পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রেখেছে সৌদি আরব: রিপোর্ট

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রেখেছে সৌদি আরব: রিপোর্ট
সৌদি আরবের পতাকা

সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি- যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই মার্কিন কংগ্রেসে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদির একটি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে এ তথ্যটি সামনে এলো।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়, তবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদিতে কোটি কোটি ডলারের পারমাণবিক প্রকল্প হাতে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও অনেক বেশি মজবুত হবে এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য রাশিয়া বা চীনের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না সৌদি আরবের।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কখনো কোনো দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

রিয়াদ এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন, দেশের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। চুক্তির প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরব ৫ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। পরবর্তীতে এটি বাড়িয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মাত্রা সরাসরি অস্ত্র তৈরির মতো না হলেও, এর মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা বানানোর পথ ও সময় অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

মার্কিন কংগ্রেসে চুক্তিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা চুক্তিটি দ্রুত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদির কাছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নমনীয়তা দেখাচ্ছে। বর্তমানে চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

এ জটিলতার পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে ট্রাম্পের একটি শর্ত। তিনি জানিয়েছেন , ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেই কেবল এ পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে। কিন্তু রিয়াদও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। তারা স্পষ্ট করেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি না হলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

সূত্র: গালফ নিউজ

/এমএকে/