শিরোনাম

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদের আকস্মিক পদত্যাগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদের আকস্মিক পদত্যাগ
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালা। ছবি: এনডিটিভি

ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়ে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালা। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। দেশের অন্যতম প্রধান শাসকদলের শক্ত যুক্তি তুলে ধরা এ চেনা মুখের হঠাৎ রাজনৈতিক মঞ্চ ছাড়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

পদত্যাগের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রোফাইল থেকে জাতীয় মুখপাত্র পরিচয়টি সরিয়ে নেন শেহজাদ। তবে একই সঙ্গে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজীবন অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করে নিজের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে টিভি টকশোতে বিজেপির হয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখা যেত তাকে। আক্রমণাত্মক ও ধারালো বক্তব্যের কারণে তিনি দ্রুতই দল ও সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

পেশায় আইনজীবী শেহজাদের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মাধ্যমেই। তবে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনকে পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে প্রকাশ্যে সরব হন তিনি। দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস ছেড়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে এসে অল্প সময়েই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পান এবং বিরোধী দলগুলোর কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন।

শেহজাদের এ সিদ্ধান্তের পেছনে তার পারিবারিক ও সাম্প্রতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যকেও সামনে আনছেন অনেকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালার ছোট ভাই শেহজাদের পারিবারিক সম্পর্কেও রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট ছিল। দুই ভাইয়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে টিভিতে প্রকাশ্য তর্ক-বিতর্ক প্রায়ই নজর কাড়ত সংবাদমাধ্যমে।

বর্তমানে বিজেপি যখন নানা ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করছে, ঠিক সেই সময়ে শীর্ষ মুখপাত্রের বিদায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো শেহজাদের পদত্যাগের বিষয়ে ‘ব্যক্তিগত কারণ’-এর বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কিছু জানানো হয়নি। ফলে তিনি ভবিষ্যতে আবারও সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন, নাকি ভিন্ন কোনো পেশায় মন দেবেন- তা জানতে মুখিয়ে আছে দেশটির রাজনৈতিক মহল।

সূত্র: এনডিটিভি