এবার জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

এবার জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে না– এমন অভিযোগে বাংলাদেশি পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর কার্যকর মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৫ শতাংশে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিসে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নতুন এ শুল্ক ঘোষণা করা হয়। ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ শুল্কহার থেকে অব্যাহতি পাবে।
বাংলাদেশি পণ্যে এর আগে গড়ে ১৫-১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এর সঙ্গে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক যোগ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নতুন শুল্কে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক ছিল, তার পরিবর্তে এখন একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শুল্কের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করতে শুরু করেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক বা ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে এ শুল্ক বসানো হয়।
শুরুতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং একপর্যায়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের (এআরটি) পর শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১৯ শতাংশ শুল্ক পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এ শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল রাখা যায়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পরিচালিত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) তদন্ত। পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইউএসটিআর গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে। জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারের মতামত এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ইউএসটিআর। নতুন এ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে ইউএসটিআরের নোটিসে কিছু পণ্যকে নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কয়েক ধরনের খাদ্যপণ্য এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর এ অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও এ শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
এদিকে নতুন শুল্ক কার্যকরের পরপরই বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বহাল থাকবে বলে দাবি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আরোপিত শুল্কহারের ফলে বাংলাদেশের কার্যকর শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭টি দেশের একটি, যাদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। একইসঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরো জোরালো হবে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী– বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ভারত, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের ক্ষেত্রে শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এমএফএন শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে না– এমন অভিযোগে বাংলাদেশি পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর কার্যকর মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৫ শতাংশে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিসে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নতুন এ শুল্ক ঘোষণা করা হয়। ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ শুল্কহার থেকে অব্যাহতি পাবে।
বাংলাদেশি পণ্যে এর আগে গড়ে ১৫-১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এর সঙ্গে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক যোগ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নতুন শুল্কে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক ছিল, তার পরিবর্তে এখন একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শুল্কের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করতে শুরু করেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক বা ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে এ শুল্ক বসানো হয়।
শুরুতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং একপর্যায়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের (এআরটি) পর শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১৯ শতাংশ শুল্ক পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এ শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল রাখা যায়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পরিচালিত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) তদন্ত। পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইউএসটিআর গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে। জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারের মতামত এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ইউএসটিআর। নতুন এ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে ইউএসটিআরের নোটিসে কিছু পণ্যকে নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কয়েক ধরনের খাদ্যপণ্য এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর এ অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও এ শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
এদিকে নতুন শুল্ক কার্যকরের পরপরই বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বহাল থাকবে বলে দাবি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আরোপিত শুল্কহারের ফলে বাংলাদেশের কার্যকর শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭টি দেশের একটি, যাদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। একইসঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরো জোরালো হবে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী– বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ভারত, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের ক্ষেত্রে শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এমএফএন শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

এবার জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে না– এমন অভিযোগে বাংলাদেশি পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর কার্যকর মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৫ শতাংশে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিসে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নতুন এ শুল্ক ঘোষণা করা হয়। ওয়াশিংটন সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ শুল্কহার থেকে অব্যাহতি পাবে।
বাংলাদেশি পণ্যে এর আগে গড়ে ১৫-১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এর সঙ্গে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক যোগ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, নতুন শুল্কে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক ছিল, তার পরিবর্তে এখন একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শুল্কের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করতে শুরু করেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক বা ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে এ শুল্ক বসানো হয়।
শুরুতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং একপর্যায়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের (এআরটি) পর শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১৯ শতাংশ শুল্ক পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এ শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল রাখা যায়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পরিচালিত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) তদন্ত। পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইউএসটিআর গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে। জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারের মতামত এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ইউএসটিআর। নতুন এ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে ইউএসটিআরের নোটিসে কিছু পণ্যকে নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কয়েক ধরনের খাদ্যপণ্য এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামাসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর এ অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও এ শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
এদিকে নতুন শুল্ক কার্যকরের পরপরই বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বহাল থাকবে বলে দাবি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আরোপিত শুল্কহারের ফলে বাংলাদেশের কার্যকর শুল্ক পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭টি দেশের একটি, যাদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। একইসঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরো জোরালো হবে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী– বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ভারত, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের ক্ষেত্রে শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এমএফএন শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর







