শিরোনাম

জাল সনদের অভিযোগ, এমপিও হারাতে পারেন ৬৩ কলেজ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাল সনদের অভিযোগ, এমপিও হারাতে পারেন ৬৩ কলেজ শিক্ষক
শিক্ষা ভবন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাল সনদ ব্যবহারের অভিযুক্ত কলেজ পর্যায়ের ৬৩ জন শিক্ষক এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ জুলাই) মাউশির উপপরিচালক শফি মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে কলেজ পর্যায়ের ৬৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন তাদের এমপিও বাতিল বা স্থগিত করা হবে না।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের কেউ লিখিত জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি। আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাবই দেননি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও গভীরভাবে যাচাই করতে ব্যক্তিগত শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাউশি।

নির্দেশনায় আর বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং তার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে নির্ধারিত তারিখে সকাল ১০টায় ঢাকার শিক্ষা ভবনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এর কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।

শুনানিতে অংশ নিতে হলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগসংক্রান্ত সব কাগজপত্রের অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত দুই সেট ফটোকপি এবং মূল কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে।

এছাড়া, অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক যদি ইতোমধ্যে পদত্যাগ, বরখাস্ত, অপসারণ, জাতীয়করণ বা মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তাহলে সেই সংক্রান্ত যথাযথ প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শুনানিতে উপস্থাপিত নথি, প্রমাণ ও বক্তব্য যাচাই করে প্রত্যেক শিক্ষকের বিষয়ে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এমপিও বাতিল বা স্থগিতসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

/এফআর/