এবার আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

এবার আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
সিজেডএন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষিত এ পদক্ষেপের ফলে আদালতটির কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব বাধার মধ্যেও আদালতের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতটি আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য কাজ করে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ কী
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আইসিসিকে দেওয়া হবে না। আদালতটির সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা এবং এর সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের আগের তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। আইসিসি অবশ্য জানিয়েছে, ওই তদন্তকে বর্তমানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটির কয়েকজন বিচারক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবার আদালতকে সরাসরি লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ায় এর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও চাপে পড়তে পারে।
কিছু লেনদেনে ছাড়
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। এর আওতায় আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত বা বন্ধ করতে পারে। এতে ব্যাংকিং, বিমা ও সফটওয়্যার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসি আগেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। আদালতের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের পরিবর্তে উন্মুক্ত উৎসের সফটওয়্যার ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় ‘ব্লকিং মেকানিজম’ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে।
মিত্রদেরও চাপ দেওয়ার আহ্বান
মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসির কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও আইসিসির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন উদ্বেগের সমাধান সম্ভব হলে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিশ্বের ১২৫টি দেশ আইসিসির সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কসহ ন্যাটোর কয়েকটি দেশ এর সদস্য নয়।
নাভি পিল্লাইকে ঘিরে আলোচনা
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ও আন্তর্জাতিক আইনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে সেগুলোর স্বাধীনতা এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘটনাও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষিত এ পদক্ষেপের ফলে আদালতটির কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব বাধার মধ্যেও আদালতের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতটি আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য কাজ করে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ কী
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আইসিসিকে দেওয়া হবে না। আদালতটির সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা এবং এর সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের আগের তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। আইসিসি অবশ্য জানিয়েছে, ওই তদন্তকে বর্তমানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটির কয়েকজন বিচারক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবার আদালতকে সরাসরি লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ায় এর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও চাপে পড়তে পারে।
কিছু লেনদেনে ছাড়
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। এর আওতায় আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত বা বন্ধ করতে পারে। এতে ব্যাংকিং, বিমা ও সফটওয়্যার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসি আগেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। আদালতের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের পরিবর্তে উন্মুক্ত উৎসের সফটওয়্যার ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় ‘ব্লকিং মেকানিজম’ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে।
মিত্রদেরও চাপ দেওয়ার আহ্বান
মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসির কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও আইসিসির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন উদ্বেগের সমাধান সম্ভব হলে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিশ্বের ১২৫টি দেশ আইসিসির সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কসহ ন্যাটোর কয়েকটি দেশ এর সদস্য নয়।
নাভি পিল্লাইকে ঘিরে আলোচনা
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ও আন্তর্জাতিক আইনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে সেগুলোর স্বাধীনতা এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘটনাও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

এবার আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
সিজেডএন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষিত এ পদক্ষেপের ফলে আদালতটির কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব বাধার মধ্যেও আদালতের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতটি আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য কাজ করে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ কী
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আইসিসিকে দেওয়া হবে না। আদালতটির সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা এবং এর সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের আগের তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। আইসিসি অবশ্য জানিয়েছে, ওই তদন্তকে বর্তমানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটির কয়েকজন বিচারক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবার আদালতকে সরাসরি লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ায় এর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও চাপে পড়তে পারে।
কিছু লেনদেনে ছাড়
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। এর আওতায় আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সীমিত বা বন্ধ করতে পারে। এতে ব্যাংকিং, বিমা ও সফটওয়্যার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসি আগেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। আদালতের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের পরিবর্তে উন্মুক্ত উৎসের সফটওয়্যার ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় ‘ব্লকিং মেকানিজম’ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে।
মিত্রদেরও চাপ দেওয়ার আহ্বান
মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসির কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও আইসিসির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন উদ্বেগের সমাধান সম্ভব হলে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিশ্বের ১২৫টি দেশ আইসিসির সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কসহ ন্যাটোর কয়েকটি দেশ এর সদস্য নয়।
নাভি পিল্লাইকে ঘিরে আলোচনা
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ও আন্তর্জাতিক আইনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে সেগুলোর স্বাধীনতা এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঘটনাও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স









