শিরোনাম

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা রেভোল্যুশনারি গার্ডের

সিটিজেন ডেস্ক
খামেনি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা রেভোল্যুশনারি গার্ডের
ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডের সাথে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: দ্য ইরান প্রাইমার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

রবিবার (১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করার পর আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার এই শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে যে তরর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন, তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্র নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে সেদিন রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

রবিবার বাংলাদেশ সময় সকালে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে খামেনির মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করে ইরান সরকার।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সামরিক, বিচার ও গোয়েন্দা বিভাগসহ রাষ্ট্রের প্রায় সবক্ষেত্রেই তার প্রভাব ছিল গভীর। মূলত তার নির্দেশনাতেই পরিচালিত হতো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ।

১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী দল ও কমিউনিস্টদের সমন্বয়ে সংঘটিত হয় ইসলামি বিপ্লব। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন।

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন।

/এসএ/