শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে পেন্টাগন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে পেন্টাগন
ড্রোন দিয়ে তোলা পেন্টাগনের ছবি

চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে হঠাৎ কোনো সামরিক সংঘাত বাঁধলে আমেরিকা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে নিজেদের পারমাণবিক কৌশলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পেন্টাগনের এই নতুন পরিকল্পনার কথা।

এতদিন মার্কিন সামরিক নীতিতে মূলত দূরপাল্লার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করা হলেও, নতুন কৌশল অনুযায়ী এবার স্বল্প-পাল্লার ‘কৌশলগত’ পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য চীন বা রাশিয়ার আক্রমণের শিকার হতে যাওয়া মিত্রদেশগুলোকে সুরক্ষার প্রস্তুতি রাখা এবং সংঘাতের মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেবল ‘হ্যাঁ বা না’ গোছের চরম কোনো সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর না করিয়ে আরও নমনীয় ও বিশ্বাসযোগ্য সামরিক বিকল্পের সুযোগ দেওয়া।

পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এ পর্যালোচনাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন পারমাণবিক বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড পরিদর্শনের সময় নেব্রাস্কায় এক সামরিক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে তার আলোচনা করার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই নীতি নির্ধারকদের একাংশ যুক্তি দিয়ে আসছেন, শহর বা প্রতিপক্ষের পুরো পারমাণবিক অস্ত্রাগার ধূলিসাৎ করে দেওয়ার মতো দূরপাল্লার বোমার ভয় দেখিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আটকানো কঠিন। প্রতিপক্ষ জানে, ছোটখাটো যুদ্ধক্ষেত্রে পুরো বিশ্বকে ধ্বংসের ঝুঁকিতে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত কোনো প্রেসিডেন্ট সহজে নেবেন না। কিন্তু রণক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ছোট ও স্বল্প-পাল্লার কৌশলগত অস্ত্র হাতে থাকলে প্রতিপক্ষের কাছে আমেরিকার হুংকার অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর মনে হবে।

তবে পেন্টাগনের এই নতুন চিন্তা সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহারের উপযোগী এসব ছোট অস্ত্রের ওপর জোর দিলে প্রচলিত যুদ্ধের সময়েও পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। এমনকি মার্কিন ক্যাপিটাল হিলেও এই প্রস্তাব সমালোচনার মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুনরায় শক্তিশালী করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান পেন্টাগনের গবেষণার সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন পারমাণবিক বোমা ফেলার পর আর কখনো এ মারণাস্ত্রের প্রয়োগ দেখেনি পৃথিবী। সেই ঘটনার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটেছিল। ফলে দীর্ঘ আট দশক পর আমেরিকার পারমাণবিক নীতিতে সামান্যতম পরিবর্তন বা নতুন কৌশলের ইঙ্গিতও বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/