৬০ বছরে জাহিদ হাসান, মানুষের জন্য কিছু করতে চান

৬০ বছরে জাহিদ হাসান, মানুষের জন্য কিছু করতে চান
সিজেডএন ডেস্ক

নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি মানুষটি পর্দায় এসে আমাদের কখনো হাসিয়েছেন, কখনো ভাসিয়েছেন চোখের জলে। মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্রের সেই তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান আজ ষাট বছরে পা দিয়েছেন। জীবনের এ মাইলফলকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালে অনুতাপ আর ভুলের কথা যেমন মনে পড়ে, তেমনই আছে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা করার তীব্র আকুতি।
বয়স ষাট ছুঁতেই নিজের ভুলত্রুটি নিয়ে একদম খোলামেলা কথা বলছেন এ গুণী অভিনেতা। জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, ‘জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে। শুধু নিজেকে নিয়ে ভালো থাকার ভাবনা কখনোই ছিল না তার। সবসময় আশপাশের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার ইচ্ছেটা তার বরাবরের। এ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি সব সময় চেয়েছি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে। সেই চেষ্টা এখন আরও বেশি। আমার কাছে মনে হয়, সবাইকে নিয়ে এগোনোর চিন্তা করলে দেশেরও উন্নতি হবে।’

দুই সন্তানের জনক জাহিদ হাসানের মেয়ে লন্ডনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পড়ছেন, আর ছেলে এ লেভেল শেষ করে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুদূর প্রবাসে থাকা মেয়ের কথা মনে পড়লে প্রায়ই আবেগ ধরে রাখতে পারেন না তিনি। ফোনে মেয়ে যখন বলে, ‘বাবা, এই খাবারটা মিস করছি, তোমাকে মিস করছি, বাসার সবাইকে মিস করছি’- তখন চোখে পানি চলে আসে তার। একটু বেশি আবেগপ্রবণ জাহিদ, ভালো বা খারাপ যেকোনো খবরই তাকে খুব দ্রুত স্পর্শ করে যায়।
জন্মদিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি ফিরে যান কৈশোরের সেই দিনগুলোতে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে হওয়ায় একসময় তার জন্মদিনে থাকত বিশেষ আয়োজন। মায়ের হাতের পায়েস, কেক, চানাচুর আর কলার জমজমাট পসরা সাজানো হতো। তবে আশির দশকের শেষদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে অভিনয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকায় আসার পর বদলে যায় জীবনের গল্প। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের মেসে চার-পাঁচজনের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার সংগ্রাম।
১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবরের কথা এখনো তার স্পষ্ট মনে পড়ে। জন্মদিনের সকালে মেসের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন জাহিদ। বুয়ার রান্না মুখে তোলার মতো না হলে নিজেরাও মেসে ভাজি-তরকারি রেঁধে খেতেন। সেই ধুলোবালিমাখা দিনে মেসের এক রুমমেটের বাবা তাকে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করো না পুলক, এমন একটা দিন আসবে, যেদিন সারা দেশের মানুষ তোমার জন্মদিন পালন করবে।’ পরবর্তীতে যখন থিয়েটার আর অভিনয়ে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান, সংবাদপত্র আর প্রচারমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা হতে থাকে, তখন বারবার সেই মানুষটির কথাই মনে ভেসে উঠত তার।

মঞ্চ নাটক নাট্যকেন্দ্র গড়ে তোলার শুরুর দিনগুলোতে ঘর মোছা থেকে শুরু করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। তবে মেসজীবনের কষ্টের দিনগুলোই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে ছাড় দিতে হয়, আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নিতে হয়। সংগ্রাম আর সাফল্যের জীবনের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’

নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি মানুষটি পর্দায় এসে আমাদের কখনো হাসিয়েছেন, কখনো ভাসিয়েছেন চোখের জলে। মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্রের সেই তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান আজ ষাট বছরে পা দিয়েছেন। জীবনের এ মাইলফলকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালে অনুতাপ আর ভুলের কথা যেমন মনে পড়ে, তেমনই আছে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা করার তীব্র আকুতি।
বয়স ষাট ছুঁতেই নিজের ভুলত্রুটি নিয়ে একদম খোলামেলা কথা বলছেন এ গুণী অভিনেতা। জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, ‘জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে। শুধু নিজেকে নিয়ে ভালো থাকার ভাবনা কখনোই ছিল না তার। সবসময় আশপাশের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার ইচ্ছেটা তার বরাবরের। এ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি সব সময় চেয়েছি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে। সেই চেষ্টা এখন আরও বেশি। আমার কাছে মনে হয়, সবাইকে নিয়ে এগোনোর চিন্তা করলে দেশেরও উন্নতি হবে।’

