শুকনো কাশি উপশমের ঘরোয়া উপায়

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
শুকনো কাশি উপশমের ঘরোয়া উপায়
ছবি: এআই

রৌদ্রের তীব্রতা কমে হালকা শীত শীত ভাব শুরু হয়েছে। অনেকের শীতকালে বেশি কাশি হয়ে থাকে। কারও শুষ্ক কাশি, আবার কারও ভেজা। যদিও কাশি শরীরের শ্বাসনালী পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু এটি ক্রমাগত হতে থাকলে ক্লান্ত, বিরক্তিকর ও অস্বস্তি বৃদ্ধি করে। এটি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে। এটি অ্যালার্জি, সংক্রমণ বা জ্বালাপোড়ার কারণে হোক না কেন, মূল অসুস্থতা থেকে সম্পূর্ণরূপে সেরে ওঠার পরেও প্রায়শই শুষ্ক কাশি স্থায়ী হয়। তবে গলায় জ্বালাপোড়া এবং কাশি কমানোর জন্য বেশ কিছু পরীক্ষিত, প্রাকৃতিক পদ্ধতি রয়েছে।

শুষ্ক কাশি কী?

শুকনো কাশি হলো এমন এক ধরনের কাশি, যাতে শ্লেষ্মা (কফ) তৈরি হয় না। এটি সাধারণত গলা বা উপরের শ্বাসনালীর অস্বস্তি বা প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। কফযুক্ত বা ভেজা কাশির বিপরীতে, শুকনো কাশি বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে।

শুষ্ক কাশির সাধারণ লক্ষণ

কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে আপনি মনে করবেন শুষ্ক কাশি হয়েছে।

  1. শ্লেষ্মা ছাড়াই অবিরাম কাশি
  2. গলায় চুলকানি বা চুলকানির অনুভূতি
  3. বুকে টানটান ভাব বা অস্বস্তি
  4. ঘন ঘন কাশির কারণে ঘুমের সমস্যা
  5. রাতে বা ভোরে কাশি আরও খারাপ হয়
  6. কর্কশ কণ্ঠস্বর বা গলা জ্বালা
  7. কথা বলার সময় বা হাসার সময় হঠাৎ কাশি হওয়া
  8. ক্রমাগত কাশির কারণে ক্লান্ত বা ক্লান্ত বোধ করা

শুকনো কাশি জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার

কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে শুষ্ক কাশি উপশম করতে পারেন। এগুলো গলাকে আর্দ্র করতে, প্রদাহ কমাতে এবং জ্বালা প্রশমিত করতে সাহায্য করে, একই সাথে আপনার শরীরের নিরাময়ের সুযোগ থাকে।

মধু ও গরম পানি পান করুন

মধুকে বলা হয় প্রকৃতির সবচেয়ে আশ্চর্যজনক প্রতিশেধক। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এক গ্লাস গরম পানিতে বা ভেষজ চায়ে ১-২ চা চামচ মধু যোগ করুন এবং দিনে ১-২ বার পান করুন। তবে ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু না দেওয়া ভালো। মধুর লেপ গলায় দিলেও কাশির উপশহ হয়।

আদা চা পান

তাজা আদাতে জিঞ্জেরল থাকে। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রদাহ-বিরোধী। একটি পাত্রে নির্দিশ পরিমাণ পানিতে তাজা আদা রেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এর সঙ্গে মধু অথবা লেবু মিশিয়ে পান করুন। আরম পাবেন। যদি আপনার গলা ব্যথা হয় তবে দিনে দুই থেকে তিনবার আদা চা পান করুন।

হলুদের দুধ

হলুদ শরীরের ব্যাকটেরিয়া, ফোলাভাব এবং অসুস্থতার বিরুদ্ধে কাজ করে। ঘুমানোর আগে ১-২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো নিয়ে এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এটি আপনাকে রাতে কাশি বন্ধ করতে সাহায্য করতে পারে।

গরম পানির বাষ্পে শ্বাস নেওয়া

এই পদ্ধতি শ্বাসনালীকে শান্ত করতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গরম জলে কিছু ইউক্যালিপটাস বা পুদিনা তেল মিশিয়ে নিন। এরপর তোয়ালে বা অন্য কিছু দিয়ে মাথা ঢেকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে শ্বাস নিন। এটি দিনে এক বা দুইবার করতে পারেন।

লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা

পানি গরম করে তাতে লবণ দিয়ে গার্গল করুন। এতে গলার ব্যথা এবং ফোলাভাব কমতে পারে। এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে গার্গল করুন। দিনে দুই থেকে তিনবার এমনটি করবেন।

লিকোরিস রুট চা

লিকোরিস রুট একটি প্রাকৃতিক ডিমালসেন্ট। এটি গলার জন্য প্রশান্তিদায়ক প্রভাব প্রদান করে। শুকনো লিকোরিস রুট ১ কাপ ফুটন্ত জলে ৫ থেকে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা গর্ভবতী হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পুদিনা চা বা স্টিম

পুদিনার মধ্যে থাকা মেন্থল গলা ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। কাশি বন্ধ করতে, পুদিনার চা পান করুন অথবা এর বাতাসে শ্বাস নিন।

ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন

ধোঁয়া, তীব্র সুগন্ধি, রাসায়নিক ধোঁয়া, অথবা ধুলোময় পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন। সুস্থ্য মানুষও এমন পরিবেশে গেলে অসুস্থ বোধ করেন। সেখানে কাশির সমস্যা নিয়ে গেলে এর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। আর যদি অ্যালার্জি থাকে বা দূষণের প্রতি সংবেদনশীল হন, তাহলে মাস্ক পরিধান করুন।

বাদাম পেস্ট

৫-৬টি বাদাম সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। এর খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর পেস্ট তৈরি করুন। এক চামচ চিনি বা মাখনের সঙ্গে পেস্টটি মিশিয়ে প্রতিদিন খান। বাদাম গলার আস্তরণকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়েছে, তার পরও কাশি যাচ্ছে না। এর সঙ্গে শ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হয়, তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

/জেএইচ/