শিরোনাম

পূর্ব উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পূর্ব উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার
আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া

কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে নিজেদের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমার দিকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এই উৎক্ষেপণের খবর নিশ্চিত করার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ওই অঞ্চলে যৌথ নজরদারি বাড়িয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের ভূখণ্ড বা সামুদ্রিক সীমান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

চলতি বছর একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে পিয়ংইয়ং স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, তারা সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে পিছু হটবে না। মূলত ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত সম্প্রসারণে মনোযোগ দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ংকে একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন তার মূল কৌশল।

শুধু স্থলভাগের ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নৌ সক্ষমতা বাড়াতেও বেশ জোর দিচ্ছেন কিম জং উন। গত মাসেই পাঁচ হাজার টন ওজনের একটি নতুন ডেস্ট্রয়ারে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। পিয়ংইয়ংয়ের মূল লক্ষ্য পানির নিচ থেকে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি আয়ত্ত করা, যা বাস্তবায়িত হলে তাদের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত ও সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করতে অস্ত্র ও সেনা পাঠানোর বিষয়টি সামনে আসার পর পুরো পূর্ব এশিয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। উত্তর কোরিয়ার এমন ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক আধুনিকায়ন পুরো কোরীয় উপদ্বীপ সহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে।

সূত্র: ফ্রান্স২৪

/এমএকে/