দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে হেবরনের কাছে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালের এ ঘটনার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

ঘটনার পরপরই নেতানিয়াহু জানান, তিনি হামলাকারীদের অভিযুক্ত এলাকা লক্ষ্য করে সেনাবাহিনীকে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ পদক্ষেপের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ এবং তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত আছে। এছাড়া হেবরন ও নিকটবর্তী হালহুল শহর ঘিরে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির পাশাপাশি পশ্চিম তীর পুরো বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে উত্তর পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে যে কঠোর মডেল ব্যবহার করেছিলাম, তা আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, সেই অভিযানে ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন এবং তাদেরকে এখনও ফিরতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত শিবিরগুলোর ভেতরে এখনও ইসরায়েলি সৈন্যরা অবস্থান করছেন।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, হেবরনের যে এলাকা থেকে সন্ত্রাসীরা এসেছে, আমরা ঠিক এখানেই তা বাস্তবায়ন করবো। তিনি জানান, পুরো পশ্চিম তীর জুড়ে আরও বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা চলছে এবং এটি হবে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের নজিরবিহীন হামলা এবং পরবর্তী আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর তার নেতৃত্বে এটিই প্রথম গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী জোট বা বিরোধী জোট- কারোর জন্যই সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথ সহজ নয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারী একটি এম১৬ অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি হ্যান্ডগান নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আসা দৃশ্য ও বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে একনাগাড়ে গোলাগুলি চলে। ইসরায়েলি সামরিক প্রধান ইয়াল জামির দাবি করেন, বন্দুকধারীদের ব্যবহৃত গাড়িটি থেকে প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

পশ্চিম তীরে নতুন করে সেনাবাহিনী নামানোর বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, হামলাকারীদের পুরো গোষ্ঠীটিকে তাদের ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত করা হবে এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, জিহাদি সন্ত্রাসবাদ শুধু এ একটি ভাষাই বোঝে।

এদিকে হামাস এ ঘটনাকে বীরত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে অভিহিত করে এর প্রশংসা করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে পশ্চিম তীর জুড়ে প্রতিরোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিবৃতিতে তারা সরাসরি এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে, কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। ভূখণ্ডের মহাসড়কগুলোতে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারের চেয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ বাসিন্দাদের চলাচলের স্বাধীনতা কম গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, বিরোধীদলের নেতারা একযোগে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহত সৈন্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট অবশ্য নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাকে রাজনীতিতে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তবে তিনিও বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তারা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

/এমএকে/