শিরোনাম

যৌথভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উৎপাদন করবে তুরস্ক-সৌদি

যৌথভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উৎপাদন করবে তুরস্ক-সৌদি
তুরস্কের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি ‘কান’ উৎপাদনে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।

মিসর ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমরা প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি সই করছি। এই সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আওতায় ‘কান’ বিনিয়োগ যেকোনো সময় বাস্তবায়িত হতে পারে।

তুরস্ক ২০১০ সাল থেকে পঞ্চম প্রজন্মের একটি যুদ্ধবিমান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। তবে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার পর এই প্রকল্পের গতি আরও বেড়ে যায়। ওই সময় তুরস্ক রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ প্রকল্পকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজছে আঙ্কারা। গত জুনে ইন্দোনেশিয়া ‘কান’ যুদ্ধবিমান কেনার জন্য তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া ৪৮টি যুদ্ধবিমান কিনবে, যার মোট মূল্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ১০ বছরের এই চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ায় ‘কান’ যুদ্ধবিমানের কিছু যন্ত্রাংশ যৌথভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কাতার ও আজারবাইজানসহ আরও কয়েকটি দেশ ‘কান’ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘কান’-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন হয়। এই উড়ানে অস্থায়ীভাবে দুটি জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০-জিই-১২৯ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, যা তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে ব্যবহার হয়। ‘কান’ প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা তুর্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই) এই বিমানটির জন্য নিজস্ব দেশীয় ইঞ্জিন তৈরির কাজ করছে।

গত বছর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ‘কান’-এর প্রথম ধাপে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এফ ১১০-জিই-১২৯ ইঞ্জিন সরবরাহে বাধা দিচ্ছিল। টিএআইয়ের লক্ষ্য ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ তুরস্কের বিমানবাহিনীর কাছে প্রথম ‘কান’ যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করা।

তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই সময়সীমা পিছিয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘কান’ ব্লক-১ সংস্করণের প্রথম ১০টি যুদ্ধবিমান ২০৩০ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে তুরস্কের বিমানবাহিনীর কাছে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

/জেএইচ/