শিরোনাম

মানুষের ভালোবাসায় এখনো টিকে আছে মৃৎশিল্প

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
মানুষের ভালোবাসায় এখনো টিকে আছে মৃৎশিল্প
মাটির তৈরি জিনিসপত্রে রং-তুলির আঁচড় দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। ছবি: সংবাদদাতা

বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ ঘিরে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পালপাড়ায় মৃৎশিল্পের কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চৈত্রের শেষ সময়ে মাটির তৈরি খেলনায় রং-তুলির আঁচড় দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে বংশগত ঐতিহ্য বা জীবিকার তাগিদে এখনো অনেকে মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

নিকলী উপজেলার পালপাড়ার মৃৎশিল্পী সাধন চন্দ্র পাল জানান, গভীর ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন এই পেশা। চৈত্র মাসের এই সময়ে অর্ডারের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। প্লাস্টিক আর স্টিলের ভিড়ে- এই মাটির পণ্য এখনো টিকে আছে শুধু মানুষের ভালোবাসার কারণে।

মৃৎশিল্প (3)

জীবন পাল বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের কারণে মাটির জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। আগে যেখানে ১০টি পণ্য বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হয় মাত্র ২টি। সরকারি সহায়তা তেমন ভাবে না থাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

দুলাল চন্দ্র পাল জানান, দীর্ঘদিনের এই পেশা ছেড়ে যেতে পারছি না, আবার চালিয়ে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

সরস্বতী রানী বলেন, প্লাস্টিকের আধিপত্যে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প বিলুপ্তির পথে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

মৃৎশিল্প (1)

রতন পাল বলেন, একসময় বৈশাখী মেলায় ব্যাপক বিক্রি হলেও এখন তা কমে গেছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকায় পরিবার চালানো কঠিন।

ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রতিষ্ঠাতা রেজাউল হাবিব রেজা বলেন, সভ্যতার সূচনাপর্বে মানুষ মৃৎশিল্পের ধারাবাহিক উৎকর্ষের পরিচয় দিয়েছে। এই শিল্প যেমন মানুষের প্রয়োজন মিটিয়েছে, তেমনি নান্দনিকতার ছাপ রেখেছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।

মৃৎশিল্প (4)

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি জানান, মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২ জন কারিগরকে ৬ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবেশবান্ধব ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো জরুরি। নইলে হারিয়ে যেতে পারে হাজার বছরের মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য।

/এসআর/