রাজধানীর বাজারে ধনিয়াপাতা ৩০০, গোল বেগুন ১৮০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে ধনিয়াপাতা ৩০০, গোল বেগুন ১৮০ টাকা
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সকালের ব্যস্ততায় বাজারের ব্যাগ হাতে রাজধানীর বাজারে ছুটছেন ক্রেতারা। হাতে লম্বা লিস্ট। আবার মাছ-মাংসের সঙ্গে কারো কারো তালিকায় এক মুঠো ধনিয়াপাতা কিংবা কয়েকটি সবজি। কিন্তু বাজারের দরদাম শুনেই অনেকের কপালে দেখা চিন্তার ভাঁজ। সপ্তাহ না ঘুরতেই ধনিয়াপাতার কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা, গোল বেগুনেও বেড়েছে ৬০ টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা হাতে নিয়ে হিসাব কষেই বাজার করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরজমিনে নয়াবাজার ও কাপ্তান বাজারে দেখা যায়, একেক পণ্যের দামে একেক রকম চিত্র। কোথাও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি, আবার কোথাও কিছুটা কমেছে টমেটো ও কাঁচা মরিচের দাম। মাছের বাজারেও আকারভেদে দামের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট।

নয়াবাজার

নয়াবাজারের বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে ধনিয়াপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। গোল বেগুনও ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা কেজি হয়েছে।

এছাড়া, গত সপ্তাহে ১২০ টাকার টমেটো বিক্রি হলেও এখন ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

নয়াবাজারের একটি সবজির দোকানে সাজিয়ে রাখা ধনিয়া পাতাসহ অন্য সবজি। সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
নয়াবাজারের একটি সবজির দোকানে সাজিয়ে রাখা ধনিয়া পাতাসহ অন্য সবজি। সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

অন্যদিকে, শিম কেজি ১৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা। বরবটি ৮০ টাকা, কুমড়া ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, ক্যাপসিকাম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নয়াবাজারের বাসিন্দা রিপন বলেন, বাজার থেকে টমেটো, কালা বেগুন ধনে পাতা কিনলাম। আসলে তো সবকিছুরই দাম বাড়তি। তেলের দাম বাড়ছে, নিশ্চয়ই সবকিছুর দাম বাড়বে। আর আমাগো বাঙালি তো সুযোগ পায়। একটা কিছুর দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়াই দেয়।

নয়াবাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ বলেন, বাজারে ধনিয়া পাতা দাম অনেক বেশি। আরও কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম কমেছে।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের খরচের বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। নয়াবাজার মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২২০ টাকা, রুই ৩৬০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৮০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাঙ্গাস ২৩০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চিংড়ি ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ মাছ ১৩০০ টাকা, ছোট আকারের ইলিশ ৭০০ টাকা, পোয়া ৪০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা কেজিকে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
মাছের বাজার। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আগামাসিলা থেকে বাজার করতে আসা ক্রেতা আব্দুল হাই বলেন, ‘আমি তিন কেজি সাইজের একটা কাতল মাছ কিনলাম। যার কেজি ৪০০ টাকা করে নিছে। আমার কাছে মনে হয় বাজারে মাছের দাম ঠিক আছে।’

এছাড়া, নয়াবাজারের গত সপ্তাহে একই দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগী। আর সোনালি মুরগির কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা এবং মুরগির ডিম ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

নয়াবাজারের মুরগী দোকানদার সলিমুল্লাহ বলেন, গত সপ্তাহের দামেই ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০-১৯০ টাকা বিক্রি করছি।

রাজধানীর কাপ্তান বাজার

এদিকে, কাপ্তান বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, বাজারে ধনিয়া পাতা ৩০০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা ধরে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।

এ বাজারেও মাছের আকারভেদে দামের পার্থক্য দেখা গেছে। কাপ্তান বাজারের মাছ বিক্রেতা জসিমউদদীন বলেন, মাছের সাইজ বুইঝ্যা দাম। পাবদা ছোট সাইজের ৩০০ -৩৫০ টাকা, বড় সাইজের ৪৫০-৫০০ টাকা, চিংড়ি বড় সাইজের ১২০০ টাকা, মাঝারি সাইজ ৮০০-৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইলিশ মাছের দামও বেড়েছে। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম ২৫০০ টাকা, ছোট আকারের ইলিশের কেজি ৬০০-৭০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, বাজারে ক্রেতা কম, তাই বেচাবিক্রি কম হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মাছ বাজারেও পড়বে। কারণ মাছের সংগ্রহ-সরবরাহ খরচ বেড়ে যাবে।

কাপ্তান বাজারের ক্রেতা পল্টনের বাসিন্দা মো. রতন বলেন, বাজারের বেশিরভাগ পণ্যের দাম বাড়তেছে। মাছের দাম বাড়তি। নিত্য পণ্যের দামও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ বাজার মনিটরিং যেনো গুরুত্ব দেয়।

নয়াবাজারের মুরগির দোকানে দরদাম করছেন ক্রেতারা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
নয়াবাজারের মুরগির দোকানে দরদাম করছেন ক্রেতারা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, বরং নয়াবাজারের তুলনায় কাপ্তান বাজারে দাম কম দেখা দেখা গেছে। বাজারটিতে ব্রয়লার ১৭৫ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের মুরগী বিক্রেতারা জানান, খুচরা বাজারের থেকে কাপ্তান বাজারে মুরগির দাম তুলনামূলক কম।

কাপ্তান বাজারে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেন মাংস বিক্রেতারা জানান।

এছাড়া, বাজারে মুদির দোকানগুলোতে খোলা আটা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, দুই কেজির প্যাকেট আটা ১২০ টাকা, মসুরির ডাল (দেশি) ১৭০ টাকা ও ভাঙা ১০০ টাকা, আদা ১২০ টাকা, রসুন ১৪০ টাকা, সয়াবিন তেল (খোলা) কেজিপ্রতি ২১০ টাকা এবং বোতলজাত (লিটার) ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/এফআর/