যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা জিনপিংয়ের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা জিনপিংয়ের
শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমাতে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতা শি জিনপিং এ ঘোষণা দেন।

সিনহুয়া সূত্রে জানা গেছে, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে দুই দেশই এখন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বৈঠকে শি জিনপিং উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করার পাশাপাশি বিরোধের জায়গাগুলো কমিয়ে আনা দরকার বলে মত দেন তিনি। দুই পক্ষেরই উচিত একে অপরের স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক ছাড় দেওয়া। এটি দীর্ঘমেয়াদে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় টিকিয়ে রাখবে। যদিও শি জিনপিং এ নতুন সমঝোতার বিস্তারিত কোনো রূপরেখা প্রকাশ করেননি।

এদিকে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং তথাকথিত ‘বুসান চুক্তি’র মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। এ সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১০ নভেম্বর, যা বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী এবং চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের মধ্যে হওয়া এক বৈঠকের পরই এ সিদ্ধান্ত আসে। বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা যেটিকে বুসান চুক্তি বলি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমানোর এ সমঝোতার মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন তা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে।’

তবে এ মেয়াদ বাড়লেও বেইজিংয়ের প্রতি কিছু শর্ত ও সংশয় রয়ে গেছে। স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগের চুক্তির আওতায় চীন এখনও তাদের সব প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি এবং কিছু ক্ষেত্রে তা প্রত্যাশামতো হয়নি। বর্ধিত সময়ের মধ্যে বেইজিং তাদের প্রতিশ্রতির শর্তগুলো কার্যকরভাবে পালন করে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চীনা প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের নতুন কিছু বিষয়ে প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসেন্ট। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে দুই দেশের মধ্যকার সাময়িক অর্থনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়া আরও জোরালো হবে। সামগ্রিকভাবে, এ বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে নতুন বছর পর্যন্ত বড় কোনো বাণিজ্য সংঘাতে জড়ানো থেকে কিছুটা দূরে থাকছে বিশ্বের এই দুই বৃহৎ অর্থনীতি।

সূর্ত্র: সামা টিভি

/এমএকে/