যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ইউরোপে ৩ দিনের জরুরি সামগ্রী মজুতের আহ্বান, নেপথ্যে কী

যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ইউরোপে ৩ দিনের জরুরি সামগ্রী মজুতের আহ্বান, নেপথ্যে কী
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

যুদ্ধ, সাইবার হামলা বা হঠাৎ করে নেমে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ- যেকোনো মুহূর্তে থমকে যেতে পারে দৈনন্দিন জীবন। এমন সংকটময় মুহূর্তে টিকে থাকার জন্য সাধারণ পরিবারগুলোকে অন্তত ৭২ ঘণ্টার বা তিন দিনের জরুরি রসদ ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ গোটা ইউরোপের সরকারগুলো। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ প্রস্তুতির মানে এই নয় যে আগামীকালই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। মূলত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নাগরিকরা যেন প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিতে পারেন, সেই জন্যই এ উদ্যোগ।

যুক্তরাজ্যে ‘বি রেডি’ প্রচারণা
নাগরিকদের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকার নতুন করে চালু করেছে ‘বি রেডি’ (Be Ready) নামক এক বিশেষ প্রচারাভিযান। ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে পরিবারগুলোকে বলা হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা পরিষেবা ব্যাহত হলে অন্তত তিন দিন যাতে তারা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চলতে পারেন। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া জরুরি তালিকার মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পানীয় জল, পচনশীল নয় এমন খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ফার্স্ট এইড কিট, কিছু নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাংক এবং একটি ম্যানুয়াল রেডিও। সরকারের মতে, বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো সঙ্গে সঙ্গে সবার বাড়ি পৌঁছে যেতে নাও পারে। তাই প্রতিটি পরিবারের অন্তত প্রাথমিক সক্ষমতা থাকা জরুরি। ব্রিটেনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে রাশিয়ার আগ্রাসন, নাশকতামূলক সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পেন্টাগন, জাপান ও ইউরোপজুড়ে প্রস্তুতি জোরদার
মার্কিন সাময়িকী 'ফরচুন'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘ফোরট্রেস’ (FORTRESS) নামের একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই টানা ৯০ দিন সচল রাখা সম্ভব হবে। এর ভিত্তি শক্তিশালী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও বিপুল জ্বালানি মজুত।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের দেশ জাপানে এ প্রস্তুতি তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারই অংশ হিসেবে মনে করছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গোশি হোসোনো জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর তাদের নতুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা চালু হওয়ার পরই নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ জরুরি আহ্বান জানানো হবে। এতে পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিন এবং সম্ভব হলে পুরো এক সপ্তাহের রসদ ঘরে প্রস্তুত রাখতে বলা হবে। পিছিয়ে নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত ‘প্রস্তুতিমূলক ইউনিয়ন কৌশল’ অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় ইইউ নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বাধীনভাবে চলার সক্ষমতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর থেকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে প্রস্তুতি সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। লা মন্ড- এর তথ্যমতে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত, সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিনল্যান্ড একধাপ এগিয়ে তাদের শস্য মজুত ৯ মাসের চাহিদার সমপরিমাণে উন্নীত করেছে। সুইডেন ঐতিহাসিক ‘সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা নীতি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং পোল্যান্ড ২০২৫ সালে পাস করেছে একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা আইন। এসব দেশ শুধু সরাসরি সামরিক হামলার ভয় করছে না। বরং বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন বা যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ডিজিটাল হামলা চালিয়ে কোনো দেশে সেনা না পাঠিয়েও পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার আশঙ্কা করছে।

৭২ ঘণ্টার রসদ মজুতের তাগিদ কেন
যেকোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা, তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর প্রশাসনিক সাহায্য বা উদ্ধার দল পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। প্রথম কয়েক ঘণ্টা হাসপাতাল সচল রাখা বা বড় উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই প্রথম ৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা নাগরিকদের নিজেদের সংস্থানে চলাটা বাস্তবসম্মত। এটি খুব বেশি ব্যয়বহুল নয় এবং সাধারণ মানুষের ঘরের কোণে গুছিয়ে রাখাও সহজ। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, একটি গুলি না ফুটেও ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ঘাত ঘটিয়ে কোনো দেশের দৈনন্দিন জীবন অচল করে দেওয়া সম্ভব, আর তা সামলাতেই এ প্রস্তুতি।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ইঙ্গিত নেই। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির মূল কারণ আলাদা। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য তাদের সামরিক ঘাঁটির স্থায়িত্ব বাড়ানো, জাপানের মূল ভাবনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তের দেশগুলো সতর্ক রয়েছে রাশিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে। কাজেই এ প্রস্তুতি কোনো সমন্বিত যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়। সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা হল- ঘরে কয়েক দিনের জল, শুকনো খাবার আর দরকারি ওষুধ হাতের কাছে রাখুন, জরুরি সংকেতের নিয়মগুলো জেনে নিন এবং স্থানীয় প্রশাসন বিপদে কী করতে বলছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।
সূত্র:ওয়িওন

