শামসুল আলম বলেন, আশরাফের পরিবারকে থানায় যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা দরিদ্র মানুষ, আমরা চেয়েছি আশরাফ যেন সঠিক চিকিৎসাটা পায়। তাই তাদের সাথে কথা বলেছি। সেই সাথে তাকে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যদি চায় অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলার ও বিক্রেতা আব্দুল জব্বার বলেন, আশরাফ আমার দোকানে সার-কীটনাশক নেন, এটা সঠিক। তবে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক তার কাছে গেছে, তা আমি জানি না। তারপরও যেহেতু একটা সমস্যা হয়ে গেছে, তাই আমার পক্ষ থেকে একজন তাকে দশ হাজার টাকা দিয়েছে। তবে, মামলা করতে বাধা দেওয়া বা কোনো নেতাকে এ বিষয়ে বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলারকে পাওয়া যায়নি। তাই ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীটনাশক ডিলারের বিষয়ে মামলা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থানায় আসেনি। এরপরেও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের পর ডান হাতের একটি আঙুলে পচন ধরেছে আশরাফ আলী (৪৫) নামের একজন কৃষকের। চিকিৎসকরা তার আঙুলটি কেটে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন করেছেন। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগী কৃষক আশরাফ আলীর বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে।
পরিবারের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের কীটনাশক বিক্রেতা আব্দুল জব্বারের দোকান থেকে কার্টাপ্রিড নামের একটি দানাদার কীটনাশক কেনেন আশরাফ। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য অনুযায়ী, কীটনাশকটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ বছর জমিতে স্বর্ণা ধানের আবাদ করেছেন কৃষক আশরাফ। মাজরা পোকা দমনের জন্য কেনা কীটনাশকটি পরদিন (১৬ অক্টোবর) জমিতে প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। প্যাকেট খুলে পানিতে মেশানোর সময় কীটনাশক তার হাতে আঠার মতো লেগে যায়। পরে সাবান দিয়ে কয়েকবার হাত ধুলেও চুলকানি ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে হাত ফুলে যায়।
ওইদিনই আশরাফকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় নয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অর্থসংকটে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকেরা তার একটি আঙুল কেটে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাড়ি ফেরার পর গ্রামবাসীর পরামর্শে অসুস্থ আশরাফ কীটনাশক বিক্রেতার দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানান। এ সময় আব্দুল জব্বার ভুক্তভোগী আশরাফের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। কিন্তু আশরাফের পরিবার বিষয়টি না মেনে জব্বারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু তার আগেই ডিলার আব্দুল জব্বার কৌশলে পালিয়ে যান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফকে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ওসিকে মামলা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেন।
আশরাফের স্ত্রী জনিফা খাতুন অভিযোগ করেন, থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল রানা দুলুসহ কয়েকজন তাদের শরৎনগর গরুর হাটের পাশে একটি কক্ষে আটকে রাখেন এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সার ডিলার শামসুল আলম তাদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
জনিফা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কীটনাশকের মেয়াদ শেষ হয়। আমার স্বামী নিরক্ষর বলে সেটা বুঝতে পারেনি। এটা ব্যবহার করে হাতের একটা আঙুল পচে গেছে। চিকিৎসকেরা আঙুল কেটে ফেলার কথা বললেও তার অনুরোধে আরও কিছুদিন চিকিৎসা চালিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, মামলা করতে যাওয়ার পথে বাধা দিছে। শামসুল নেতা বলছে সমাধান করে দেবে। মামলা করে কী হবে, কিছুই পাবে না। এসব বলছে। এখন দেখি কী করে।
মামলা করতে বাধা দেওয়া শামসুল আলম ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আর রাসেল রানা দুলু জিয়া সাইবার ফোর্স ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন শাখার বহিষ্কৃত সভাপতি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শামসুল আলম বলেন, আশরাফের পরিবারকে থানায় যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা দরিদ্র মানুষ, আমরা চেয়েছি আশরাফ যেন সঠিক চিকিৎসাটা পায়। তাই তাদের সাথে কথা বলেছি। সেই সাথে তাকে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যদি চায় অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলার ও বিক্রেতা আব্দুল জব্বার বলেন, আশরাফ আমার দোকানে সার-কীটনাশক নেন, এটা সঠিক। তবে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক তার কাছে গেছে, তা আমি জানি না। তারপরও যেহেতু একটা সমস্যা হয়ে গেছে, তাই আমার পক্ষ থেকে একজন তাকে দশ হাজার টাকা দিয়েছে। তবে, মামলা করতে বাধা দেওয়া বা কোনো নেতাকে এ বিষয়ে বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলারকে পাওয়া যায়নি। তাই ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীটনাশক ডিলারের বিষয়ে মামলা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থানায় আসেনি। এরপরেও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে কৃষকের আঙুলে পচন, মামলা করতে বিএনপি নেতাদের বাধার অভিযোগ
