কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, অমিতাভ-দিলজিতকেও হুমকি

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, অমিতাভ-দিলজিতকেও হুমকি
অমিতাভ বচ্চন (বাঁয়ে) ও দিলজিৎ দোসাঞ্জ (ডানে)

কলকাতা থেকে মুম্বাই- ভারতের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক বোমা হামলার হুমকিতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাদ যাননি বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ও জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জও। এমনকি কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মহিলাদের শৌচালয়ে টিস্যু পেপারে লিখে রাখা বার্তা ঘিরে তৈরি হয় বোমাতঙ্ক।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে। ‘বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন’ বা বিএমসির মেয়র ঋতু তাওয়াদের দপ্তরে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ইমেইল বার্তা আসে। ইমেইলে দাবি করা হয়, অমিতাভ বচ্চন, দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং শহরের বেশ কয়েকটি স্কুলে হামলা চালানো হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ (কেএনএ) নামের একটি সংগঠন এ বার্তা পাঠিয়ে হামলার দায় স্বীকার করার দাবি করেছে।

খবর পেয়েই বিএমসি দপ্তরে দ্রুত তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের জোন ১-এর ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) মণীশ কালওয়ানিয়া জানান, ‘বিএমসি দপ্তরে একটি হুমকি-বার্তা সম্বলিত ইমেইল এসেছিল। তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।’ পুলিশের ধারণা, গত কয়েক মাস ধরে যারা বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল, এ কেএনএ হয়তো সে একই চক্র।

ইমেইলে ৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে মুম্বাইয়ের মেয়র দপ্তর, একাধিক স্কুল এবং অমিতাভ বচ্চনের বিখ্যাত বাংলো ‘জলসা’-কে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ২৭ নভেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের ‘ইন্ডিয়া ট্যুর’ কনসার্ট হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ সেখানে এ কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে ৩০ অক্টোবর রাজধানীতেও দিলজিতের শো বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘বুক মাই শো’-কে চিঠি দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়নি।

এদিকে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ছড়িয়েছে বোমা আতঙ্ক। টার্মিনালের ভেতরে নারীদের শৌচালয়ে টিস্যু পেপারে লেখা একটি চিরকুট দেখতে পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল, বিমানবন্দরে বোমা রাখা আছে এবং তা উড়িয়ে দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানদের খবর দেন। দ্রুত পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হলেও বিস্ফোরক জাতীয় কিছু মেলেনি। তবে চিরকুটটি উদ্ধারের পর বিমানবন্দরজুড়ে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র: টেলিগ্রাফ

/এমএকে/