শিরোনাম
সরাসরি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান পাকিস্তানের

২০: ২৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান পাকিস্তানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান পাকিস্তানের
২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকেই চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি এ. বেকারের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইসহাক দার বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, উভয় দেশ সংযম প্রদর্শন করবে এবং সংলাপের পথেই সংকট নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

২০: ১১

নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল সাজাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো

নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল সাজাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো
উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নীরবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের কৌশলগত চিত্র পাল্টে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ হুমকির মোকাবিলায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

এশিয়া গ্রুপের জিসিসি বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হেলাল বলেন, ‘এখন এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তার মতে, চলমান উত্তেজনা এসব দেশকে প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

হেলাল উল্লেখ করেন, অতীতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা কাতার এবার সেই ভূমিকায় ছিল না। কারণ দেশটি নিজেই হামলার শিকার হয়েছে এবং চাইছিল বাইরের শক্তিগুলো সরাসরি হস্তক্ষেপ করুক।

একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই থেমে নেই। হেলাল ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের একটি পূর্বাভাস দিচ্ছে।

বিশেষ করে ভলোদিমির জেলেনস্কির কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এসব সফরে ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন চুক্তি করেছে।

তার মতে, এখন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের জন্য এই অঞ্চল অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় দেশগুলো আর একক উৎসের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী অংশীদার খুঁজছে।

হেলাল আরও বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে এসে এখন উপসাগরীয় দেশগুলো দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্যান্য দেশের প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন থাকা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের তুলনায় অনেক কম খরচে কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চল এখন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক শক্তির ওপর নির্ভর করতে আগ্রহী নয়। বরং তারা প্রযুক্তিগত বৈচিত্র্য, নতুন অংশীদারিত্ব এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে, যা আগামী কয়েক দশকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

১৮: ৪৮

৫০ দিন পর ইরানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু

৫০ দিন পর ইরানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু
ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের কারণে প্রায় ৫০ দিন বন্ধ থাকা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরান এয়ারের বরাতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রথম ধাপে তেহরান থেকে মাশহাদ রুটে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হবে। একই দিনে এই রুটে ফিরতি ফ্লাইটও পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, ধাপে ধাপে অন্যান্য অভ্যন্তরীণ রুটেও ফ্লাইট চালু করা হবে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা জরুরি প্রয়োজনে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করতে চান তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।

সূত্র: আল জাজিরা