ইরানের প্রস্তাব নাকচ করে কি নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

ইরানের প্রস্তাব নাকচ করে কি নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়ার চেয়ে অপেক্ষা করলে ওয়াশিংটন অনেক বেশি লাভবান হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। ইরান একটি চুক্তি চায়, কারণ তারা খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, এবং আমি মনে করি সেটা ঠিক আছে। আমিও একটি চুক্তি করতে চাই। কিন্তু সেই চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হবে না।’
এর প্রেক্ষিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত পায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ওয়াশিংটনকে ইরানি বন্দরগুলোর নৌ অবরোধ ও তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখলেও কে প্রথম ছাড় দেবে তা নিয়ে এখনো বিশাল মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ট্রাম্প কেন আরও অপেক্ষা করতে চান
ট্রাম্পের হিসাব বেশ সহজ। তিনি মনে করেন, নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রভাবে ইরান এতটাই চাপের মুখে পড়েছে যে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের গ্রহণ করার মতো কোনো প্রস্তাব নয়, বরং তা দুর্বলতারই প্রমাণ।
ইরান ‘মারাত্মকভাবে হারছে’- এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প আসলে এটাই বোঝাতে চাইছেন যে সময় আমেরিকার দরকষাকষির অবস্থানকে দিন দিন আরও পোক্ত করছে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে এবং তেল রাজস্বের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের ব্যবসার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ঘোষণা করেন। এ অভিযানে বিশ্বজুড়ে তেহরানের আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েট ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজ মনে করেন, হোয়াইট হাউস হিসাব কষছে তারা কিছুদিন অপেক্ষা করে আরও ভালো শর্ত আদায় করতে পারবে। তিনি আরও যোগ করেন, বলা যায়, প্রায় এক দশক আগে এটাই ঘটেছিল, যার ফলস্বরূপ ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তিটি হয়, কারণ ইরান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ফলে, আগামী মাসগুলোতে আমরা একই ধরনের আপস-মীমাংসা দেখতে পারি।

ট্রাম্পকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে
তবে ট্রাম্পের এ অপেক্ষার নীতি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। সামনেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন, আর রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটি বড় পরীক্ষা। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে, আর পক্ষে মাত্র ৩১ শতাংশ। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও জীবনযাত্রার খরচ ভোটারদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ঝুঁকিটা হলো সময় দুই দিকেই কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এমন কোনো বার্তা দিতে চান না যেখানে মনে হয় কেবল হরমুজ পুনরায় খোলার জন্য তিনি অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিটি বাড়তি সপ্তাহ মানেই জ্বালানির চড়া দাম, চলমান সামরিক খরচ এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ।
দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, ভোটের আগে তেলের দাম কমাতে প্রস্তাবটিকে ট্রাম্পের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই অর্থনৈতিক চাপের শিকার, কারণ জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের অবস্থা ভালো নয়।

অপেক্ষার ফল বিপরীত হতে পারে
ক্রিগ বলেন, ট্রাম্প চান তেহরান যেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, কিন্তু এর জন্য ইরান বর্তমানে যে পূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দাবি করছে, তা ওয়াশিংটনকে পরিশোধ করতে হবে না। তার মতে, বিপদটা হলো, ট্রাম্প ইরানের যন্ত্রণাকে তাদের আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। এই দুটো এক জিনিস নয়।
অতিরিক্ত চাপ মানেই অতিরিক্ত ছাড় নয়। ইরান উল্টো সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে হরমুজ ছাড়াও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে হুথিদের মাধ্যমে চাপ বাড়াতে পারে। হুথিরা ইতোমধ্যে সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং এটি হিতে বিপরীত হতে পারে বল মনে করেন ক্রিগ।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নেগার মোর্তাজাভি মনে করেন, তেহরান একাধারে কূটনীতি ও অবাধ্যতার মিশ্রণ ঘটাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রত্যাখান ইরানকে আরও কঠোর হতে বাধ্য করবে, কারণ তেহরান অর্থনৈতিক কষ্ট সহ্য করলেও তাদের মৌলিক ও তাদের লক্ষ্য থেকে সরবে না।

