৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ১৩ প্রকল্প উঠছে একনেক সভায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ১৩ প্রকল্প উঠছে একনেক সভায়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একনেক সভা

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পসহ মোট ১৩টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে চলতি অর্থবছরের পঞ্চম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প উত্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

একনেকের তালিকায় থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’। এটি দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে যাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোই এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল এবং মোট ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার ও একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রস্তাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ উপস্থাপন করা হবে একনেক সভায়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের এ প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একনেক সভায় স্থানীয় সরকার খাতের ৭টি প্রকল্পও উত্থাপন হবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

অন্যদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। আর সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয় সংশোধনীয় উঠছে একনেকে। প্রকল্পটির ব্যয় আরও ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার উপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের একটি সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পর্বত্য জেলায় থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব উঠছে সভায়। প্রকল্পটির ব্যয় আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ দ্বিতীয় সংশোধন ও প্রকল্পে আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

/জেএইচ/