দাপুটে জাগৃক চেয়ারম্যানের কব্জায় ৩ সরকারি গাড়ি

দাপুটে জাগৃক চেয়ারম্যানের কব্জায় ৩ সরকারি গাড়ি
সেলিনা আক্তার

সরকারি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম। প্রতি মাসে সেই গাড়ির জন্য নিচ্ছেন রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের ভাতা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের এ সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি দখলে রেখেছেন সংস্থার আরও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাতের এই দুটি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে। আর সরকারের এ দাপুটে অতিরিক্ত সচিবের এসব গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় খরচ যোগানো হচ্ছে জাগৃকের কোষাগার থেকে। সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জাগৃকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান গাড়ি সুবিধা নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোসা. ফেরদৌসী বেগম প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ার পরপরই সুদমুক্ত ঋণসুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনেন। অথচ সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পর সরকারি গাড়ি ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও তিনি জাগৃক থেকে নিজের নামে একটি সাদা রঙের পাজেরো স্পোর্ট জিপ (ঢাকা-মেট্রো ঘ-১৮-০৫১৭) বরাদ্দ নেন। গাড়িটির চালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন শফিকুল ইসলাম; যিনি জাগৃকের নিজস্ব কর্মচারী। নিজের নামে গাড়ি বরাদ্দের পর কৌশলে একান্ত সহকারী (পিএস) মেহেদী হাসানের নামেও একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি বরাদ্দ নেন ফেরদৌসী বেগম। গাড়িটির নম্বর ঢাকা-মেট্রো গ-৩২-৪৭৫২। এই গাড়িটিও তিনি নিজ দখলে রেখেছেন, যা বর্তমানে ব্যবহার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এই গাড়িটির চালক ফজলুর রহমান। তিনিও জাগৃকের নিজস্ব লোক। কথিত আছে বাসায় ব্যবহৃত গাড়িটি কখনো সরকারি দপ্তরে আসে না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পিএস মেহেদী হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমি সরকারি কোনো গাড়ি ব্যবহার করি না। এমনকি যে গাড়ির কথা বলছেন সেটির কালার কী তাও বলতে পারবো না।’ তবে তার নামে বরাদ্দ করা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও নম্বরের গাড়িটি বাস্তবে কে ব্যবহার করছেন-এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নেন। আমি কিছু জানি না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার পর সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ আর বহাল থাকে না। মূলত সরকারি যানবাহনের অপচয় কমাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া শুরু হয়। নীতিমালার মূল শর্তই ছিল এই সুবিধা নেওয়ার পর সরকারি যানবাহন আর ব্যবহার করা যাবে না। অথচ জাগৃক চেয়ারম্যান সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছেন।
জাগৃকের তথ্যানুযায়ী, একটি গাড়ির পেছনে সংস্থাটিকে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। প্রতি গাড়িতে মাসে ১৮০ লিটার জ্বালানি তেল বরাদ্দ থাকে, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একজন চালকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি গাড়ি দখলে রাখায় প্রতিবছর সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের সহায়তায় প্রথমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন ফেরদৌসী বেগম। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তিনি জাগৃকের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) এবং বাজেট ও অডিট অধিশাখার দায়িত্বে ছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।
একপর্যায়ে সংস্থাটির সচিব মনদীপ ঘরাই চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন সাপেক্ষেই গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
কোন বিধিবিধানের আলোকে সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পরও সরকারি দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারের মুখপাত্র হিসেবে যতটুকু জানাতে বলেছেন আমি শুধু তা-ই বলেছি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।’

সরকারি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম। প্রতি মাসে সেই গাড়ির জন্য নিচ্ছেন রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের ভাতা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের এ সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি দখলে রেখেছেন সংস্থার আরও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাতের এই দুটি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে। আর সরকারের এ দাপুটে অতিরিক্ত সচিবের এসব গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় খরচ যোগানো হচ্ছে জাগৃকের কোষাগার থেকে। সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জাগৃকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান গাড়ি সুবিধা নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোসা. ফেরদৌসী বেগম প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ার পরপরই সুদমুক্ত ঋণসুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনেন। অথচ সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পর সরকারি গাড়ি ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও তিনি জাগৃক থেকে নিজের নামে একটি সাদা রঙের পাজেরো স্পোর্ট জিপ (ঢাকা-মেট্রো ঘ-১৮-০৫১৭) বরাদ্দ নেন। গাড়িটির চালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন শফিকুল ইসলাম; যিনি জাগৃকের নিজস্ব কর্মচারী। নিজের নামে গাড়ি বরাদ্দের পর কৌশলে একান্ত সহকারী (পিএস) মেহেদী হাসানের নামেও একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি বরাদ্দ নেন ফেরদৌসী বেগম। গাড়িটির নম্বর ঢাকা-মেট্রো গ-৩২-৪৭৫২। এই গাড়িটিও তিনি নিজ দখলে রেখেছেন, যা বর্তমানে ব্যবহার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এই গাড়িটির চালক ফজলুর রহমান। তিনিও জাগৃকের নিজস্ব লোক। কথিত আছে বাসায় ব্যবহৃত গাড়িটি কখনো সরকারি দপ্তরে আসে না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পিএস মেহেদী হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমি সরকারি কোনো গাড়ি ব্যবহার করি না। এমনকি যে গাড়ির কথা বলছেন সেটির কালার কী তাও বলতে পারবো না।’ তবে তার নামে বরাদ্দ করা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও নম্বরের গাড়িটি বাস্তবে কে ব্যবহার করছেন-এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নেন। আমি কিছু জানি না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার পর সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ আর বহাল থাকে না। মূলত সরকারি যানবাহনের অপচয় কমাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া শুরু হয়। নীতিমালার মূল শর্তই ছিল এই সুবিধা নেওয়ার পর সরকারি যানবাহন আর ব্যবহার করা যাবে না। অথচ জাগৃক চেয়ারম্যান সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছেন।
জাগৃকের তথ্যানুযায়ী, একটি গাড়ির পেছনে সংস্থাটিকে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। প্রতি গাড়িতে মাসে ১৮০ লিটার জ্বালানি তেল বরাদ্দ থাকে, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একজন চালকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি গাড়ি দখলে রাখায় প্রতিবছর সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের সহায়তায় প্রথমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন ফেরদৌসী বেগম। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তিনি জাগৃকের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) এবং বাজেট ও অডিট অধিশাখার দায়িত্বে ছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।
একপর্যায়ে সংস্থাটির সচিব মনদীপ ঘরাই চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন সাপেক্ষেই গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
কোন বিধিবিধানের আলোকে সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পরও সরকারি দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারের মুখপাত্র হিসেবে যতটুকু জানাতে বলেছেন আমি শুধু তা-ই বলেছি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।’

