মর্গ ঘিরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি, ক্র্যাবের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মর্গ ঘিরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি, ক্র্যাবের  উদ্বেগ
সাংবাদিক এস এম রাশেদুর রহমান দিপু ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) লোগো

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ ঘিরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক এস এম রাশেদুর রহমান দিপুকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।

সাংবাদিক দিপু আলাপ নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সিনিয়র সদস্য।

সাংবাদিক দিপু বলেন, মর্গে মৃত নারীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।

তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে আমি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও ধারণ করি। প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নিয়েছি। গত ১৮ অক্টোবর এ বিষয়ে আলাপ নিউজের ওয়েবসাইটে লিখিত প্রতিবেদন এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এই সাংবাদিক বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২৭ অক্টোবর বেলা ১২টা ৩১ মিনিটে মর্গের সাবেক সহকারী নূরে আলম শান্ত আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে শান্ত নিজেকে নেক্রোফিলিয়ার রোগী নন বলে দাবি করেন। এ সময় আমার সঙ্গে তার বার্তা আদান-প্রদান হয়। একপর্যায়ে আমার কাছে সংরক্ষিত স্পর্শকাতর তথ্য-প্রমাণ চান তিনি। সর্বশেষ আমাকে ‘কোর্টে দেখা হবে’ এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমার ধারণা, এ ঘটনার পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা, অনিয়ম উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ক্র্যাব নেতারা। একই সঙ্গে অভিযোগকারী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তারা।

/এসবি/