সময় নিয়ে বাজি ধরছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্লেষক হ্যারিসন বলেছেন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের কারণে তেহরান সম্ভবত একদমই অবাক হয়নি এবং প্রস্তাবটিকে তারা আংশিকভাবে ইরানি ও মার্কিন জনগণকে এটা দেখানোর একটি উপায় হিসেবে দেখেছিল যে, তারা (ইরান) আলোচনা করতে এখনও ইচ্ছুক।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তেহরান বোঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমনভাবে বেরিয়ে যেতে চান, যেটিকে তিনি বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
ক্রিগ বলেন, ইরান সময়ের ওপর বড় বাজি ধরছে। তাদের কৌশল হলো চাপ এতটাই বাড়িয়ে রাখা যাতে তিনি শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ফিরে আসেন, এবং একই সঙ্গে সেই প্রস্থানের পথকে ক্রমান্বয়ে আরও ব্যয়বহুল করে তোলা।
তিনি আর বলেন, ইরানের হিসাব হলো ট্রাম্পকে সস্তায় চুক্তিটি না দেওয়া, কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর তার এটির আরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
হ্যারিসন বলেছেন, ইরানের প্রস্তাবটি ছিল একটি সদিচ্ছার নিদর্শন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ মহল এবং মার্কিন জনগণ উভয়ের কাছে আলোচনার জন্য ইরানের সদিচ্ছা প্রদর্শন করা।
উভয় পক্ষেরই একটি চুক্তি প্রয়োজন, কিন্তু উভয় পক্ষই মনে করছে যে অপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত যে চুক্তিটি হবে তার শর্ত আরও ভালো হবে বলে উল্লেখ করেন হ্যারিসন।
সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়ার চেয়ে অপেক্ষা করলে ওয়াশিংটন অনেক বেশি লাভবান হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। ইরান একটি চুক্তি চায়, কারণ তারা খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, এবং আমি মনে করি সেটা ঠিক আছে। আমিও একটি চুক্তি করতে চাই। কিন্তু সেই চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হবে না।’
এর প্রেক্ষিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত পায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ওয়াশিংটনকে ইরানি বন্দরগুলোর নৌ অবরোধ ও তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখলেও কে প্রথম ছাড় দেবে তা নিয়ে এখনো বিশাল মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ট্রাম্প কেন আরও অপেক্ষা করতে চান
ট্রাম্পের হিসাব বেশ সহজ। তিনি মনে করেন, নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রভাবে ইরান এতটাই চাপের মুখে পড়েছে যে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের গ্রহণ করার মতো কোনো প্রস্তাব নয়, বরং তা দুর্বলতারই প্রমাণ।
ইরান ‘মারাত্মকভাবে হারছে’- এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প আসলে এটাই বোঝাতে চাইছেন যে সময় আমেরিকার দরকষাকষির অবস্থানকে দিন দিন আরও পোক্ত করছে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে এবং তেল রাজস্বের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের ব্যবসার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ঘোষণা করেন। এ অভিযানে বিশ্বজুড়ে তেহরানের আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েট ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজ মনে করেন, হোয়াইট হাউস হিসাব কষছে তারা কিছুদিন অপেক্ষা করে আরও ভালো শর্ত আদায় করতে পারবে। তিনি আরও যোগ করেন, বলা যায়, প্রায় এক দশক আগে এটাই ঘটেছিল, যার ফলস্বরূপ ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তিটি হয়, কারণ ইরান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ফলে, আগামী মাসগুলোতে আমরা একই ধরনের আপস-মীমাংসা দেখতে পারি।

ট্রাম্পকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে
তবে ট্রাম্পের এ অপেক্ষার নীতি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। সামনেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন, আর রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটি বড় পরীক্ষা। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে, আর পক্ষে মাত্র ৩১ শতাংশ। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও জীবনযাত্রার খরচ ভোটারদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ঝুঁকিটা হলো সময় দুই দিকেই কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এমন কোনো বার্তা দিতে চান না যেখানে মনে হয় কেবল হরমুজ পুনরায় খোলার জন্য তিনি অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিটি বাড়তি সপ্তাহ মানেই জ্বালানির চড়া দাম, চলমান সামরিক খরচ এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ।
দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, ভোটের আগে তেলের দাম কমাতে প্রস্তাবটিকে ট্রাম্পের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই অর্থনৈতিক চাপের শিকার, কারণ জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের অবস্থা ভালো নয়।

