২ অক্টোবর থেকে ভারতজুড়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক সিজেপির

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
২ অক্টোবর থেকে ভারতজুড়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক সিজেপির
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ও অভিজিৎ দীপকে (ইনসেটে)। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ভারতের নির্বাচন কমিশনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে চরম আলটিমেটাম দিয়েছে তরুণদের প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, শনিবারের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনে নামবে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। এরপর শুক্রবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি লিখেছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার যদি শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তাহলে সিজেপি ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করবে এবং তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

মূলত সম্প্রতি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে এ তীব্র রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর বেশিরভাগই গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধন বা হালনাগাদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

এ তথ্য ফাঁসের পরই বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং কমিশন পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর দাবি, নরেন্দ্র মোদির সরকারকে সুবিধা দিতেই ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর বিপরীতে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তারা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও তার নেওয়া সব সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

তবে বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কমিশনের ভেতরে এমন ভিন্নমত থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যেকোনও প্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ভিন্ন মত ও পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারই অংশ।’ সেই সঙ্গে তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবেই পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে কমিশন।

এদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশন কিংবা কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে নেই। তারা গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে। বিজেপির মতে, নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের হতাশা থেকেই বিরোধী দলগুলো এখন কমিশনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচারে নেমেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশের তরুণদের নিয়ে রাজপথে নেমে হঠাৎ করেই আলোচনায় আসে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সে সময় প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের জেরে তাদের তুমুল আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী। এটি ২০১৪ সালের পর নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের জন্য অন্যতম বড় একটা রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল।

এখন ঠিক একইভাবে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে ককরোচ জনতা পার্টি দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করবে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না।’

সবমিলিয়ে ভোটার তালিকা বিতর্ক আর সিজেপির নতুন এ আলটিমেটামে ভারতের রাজনৈতিক ময়দান এখন চরম উত্তেজনার মুখে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/