যুদ্ধ, সাইবার হামলা বা হঠাৎ করে নেমে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ- যেকোনো মুহূর্তে থমকে যেতে পারে দৈনন্দিন জীবন। এমন সংকটময় মুহূর্তে টিকে থাকার জন্য সাধারণ পরিবারগুলোকে অন্তত ৭২ ঘণ্টার বা তিন দিনের জরুরি রসদ ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ গোটা ইউরোপের সরকারগুলো। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ প্রস্তুতির মানে এই নয় যে আগামীকালই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। মূলত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নাগরিকরা যেন প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিতে পারেন, সেই জন্যই এ উদ্যোগ।

যুক্তরাজ্যে ‘বি রেডি’ প্রচারণা
নাগরিকদের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকার নতুন করে চালু করেছে ‘বি রেডি’ (Be Ready) নামক এক বিশেষ প্রচারাভিযান। ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে পরিবারগুলোকে বলা হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা পরিষেবা ব্যাহত হলে অন্তত তিন দিন যাতে তারা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চলতে পারেন। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া জরুরি তালিকার মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পানীয় জল, পচনশীল নয় এমন খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ফার্স্ট এইড কিট, কিছু নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাংক এবং একটি ম্যানুয়াল রেডিও। সরকারের মতে, বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো সঙ্গে সঙ্গে সবার বাড়ি পৌঁছে যেতে নাও পারে। তাই প্রতিটি পরিবারের অন্তত প্রাথমিক সক্ষমতা থাকা জরুরি। ব্রিটেনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে রাশিয়ার আগ্রাসন, নাশকতামূলক সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পেন্টাগন, জাপান ও ইউরোপজুড়ে প্রস্তুতি জোরদার
মার্কিন সাময়িকী 'ফরচুন'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘ফোরট্রেস’ (FORTRESS) নামের একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই টানা ৯০ দিন সচল রাখা সম্ভব হবে। এর ভিত্তি শক্তিশালী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও বিপুল জ্বালানি মজুত।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের দেশ জাপানে এ প্রস্তুতি তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারই অংশ হিসেবে মনে করছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গোশি হোসোনো জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর তাদের নতুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা চালু হওয়ার পরই নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ জরুরি আহ্বান জানানো হবে। এতে পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিন এবং সম্ভব হলে পুরো এক সপ্তাহের রসদ ঘরে প্রস্তুত রাখতে বলা হবে। পিছিয়ে নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত ‘প্রস্তুতিমূলক ইউনিয়ন কৌশল’ অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় ইইউ নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বাধীনভাবে চলার সক্ষমতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর থেকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে প্রস্তুতি সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। লা মন্ড- এর তথ্যমতে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত, সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিনল্যান্ড একধাপ এগিয়ে তাদের শস্য মজুত ৯ মাসের চাহিদার সমপরিমাণে উন্নীত করেছে। সুইডেন ঐতিহাসিক ‘সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা নীতি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং পোল্যান্ড ২০২৫ সালে পাস করেছে একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা আইন। এসব দেশ শুধু সরাসরি সামরিক হামলার ভয় করছে না। বরং বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন বা যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ডিজিটাল হামলা চালিয়ে কোনো দেশে সেনা না পাঠিয়েও পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার আশঙ্কা করছে।

৭২ ঘণ্টার রসদ মজুতের তাগিদ কেন
যেকোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা, তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর প্রশাসনিক সাহায্য বা উদ্ধার দল পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। প্রথম কয়েক ঘণ্টা হাসপাতাল সচল রাখা বা বড় উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই প্রথম ৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা নাগরিকদের নিজেদের সংস্থানে চলাটা বাস্তবসম্মত। এটি খুব বেশি ব্যয়বহুল নয় এবং সাধারণ মানুষের ঘরের কোণে গুছিয়ে রাখাও সহজ। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, একটি গুলি না ফুটেও ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ঘাত ঘটিয়ে কোনো দেশের দৈনন্দিন জীবন অচল করে দেওয়া সম্ভব, আর তা সামলাতেই এ প্রস্তুতি।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ইঙ্গিত নেই। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির মূল কারণ আলাদা। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য তাদের সামরিক ঘাঁটির স্থায়িত্ব বাড়ানো, জাপানের মূল ভাবনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তের দেশগুলো সতর্ক রয়েছে রাশিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে। কাজেই এ প্রস্তুতি কোনো সমন্বিত যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়। সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা হল- ঘরে কয়েক দিনের জল, শুকনো খাবার আর দরকারি ওষুধ হাতের কাছে রাখুন, জরুরি সংকেতের নিয়মগুলো জেনে নিন এবং স্থানীয় প্রশাসন বিপদে কী করতে বলছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।
সূত্র:ওয়িওন

যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ইউরোপে ৩ দিনের জরুরি সামগ্রী মজুতের আহ্বান, নেপথ্যে কী
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

যুদ্ধ, সাইবার হামলা বা হঠাৎ করে নেমে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ- যেকোনো মুহূর্তে থমকে যেতে পারে দৈনন্দিন জীবন। এমন সংকটময় মুহূর্তে টিকে থাকার জন্য সাধারণ পরিবারগুলোকে অন্তত ৭২ ঘণ্টার বা তিন দিনের জরুরি রসদ ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ গোটা ইউরোপের সরকারগুলো। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ প্রস্তুতির মানে এই নয় যে আগামীকালই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। মূলত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নাগরিকরা যেন প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিতে পারেন, সেই জন্যই এ উদ্যোগ।

যুক্তরাজ্যে ‘বি রেডি’ প্রচারণা
নাগরিকদের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকার নতুন করে চালু করেছে ‘বি রেডি’ (Be Ready) নামক এক বিশেষ প্রচারাভিযান। ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগে পরিবারগুলোকে বলা হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা পরিষেবা ব্যাহত হলে অন্তত তিন দিন যাতে তারা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চলতে পারেন। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া জরুরি তালিকার মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পানীয় জল, পচনশীল নয় এমন খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ফার্স্ট এইড কিট, কিছু নগদ টাকা, পাওয়ার ব্যাংক এবং একটি ম্যানুয়াল রেডিও। সরকারের মতে, বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো সঙ্গে সঙ্গে সবার বাড়ি পৌঁছে যেতে নাও পারে। তাই প্রতিটি পরিবারের অন্তত প্রাথমিক সক্ষমতা থাকা জরুরি। ব্রিটেনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে রাশিয়ার আগ্রাসন, নাশকতামূলক সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পেন্টাগন, জাপান ও ইউরোপজুড়ে প্রস্তুতি জোরদার
মার্কিন সাময়িকী 'ফরচুন'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘ফোরট্রেস’ (FORTRESS) নামের একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই টানা ৯০ দিন সচল রাখা সম্ভব হবে। এর ভিত্তি শক্তিশালী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও বিপুল জ্বালানি মজুত।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের দেশ জাপানে এ প্রস্তুতি তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারই অংশ হিসেবে মনে করছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গোশি হোসোনো জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর তাদের নতুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা চালু হওয়ার পরই নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ জরুরি আহ্বান জানানো হবে। এতে পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিন এবং সম্ভব হলে পুরো এক সপ্তাহের রসদ ঘরে প্রস্তুত রাখতে বলা হবে। পিছিয়ে নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ২০২৫ সালের মার্চে গৃহীত ‘প্রস্তুতিমূলক ইউনিয়ন কৌশল’ অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় ইইউ নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বাধীনভাবে চলার সক্ষমতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর থেকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে প্রস্তুতি সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। লা মন্ড- এর তথ্যমতে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত, সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিনল্যান্ড একধাপ এগিয়ে তাদের শস্য মজুত ৯ মাসের চাহিদার সমপরিমাণে উন্নীত করেছে। সুইডেন ঐতিহাসিক ‘সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা নীতি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং পোল্যান্ড ২০২৫ সালে পাস করেছে একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা আইন। এসব দেশ শুধু সরাসরি সামরিক হামলার ভয় করছে না। বরং বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন বা যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ডিজিটাল হামলা চালিয়ে কোনো দেশে সেনা না পাঠিয়েও পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার আশঙ্কা করছে।

৭২ ঘণ্টার রসদ মজুতের তাগিদ কেন
যেকোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা, তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর প্রশাসনিক সাহায্য বা উদ্ধার দল পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। প্রথম কয়েক ঘণ্টা হাসপাতাল সচল রাখা বা বড় উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই প্রথম ৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা নাগরিকদের নিজেদের সংস্থানে চলাটা বাস্তবসম্মত। এটি খুব বেশি ব্যয়বহুল নয় এবং সাধারণ মানুষের ঘরের কোণে গুছিয়ে রাখাও সহজ। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, একটি গুলি না ফুটেও ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ঘাত ঘটিয়ে কোনো দেশের দৈনন্দিন জীবন অচল করে দেওয়া সম্ভব, আর তা সামলাতেই এ প্রস্তুতি।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ইঙ্গিত নেই। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির মূল কারণ আলাদা। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য তাদের সামরিক ঘাঁটির স্থায়িত্ব বাড়ানো, জাপানের মূল ভাবনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তের দেশগুলো সতর্ক রয়েছে রাশিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে। কাজেই এ প্রস্তুতি কোনো সমন্বিত যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়। সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা হল- ঘরে কয়েক দিনের জল, শুকনো খাবার আর দরকারি ওষুধ হাতের কাছে রাখুন, জরুরি সংকেতের নিয়মগুলো জেনে নিন এবং স্থানীয় প্রশাসন বিপদে কী করতে বলছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।
সূত্র:ওয়িওন