অপেক্ষার ফল বিপরীত হতে পারে
ক্রিগ বলেন, ট্রাম্প চান তেহরান যেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, কিন্তু এর জন্য ইরান বর্তমানে যে পূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দাবি করছে, তা ওয়াশিংটনকে পরিশোধ করতে হবে না। তার মতে, বিপদটা হলো, ট্রাম্প ইরানের যন্ত্রণাকে তাদের আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। এই দুটো এক জিনিস নয়।
অতিরিক্ত চাপ মানেই অতিরিক্ত ছাড় নয়। ইরান উল্টো সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে হরমুজ ছাড়াও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে হুথিদের মাধ্যমে চাপ বাড়াতে পারে। হুথিরা ইতোমধ্যে সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং এটি হিতে বিপরীত হতে পারে বল মনে করেন ক্রিগ।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নেগার মোর্তাজাভি মনে করেন, তেহরান একাধারে কূটনীতি ও অবাধ্যতার মিশ্রণ ঘটাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রত্যাখান ইরানকে আরও কঠোর হতে বাধ্য করবে, কারণ তেহরান অর্থনৈতিক কষ্ট সহ্য করলেও তাদের মৌলিক ও তাদের লক্ষ্য থেকে সরবে না।

সময় নিয়ে বাজি ধরছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্লেষক হ্যারিসন বলেছেন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের কারণে তেহরান সম্ভবত একদমই অবাক হয়নি এবং প্রস্তাবটিকে তারা আংশিকভাবে ইরানি ও মার্কিন জনগণকে এটা দেখানোর একটি উপায় হিসেবে দেখেছিল যে, তারা (ইরান) আলোচনা করতে এখনও ইচ্ছুক।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তেহরান বোঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমনভাবে বেরিয়ে যেতে চান, যেটিকে তিনি বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
ক্রিগ বলেন, ইরান সময়ের ওপর বড় বাজি ধরছে। তাদের কৌশল হলো চাপ এতটাই বাড়িয়ে রাখা যাতে তিনি শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ফিরে আসেন, এবং একই সঙ্গে সেই প্রস্থানের পথকে ক্রমান্বয়ে আরও ব্যয়বহুল করে তোলা।
তিনি আর বলেন, ইরানের হিসাব হলো ট্রাম্পকে সস্তায় চুক্তিটি না দেওয়া, কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর তার এটির আরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
হ্যারিসন বলেছেন, ইরানের প্রস্তাবটি ছিল একটি সদিচ্ছার নিদর্শন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ মহল এবং মার্কিন জনগণ উভয়ের কাছে আলোচনার জন্য ইরানের সদিচ্ছা প্রদর্শন করা।
উভয় পক্ষেরই একটি চুক্তি প্রয়োজন, কিন্তু উভয় পক্ষই মনে করছে যে অপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত যে চুক্তিটি হবে তার শর্ত আরও ভালো হবে বলে উল্লেখ করেন হ্যারিসন।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের প্রস্তাব নাকচ করে কি নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়ার চেয়ে অপেক্ষা করলে ওয়াশিংটন অনেক বেশি লাভবান হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। ইরান একটি চুক্তি চায়, কারণ তারা খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, এবং আমি মনে করি সেটা ঠিক আছে। আমিও একটি চুক্তি করতে চাই। কিন্তু সেই চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হবে না।’
এর প্রেক্ষিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত পায়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ওয়াশিংটনকে ইরানি বন্দরগুলোর নৌ অবরোধ ও তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখলেও কে প্রথম ছাড় দেবে তা নিয়ে এখনো বিশাল মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ট্রাম্প কেন আরও অপেক্ষা করতে চান
ট্রাম্পের হিসাব বেশ সহজ। তিনি মনে করেন, নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধের প্রভাবে ইরান এতটাই চাপের মুখে পড়েছে যে, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের গ্রহণ করার মতো কোনো প্রস্তাব নয়, বরং তা দুর্বলতারই প্রমাণ।
ইরান ‘মারাত্মকভাবে হারছে’- এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প আসলে এটাই বোঝাতে চাইছেন যে সময় আমেরিকার দরকষাকষির অবস্থানকে দিন দিন আরও পোক্ত করছে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে এবং তেল রাজস্বের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের ব্যবসার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ঘোষণা করেন। এ অভিযানে বিশ্বজুড়ে তেহরানের আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
ন্যাটো ডিফেন্স কলেজের সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েট ফেলো রিচার্ড ওয়েইটজ মনে করেন, হোয়াইট হাউস হিসাব কষছে তারা কিছুদিন অপেক্ষা করে আরও ভালো শর্ত আদায় করতে পারবে। তিনি আরও যোগ করেন, বলা যায়, প্রায় এক দশক আগে এটাই ঘটেছিল, যার ফলস্বরূপ ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তিটি হয়, কারণ ইরান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ফলে, আগামী মাসগুলোতে আমরা একই ধরনের আপস-মীমাংসা দেখতে পারি।

