মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নীরবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের কৌশলগত চিত্র পাল্টে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ হুমকির মোকাবিলায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
এশিয়া গ্রুপের জিসিসি বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হেলাল বলেন, ‘এখন এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তার মতে, চলমান উত্তেজনা এসব দেশকে প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
হেলাল উল্লেখ করেন, অতীতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা কাতার এবার সেই ভূমিকায় ছিল না। কারণ দেশটি নিজেই হামলার শিকার হয়েছে এবং চাইছিল বাইরের শক্তিগুলো সরাসরি হস্তক্ষেপ করুক।
একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই থেমে নেই। হেলাল ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের একটি পূর্বাভাস দিচ্ছে।
বিশেষ করে ভলোদিমির জেলেনস্কির কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এসব সফরে ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন চুক্তি করেছে।
তার মতে, এখন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের জন্য এই অঞ্চল অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়ে উঠছে। উপসাগরীয় দেশগুলো আর একক উৎসের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী অংশীদার খুঁজছে।
হেলাল আরও বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে এসে এখন উপসাগরীয় দেশগুলো দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্যান্য দেশের প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন থাকা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের তুলনায় অনেক কম খরচে কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চল এখন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক শক্তির ওপর নির্ভর করতে আগ্রহী নয়। বরং তারা প্রযুক্তিগত বৈচিত্র্য, নতুন অংশীদারিত্ব এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে, যা আগামী কয়েক দশকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।