দুই সন্তানের জনক জাহিদ হাসানের মেয়ে লন্ডনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পড়ছেন, আর ছেলে এ লেভেল শেষ করে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুদূর প্রবাসে থাকা মেয়ের কথা মনে পড়লে প্রায়ই আবেগ ধরে রাখতে পারেন না তিনি। ফোনে মেয়ে যখন বলে, ‘বাবা, এই খাবারটা মিস করছি, তোমাকে মিস করছি, বাসার সবাইকে মিস করছি’- তখন চোখে পানি চলে আসে তার। একটু বেশি আবেগপ্রবণ জাহিদ, ভালো বা খারাপ যেকোনো খবরই তাকে খুব দ্রুত স্পর্শ করে যায়।
জন্মদিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি ফিরে যান কৈশোরের সেই দিনগুলোতে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে হওয়ায় একসময় তার জন্মদিনে থাকত বিশেষ আয়োজন। মায়ের হাতের পায়েস, কেক, চানাচুর আর কলার জমজমাট পসরা সাজানো হতো। তবে আশির দশকের শেষদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে অভিনয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকায় আসার পর বদলে যায় জীবনের গল্প। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের মেসে চার-পাঁচজনের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার সংগ্রাম।
১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবরের কথা এখনো তার স্পষ্ট মনে পড়ে। জন্মদিনের সকালে মেসের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন জাহিদ। বুয়ার রান্না মুখে তোলার মতো না হলে নিজেরাও মেসে ভাজি-তরকারি রেঁধে খেতেন। সেই ধুলোবালিমাখা দিনে মেসের এক রুমমেটের বাবা তাকে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করো না পুলক, এমন একটা দিন আসবে, যেদিন সারা দেশের মানুষ তোমার জন্মদিন পালন করবে।’ পরবর্তীতে যখন থিয়েটার আর অভিনয়ে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান, সংবাদপত্র আর প্রচারমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা হতে থাকে, তখন বারবার সেই মানুষটির কথাই মনে ভেসে উঠত তার।

মঞ্চ নাটক নাট্যকেন্দ্র গড়ে তোলার শুরুর দিনগুলোতে ঘর মোছা থেকে শুরু করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। তবে মেসজীবনের কষ্টের দিনগুলোই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে ছাড় দিতে হয়, আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নিতে হয়। সংগ্রাম আর সাফল্যের জীবনের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’

৬০ বছরে জাহিদ হাসান, মানুষের জন্য কিছু করতে চান
সিজেডএন ডেস্ক

নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি মানুষটি পর্দায় এসে আমাদের কখনো হাসিয়েছেন, কখনো ভাসিয়েছেন চোখের জলে। মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্রের সেই তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান আজ ষাট বছরে পা দিয়েছেন। জীবনের এ মাইলফলকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালে অনুতাপ আর ভুলের কথা যেমন মনে পড়ে, তেমনই আছে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা করার তীব্র আকুতি।
বয়স ষাট ছুঁতেই নিজের ভুলত্রুটি নিয়ে একদম খোলামেলা কথা বলছেন এ গুণী অভিনেতা। জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, ‘জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে। শুধু নিজেকে নিয়ে ভালো থাকার ভাবনা কখনোই ছিল না তার। সবসময় আশপাশের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার ইচ্ছেটা তার বরাবরের। এ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি সব সময় চেয়েছি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে। সেই চেষ্টা এখন আরও বেশি। আমার কাছে মনে হয়, সবাইকে নিয়ে এগোনোর চিন্তা করলে দেশেরও উন্নতি হবে।’

দুই সন্তানের জনক জাহিদ হাসানের মেয়ে লন্ডনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পড়ছেন, আর ছেলে এ লেভেল শেষ করে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুদূর প্রবাসে থাকা মেয়ের কথা মনে পড়লে প্রায়ই আবেগ ধরে রাখতে পারেন না তিনি। ফোনে মেয়ে যখন বলে, ‘বাবা, এই খাবারটা মিস করছি, তোমাকে মিস করছি, বাসার সবাইকে মিস করছি’- তখন চোখে পানি চলে আসে তার। একটু বেশি আবেগপ্রবণ জাহিদ, ভালো বা খারাপ যেকোনো খবরই তাকে খুব দ্রুত স্পর্শ করে যায়।
জন্মদিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি ফিরে যান কৈশোরের সেই দিনগুলোতে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে হওয়ায় একসময় তার জন্মদিনে থাকত বিশেষ আয়োজন। মায়ের হাতের পায়েস, কেক, চানাচুর আর কলার জমজমাট পসরা সাজানো হতো। তবে আশির দশকের শেষদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে অভিনয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকায় আসার পর বদলে যায় জীবনের গল্প। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের মেসে চার-পাঁচজনের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার সংগ্রাম।
১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবরের কথা এখনো তার স্পষ্ট মনে পড়ে। জন্মদিনের সকালে মেসের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন জাহিদ। বুয়ার রান্না মুখে তোলার মতো না হলে নিজেরাও মেসে ভাজি-তরকারি রেঁধে খেতেন। সেই ধুলোবালিমাখা দিনে মেসের এক রুমমেটের বাবা তাকে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ করো না পুলক, এমন একটা দিন আসবে, যেদিন সারা দেশের মানুষ তোমার জন্মদিন পালন করবে।’ পরবর্তীতে যখন থিয়েটার আর অভিনয়ে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান, সংবাদপত্র আর প্রচারমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা হতে থাকে, তখন বারবার সেই মানুষটির কথাই মনে ভেসে উঠত তার।

মঞ্চ নাটক নাট্যকেন্দ্র গড়ে তোলার শুরুর দিনগুলোতে ঘর মোছা থেকে শুরু করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। তবে মেসজীবনের কষ্টের দিনগুলোই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে ছাড় দিতে হয়, আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নিতে হয়। সংগ্রাম আর সাফল্যের জীবনের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’

মুক্তির প্রথম দিনেই অজয়ের জীবনের ইতিহাস এনে দিলো ‘দৃশ্যম ৩’







