ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি

ইসরায়েলে ১০ সামরিক কার্গো বিমান পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ইসরায়েলে ১০ সামরিক কার্গো বিমান পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ অঞ্চলের বিমান ঘাঁটিগুলোতে ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান (KAN) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানগুলো ইসরায়েলের ওভদা ও নেভাতিম বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এর পাশাপাশি জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়েছে। KAN-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানগুলো টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিস থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিমানগুলোতে কী ধরনের সামরিক সামগ্রী ছিল কিংবা ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তাও এখনো স্পষ্ট নয়।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুটি দেশ তাদের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে এবং যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি স্বল্পমেয়াদী ও সীমিত সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠিয়েছে।

সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা বিভিন্ন ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে এবং নভেম্বরের মধ্যে একটি অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী ও মেরিন কোরের একটি ইউনিট এ অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ অতিরিক্ত বাহিনী বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা প্রায় ২০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহরে যোগ দেবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প বা অপশন নিয়ে ট্রাম্পকে বিস্তারিত ব্রিফ করেছেন। এ ব্রিফিং ইঙ্গিত দেয় ওয়াশিংটন হয়তো বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের দিকে এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরানও আঞ্চলিক মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা শুরু করে। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর জুনে দুই দেশ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দ্বিমতের কারণে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

/এমএকে/