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের পর ডান হাতের একটি আঙুলে পচন ধরেছে আশরাফ আলী (৪৫) নামের একজন কৃষকের। চিকিৎসকরা তার আঙুলটি কেটে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন করেছেন। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগী কৃষক আশরাফ আলীর বাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে।
পরিবারের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের কীটনাশক বিক্রেতা আব্দুল জব্বারের দোকান থেকে কার্টাপ্রিড নামের একটি দানাদার কীটনাশক কেনেন আশরাফ। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য অনুযায়ী, কীটনাশকটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ বছর জমিতে স্বর্ণা ধানের আবাদ করেছেন কৃষক আশরাফ। মাজরা পোকা দমনের জন্য কেনা কীটনাশকটি পরদিন (১৬ অক্টোবর) জমিতে প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। প্যাকেট খুলে পানিতে মেশানোর সময় কীটনাশক তার হাতে আঠার মতো লেগে যায়। পরে সাবান দিয়ে কয়েকবার হাত ধুলেও চুলকানি ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে হাত ফুলে যায়।
ওইদিনই আশরাফকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় নয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অর্থসংকটে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকেরা তার একটি আঙুল কেটে ফেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাড়ি ফেরার পর গ্রামবাসীর পরামর্শে অসুস্থ আশরাফ কীটনাশক বিক্রেতার দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানান। এ সময় আব্দুল জব্বার ভুক্তভোগী আশরাফের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। কিন্তু আশরাফের পরিবার বিষয়টি না মেনে জব্বারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু তার আগেই ডিলার আব্দুল জব্বার কৌশলে পালিয়ে যান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফকে থানায় নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ওসিকে মামলা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেন।
আশরাফের স্ত্রী জনিফা খাতুন অভিযোগ করেন, থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল রানা দুলুসহ কয়েকজন তাদের শরৎনগর গরুর হাটের পাশে একটি কক্ষে আটকে রাখেন এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সার ডিলার শামসুল আলম তাদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
জনিফা খাতুন বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কীটনাশকের মেয়াদ শেষ হয়। আমার স্বামী নিরক্ষর বলে সেটা বুঝতে পারেনি। এটা ব্যবহার করে হাতের একটা আঙুল পচে গেছে। চিকিৎসকেরা আঙুল কেটে ফেলার কথা বললেও তার অনুরোধে আরও কিছুদিন চিকিৎসা চালিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, মামলা করতে যাওয়ার পথে বাধা দিছে। শামসুল নেতা বলছে সমাধান করে দেবে। মামলা করে কী হবে, কিছুই পাবে না। এসব বলছে। এখন দেখি কী করে।
মামলা করতে বাধা দেওয়া শামসুল আলম ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আর রাসেল রানা দুলু জিয়া সাইবার ফোর্স ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়ন শাখার বহিষ্কৃত সভাপতি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শামসুল আলম বলেন, আশরাফের পরিবারকে থানায় যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা দরিদ্র মানুষ, আমরা চেয়েছি আশরাফ যেন সঠিক চিকিৎসাটা পায়। তাই তাদের সাথে কথা বলেছি। সেই সাথে তাকে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যদি চায় অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলার ও বিক্রেতা আব্দুল জব্বার বলেন, আশরাফ আমার দোকানে সার-কীটনাশক নেন, এটা সঠিক। তবে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক তার কাছে গেছে, তা আমি জানি না। তারপরও যেহেতু একটা সমস্যা হয়ে গেছে, তাই আমার পক্ষ থেকে একজন তাকে দশ হাজার টাকা দিয়েছে। তবে, মামলা করতে বাধা দেওয়া বা কোনো নেতাকে এ বিষয়ে বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কীটনাশক ডিলারকে পাওয়া যায়নি। তাই ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীটনাশক ডিলারের বিষয়ে মামলা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা থানায় আসেনি। এরপরেও খোঁজখবর নেওয়া হবে।

মেয়েকে খুঁজতে মর্গে বাবা-মা, জানলেন দাফনের পর