ট্রাম্পকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে
তবে ট্রাম্পের এ অপেক্ষার নীতি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। সামনেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন, আর রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটি বড় পরীক্ষা। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে, আর পক্ষে মাত্র ৩১ শতাংশ। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও জীবনযাত্রার খরচ ভোটারদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ঝুঁকিটা হলো সময় দুই দিকেই কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এমন কোনো বার্তা দিতে চান না যেখানে মনে হয় কেবল হরমুজ পুনরায় খোলার জন্য তিনি অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিটি বাড়তি সপ্তাহ মানেই জ্বালানির চড়া দাম, চলমান সামরিক খরচ এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ।
দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, ভোটের আগে তেলের দাম কমাতে প্রস্তাবটিকে ট্রাম্পের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই অর্থনৈতিক চাপের শিকার, কারণ জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের অবস্থা ভালো নয়।

অপেক্ষার ফল বিপরীত হতে পারে
ক্রিগ বলেন, ট্রাম্প চান তেহরান যেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, কিন্তু এর জন্য ইরান বর্তমানে যে পূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দাবি করছে, তা ওয়াশিংটনকে পরিশোধ করতে হবে না। তার মতে, বিপদটা হলো, ট্রাম্প ইরানের যন্ত্রণাকে তাদের আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। এই দুটো এক জিনিস নয়।
অতিরিক্ত চাপ মানেই অতিরিক্ত ছাড় নয়। ইরান উল্টো সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে হরমুজ ছাড়াও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে হুথিদের মাধ্যমে চাপ বাড়াতে পারে। হুথিরা ইতোমধ্যে সৌদি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং এটি হিতে বিপরীত হতে পারে বল মনে করেন ক্রিগ।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নেগার মোর্তাজাভি মনে করেন, তেহরান একাধারে কূটনীতি ও অবাধ্যতার মিশ্রণ ঘটাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রত্যাখান ইরানকে আরও কঠোর হতে বাধ্য করবে, কারণ তেহরান অর্থনৈতিক কষ্ট সহ্য করলেও তাদের মৌলিক ও তাদের লক্ষ্য থেকে সরবে না।

সময় নিয়ে বাজি ধরছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্লেষক হ্যারিসন বলেছেন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের কারণে তেহরান সম্ভবত একদমই অবাক হয়নি এবং প্রস্তাবটিকে তারা আংশিকভাবে ইরানি ও মার্কিন জনগণকে এটা দেখানোর একটি উপায় হিসেবে দেখেছিল যে, তারা (ইরান) আলোচনা করতে এখনও ইচ্ছুক।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তেহরান বোঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমনভাবে বেরিয়ে যেতে চান, যেটিকে তিনি বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
ক্রিগ বলেন, ইরান সময়ের ওপর বড় বাজি ধরছে। তাদের কৌশল হলো চাপ এতটাই বাড়িয়ে রাখা যাতে তিনি শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ফিরে আসেন, এবং একই সঙ্গে সেই প্রস্থানের পথকে ক্রমান্বয়ে আরও ব্যয়বহুল করে তোলা।
তিনি আর বলেন, ইরানের হিসাব হলো ট্রাম্পকে সস্তায় চুক্তিটি না দেওয়া, কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর তার এটির আরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
হ্যারিসন বলেছেন, ইরানের প্রস্তাবটি ছিল একটি সদিচ্ছার নিদর্শন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ মহল এবং মার্কিন জনগণ উভয়ের কাছে আলোচনার জন্য ইরানের সদিচ্ছা প্রদর্শন করা।
উভয় পক্ষেরই একটি চুক্তি প্রয়োজন, কিন্তু উভয় পক্ষই মনে করছে যে অপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত যে চুক্তিটি হবে তার শর্ত আরও ভালো হবে বলে উল্লেখ করেন হ্যারিসন।
সূত্র: আল জাজিরা









