শিরোনাম

এসএসসি উত্তীর্ণদের জন্য ৯ শিক্ষাবৃত্তি, কোথায় কত টাকা ও আবেদনের সময়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
এসএসসি উত্তীর্ণদের জন্য ৯ শিক্ষাবৃত্তি, কোথায় কত টাকা ও আবেদনের সময়

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন ধাপ—একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এসব শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বৃত্তি ও উপবৃত্তি কর্মসূচি।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একাধিক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ। কোনো কোনো বৃত্তির আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, আবার কয়েকটির কার্যক্রম ফল প্রকাশের কয়েক মাস পর শুরু হতে পারে।

১. বোর্ড বৃত্তি

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দিয়ে থাকে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সাধারণত ফল প্রকাশের কয়েক মাস পর বৃত্তির তালিকা ও কার্যক্রম শুরু হয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

২. ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি

মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি বেশ পরিচিত। ২০২৬ সালের বৃত্তির জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে।

সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ-৫ থাকতে হবে। গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮৩ প্রয়োজন।

এইচএসসি পর্যায়ে দুই বছর বৃত্তি দেওয়া হবে। মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা, বছরে পাঠ্য উপকরণের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পোশাকের জন্য ১ হাজার টাকা করে সহায়তা রয়েছে।

ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি বৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবেন না। মোট বৃত্তির ৯০ শতাংশ গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য রাখার কথা জানানো হয়েছে।

৩. শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রতি বছর মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান আবেদনের শেষ সময় ২৭ আগস্ট ২০২৬।

বিভাগীয় শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ-৫ এবং অন্যান্য বিভাগের জন্য ৪.৮০ প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের বাইরে বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮০ এবং অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে ৪.৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদনকারী পরিবারের পিতা, মাতা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার বেশি হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনে ফরম পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আপলোড করতে হবে।

৪. প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট

আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বৃত্তি কার্যক্রম রয়েছে। একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা এ সহায়তার আওতায় আসেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আবেদন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ বৃত্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা বা তার কম হওয়ার শর্ত রয়েছে।

৫. সোনালী ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি

সোনালী ব্যাংক পিএলসির করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবেও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের দরিদ্র, মেধাবী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাধারণত এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আওতায় নেওয়া হয়। আবেদন ও যোগ্যতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।

৬. সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি

সরকারের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে একই শিক্ষার্থী অন্য কোনো সরকারি উৎস থেকে উপবৃত্তি বা অভিভাবকের মাধ্যমে শিক্ষা ভাতা পেলে এ সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন না।

এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডের মেধা বা সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরাও সমন্বিত উপবৃত্তির জন্য যোগ্য নন।

৭. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বৃত্তি

বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সন্তানদের জন্য রয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রবাসী কর্মীদের সন্তানরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।

আবেদনের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রতি বছর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

৮. মেঘনা গ্রুপের ‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান’

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নাম্বার ওয়ানের উদ্যোগে চা-দোকানি বাবা-মায়ের জিপিএ-৫ পাওয়া সন্তানদের জন্য ‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বিনামূল্যে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এককালীন শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি এইচএসসি অল-সাবজেক্ট অনলাইন কোর্স, সনদ, ক্রেস্ট, সংবর্ধনা মেডেল ও বিশেষ উপহার পাবেন।

৯. মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ও এর আগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তার পাশাপাশি মাসিক বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগও ছিল তাদের কর্মসূচিতে। নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হলে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।

আবেদন করার আগে যা খেয়াল রাখবেন

বৃত্তির আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে যোগ্যতা যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে জিপিএ, পারিবারিক আয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, অন্য কোনো বৃত্তি পাওয়ার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

অনেক বৃত্তির আবেদন কেবল অনলাইনে নেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে জন্মনিবন্ধন, ফলাফলের কাগজপত্র, অভিভাবকের আয়সংক্রান্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখলে শেষ সময়ে ঝামেলা কমবে। আর কোনো বৃত্তির আবেদন শেষ হয়ে গেলে পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

/এবি/