দাপুটে জাগৃক চেয়ারম্যানের কব্জায় ৩ সরকারি গাড়ি
সেলিনা আক্তার

সরকারি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম। প্রতি মাসে সেই গাড়ির জন্য নিচ্ছেন রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের ভাতা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের এ সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি দখলে রেখেছেন সংস্থার আরও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাতের এই দুটি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে। আর সরকারের এ দাপুটে অতিরিক্ত সচিবের এসব গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় খরচ যোগানো হচ্ছে জাগৃকের কোষাগার থেকে। সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জাগৃকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান গাড়ি সুবিধা নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোসা. ফেরদৌসী বেগম প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ার পরপরই সুদমুক্ত ঋণসুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনেন। অথচ সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পর সরকারি গাড়ি ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও তিনি জাগৃক থেকে নিজের নামে একটি সাদা রঙের পাজেরো স্পোর্ট জিপ (ঢাকা-মেট্রো ঘ-১৮-০৫১৭) বরাদ্দ নেন। গাড়িটির চালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন শফিকুল ইসলাম; যিনি জাগৃকের নিজস্ব কর্মচারী। নিজের নামে গাড়ি বরাদ্দের পর কৌশলে একান্ত সহকারী (পিএস) মেহেদী হাসানের নামেও একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি বরাদ্দ নেন ফেরদৌসী বেগম। গাড়িটির নম্বর ঢাকা-মেট্রো গ-৩২-৪৭৫২। এই গাড়িটিও তিনি নিজ দখলে রেখেছেন, যা বর্তমানে ব্যবহার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এই গাড়িটির চালক ফজলুর রহমান। তিনিও জাগৃকের নিজস্ব লোক। কথিত আছে বাসায় ব্যবহৃত গাড়িটি কখনো সরকারি দপ্তরে আসে না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পিএস মেহেদী হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমি সরকারি কোনো গাড়ি ব্যবহার করি না। এমনকি যে গাড়ির কথা বলছেন সেটির কালার কী তাও বলতে পারবো না।’ তবে তার নামে বরাদ্দ করা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও নম্বরের গাড়িটি বাস্তবে কে ব্যবহার করছেন-এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নেন। আমি কিছু জানি না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার পর সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ আর বহাল থাকে না। মূলত সরকারি যানবাহনের অপচয় কমাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া শুরু হয়। নীতিমালার মূল শর্তই ছিল এই সুবিধা নেওয়ার পর সরকারি যানবাহন আর ব্যবহার করা যাবে না। অথচ জাগৃক চেয়ারম্যান সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছেন।
জাগৃকের তথ্যানুযায়ী, একটি গাড়ির পেছনে সংস্থাটিকে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। প্রতি গাড়িতে মাসে ১৮০ লিটার জ্বালানি তেল বরাদ্দ থাকে, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একজন চালকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি গাড়ি দখলে রাখায় প্রতিবছর সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের সহায়তায় প্রথমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন ফেরদৌসী বেগম। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তিনি জাগৃকের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) এবং বাজেট ও অডিট অধিশাখার দায়িত্বে ছিলেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।
একপর্যায়ে সংস্থাটির সচিব মনদীপ ঘরাই চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন সাপেক্ষেই গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
কোন বিধিবিধানের আলোকে সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পরও সরকারি দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারের মুখপাত্র হিসেবে যতটুকু জানাতে বলেছেন আমি শুধু তা-ই বলেছি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।’

রাজউকে এখন ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই
গৃহায়নের ‘জিইসি’ মোড়ে বাতিল প্রকল্প পাস করাতে তৎপর স্বার্থান্বেষী মহল
ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি
ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্ট চলছে অনুমোদন ছাড়া 







