শেরাটন, ওয়েস্টিন, হিলটন ও জব্বার টাওয়ারের তথ্য চেয়েছে পূর্ত মন্ত্রণালয়

শেরাটন, ওয়েস্টিন, হিলটন ও জব্বার টাওয়ারের তথ্য চেয়েছে পূর্ত মন্ত্রণালয়
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর তিনটি অভিজাত হোটেল ও একটি টাওয়ারের নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ভবনগুলোর নকশা অনুমোদন, নির্মাণ ত্রুটি ও নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে বনানীর হোটেল শেরাটন, গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা ও হোটেল হিলটন এবং গুলশান-১-এর গোলচত্বরে অবস্থিত জব্বার টাওয়ার। রাজউক সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ের চাওয়া তথ্য প্রস্তুতে কাজ করছে তারা।

জানা গেছে, ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবনগুলো নির্মাণের অভিযোগে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এসব তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে হোটেল শেরাটন ও দ্য ওয়েস্টিনের মালিকানায় রয়েছে নূর আলীর প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট।

সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বনানীর ৪৪ কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬০ কাঠা জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্স’ নির্মাণের জন্য বোরাক রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের চুক্তি হয় ২০০৭ সালের ২৫ জুন।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে ১৩ তলা এবং পরে সংশোধিত চুক্তিতে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় ২৮ তলা ভবন। বর্তমানে সেখানে পরিচালিত হচ্ছে পাঁচ তারকা হোটেল শেরাটন।

ভবনটিতে নির্মাণবিধি অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্ট ভবনটির ওপরের আটটি তলার বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। এ কারণে ভবনটিতে পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও বাধা রয়েছে।

হোটেলটির পেছনে ১৩ তলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে পুরোনো ভবনের কাঠামোর ওপর। সামনের হোটেল ভবনটিতে ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী সেটব্যাক অর্থাৎ জমির সীমানা থেকে ভবনের দেয়াল পর্যন্ত খালি রাখার নির্ধারিত দূরত্ব এবং ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) যথাযথভাবে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ফুটপাতও নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে তারা।

রাজধানীর আরেক অভিজাত হোটেল হিলটনের নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। হোটেলটির মালিক সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচ বি এম ইকবাল। রাজউকের কাছ থেকে ২৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে সেখানে ৩৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গুলশান-১-এর গোলচত্বরে অবস্থিত জব্বার টাওয়ারের মালিক শিল্পপতি মির্জা আব্দুল জব্বার। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সেটব্যাক ও ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া রাজউকের কাছ থেকে নয় তলার অনুমোদন নিয়ে ভবনটি ২২ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। পরে ভবনটির বৈধতা পাওয়ার আশায় রাজউকে আবেদন করেছেন মালিক।

জানতে চাইলে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক বলেন, ‘এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে তথ্য চেয়েছে। আমরা সবকিছু যাচাই করে বিস্তারিত নথিপত্র পাঠাবো।’

এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘হিলটনসহ কয়েকটি ভবনের বিষয়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে, বিস্তারিত পরে বলা যাবে।’

/এসএ/