শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ ও বনায়নের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ ও বনায়নের উদ্যোগ
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। কোলাজ: সিজেডএন গ্রাফিক্স

দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বনায়নের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাড়ে ৩ একরের কম আয়তনের অখণ্ড, অব্যবহৃত ও নিষ্কণ্টক জমির তথ্য চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ জন্য সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র তিন কর্মদিবস।

মাউশির এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত সম্পদকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তবে জমি চিহ্নিত করার পর কোন প্রক্রিয়ায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে, প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে, উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোথায় ব্যবহার করা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রয়োজন কীভাবে বিবেচনা করা হবে– এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে মাউশির আওতাধীন কলেজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এইচএসটিটিআই) এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমির তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভার পর উদ্যোগ

জানা গেছে, মাউশির এ উদ্যোগ হঠাৎ নেওয়া হয়নি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো স্মারক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সভার কার্যবিবরণীর ভিত্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তাগিদপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন অব্যবহৃত জমি নিয়ে সভা হয়। সেখানে সাড়ে ৩ একরের কম আয়তনের অব্যবহৃত সরকারি জমি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এসব জমি নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃক্ষরোপণ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হয়।

আরও জানা গেছে, শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জমি নয়; বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীনে থাকা ছোট আকারের অব্যবহৃত জমিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির তালিকা করা হচ্ছে।

জমি ব্যবহারে সতর্কতার আহ্বান

মাউশির সরকারি কলেজ শাখার কর্মকর্তারা জানান, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক জমি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। কোথাও মূল ক্যাম্পাসের বাইরে জমি রয়েছে। কোথাও আবার ভবিষ্যতে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনায় জমি খালি রাখা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি থাকলেও অর্থসংকট বা পরিকল্পনার অভাবে তা ব্যবহার করা যায়নি। এখন এসব জমি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে কোন জমিকে ‘অব্যবহৃত’ বলা হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো খালি জমিতে আগামী কয়েক বছরে একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, খেলার মাঠ বা শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিবেচনা করেই জমি নির্বাচন করতে হবে।

একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জানান, জমির দাগ ও খতিয়ানসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের জন্য মাত্র তিন কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এত কম সময়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কারণ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির দলিল ও ভূমি রেকর্ড অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো। বিভিন্ন সময়ে দাগ নম্বর পরিবর্তন, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন বা সীমানা পরিবর্তনের ঘটনা থাকতে পারে। কোনো জমি বাস্তবে দখলমুক্ত হলেও ভূমি রেকর্ডে জটিলতা থাকতে পারে। আবার কাগজে নিষ্কণ্টক জমি বাস্তবে দখল বা ব্যবহারাধীনও হতে পারে।

বনায়নেও গুরুত্ব

অব্যবহৃত জমির সবটুকু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব জমির একটি অংশ বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিতে পরিকল্পিত বনায়ন হলে পরিবেশগত সুফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে এসব জায়গা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বাস্তব ক্ষেত্র হিসেবেও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

/এফসি/