আধুনিক সাজে ওসমানী উদ্যান, সবুজে ফিরলো নগরবাসী

আধুনিক সাজে ওসমানী উদ্যান, সবুজে ফিরলো নগরবাসী
রাকিব হাসান

দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে ওসমানী উদ্যান। রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই উদ্যানটি সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে অনেক সুযোগ-সুবিধা। গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ভাস্কর্ষ, পুকুর ও জলাশয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ একর আয়তনের উদ্যানটি আধুনিকায়নে যুক্ত হয়েছে নতুন জলাশয়, ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামের সুবিধা ও নানা নান্দনিক স্থাপনা। তবে উদ্যানটি চালু হলেও জনপ্রতি ১০ টাকা প্রবেশমূল্য নিয়ে রয়েছে আলোচনা।
রাজধানীর নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে অবস্থিত ওসমানী উদ্যান নগরবাসীর হাঁটাচলা, বিশ্রাম ও অবসর কাটানোর অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত। উন্নয়নকাজের কারণে ৯ বছর বন্ধ থাকার পর উদ্যানটি আবার খুলে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তাঁদের মতে, ব্যস্ত নগরজীবনে সবুজের সান্নিধ্যে সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য উদ্যানটি গুরুত্বপূর্ণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যানকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি নতুন জলাশয়। এখানে আগে থেকে থাকা গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম
নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা ওসমানী উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের ও ভেতরের রিলিফ ভাস্কর্যে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামের চিত্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন অধ্যায় স্থান পেয়েছে এসব ভাস্কর্যে।
প্রবেশমূল্য ১০ টাকা
উদ্যানটিতে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও দর্শনার্থীদের কেউ কেউ প্রবেশমূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নির্ধারিত অর্থ দিয়ে যদি উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পার্কে ঘুরতে আসা মামুন নামের এক দর্শনার্থী সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, প্রবেশমূল্য নির্ধারন করা একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এতে আশপাশের ভবঘুরে লোকজনে উদ্যানের ঢোকার সুযোগ পাবে না। ফলে উদ্যানের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে। আগে সন্ধ্যার পরেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসতো। কিন্তু আধুনিকায়নের পর এসব অপতৎপরতা বন্ধ হয়েছে।

ডিএসসিসির ভাষ্য, উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্যানের নিরাপত্তায় প্রতিটি স্থানে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া মিলিয়ে সিটি করপোরেশনের ১২ জন আনসার সদস্য পালাক্রমে দিন রাত মিলিয়ে পার্কের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যয় প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী উদ্যানের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। বিভিন্ন জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হয়। পরে এই প্রকল্পে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও দুটি প্রবেশফটক নির্মাণের বিষয়গুলো যুক্ত হয়। এতে ব্যয় হয় আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে উদ্যানটির উন্নয়ন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওসমানী উদ্যান খুলে দেওয়ায় রাজধানীবাসীর জন্য নতুন করে সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন উদ্যানটির পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থাপনাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নগর জাদুঘর, গ্রন্থাগার ও জিমনেসিয়াম দ্রুত চালু করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহনীয় থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নগরবাসীর প্রত্যাশা, আধুনিকায়িত এই উদ্যান যেন শুধু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সবার জন্য কার্যকর ও জনবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে ওসমানী উদ্যান। রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই উদ্যানটি সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে অনেক সুযোগ-সুবিধা। গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ভাস্কর্ষ, পুকুর ও জলাশয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ একর আয়তনের উদ্যানটি আধুনিকায়নে যুক্ত হয়েছে নতুন জলাশয়, ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামের সুবিধা ও নানা নান্দনিক স্থাপনা। তবে উদ্যানটি চালু হলেও জনপ্রতি ১০ টাকা প্রবেশমূল্য নিয়ে রয়েছে আলোচনা।
রাজধানীর নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে অবস্থিত ওসমানী উদ্যান নগরবাসীর হাঁটাচলা, বিশ্রাম ও অবসর কাটানোর অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত। উন্নয়নকাজের কারণে ৯ বছর বন্ধ থাকার পর উদ্যানটি আবার খুলে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তাঁদের মতে, ব্যস্ত নগরজীবনে সবুজের সান্নিধ্যে সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য উদ্যানটি গুরুত্বপূর্ণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যানকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি নতুন জলাশয়। এখানে আগে থেকে থাকা গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম
নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা ওসমানী উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের ও ভেতরের রিলিফ ভাস্কর্যে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামের চিত্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন অধ্যায় স্থান পেয়েছে এসব ভাস্কর্যে।
প্রবেশমূল্য ১০ টাকা
উদ্যানটিতে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও দর্শনার্থীদের কেউ কেউ প্রবেশমূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নির্ধারিত অর্থ দিয়ে যদি উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পার্কে ঘুরতে আসা মামুন নামের এক দর্শনার্থী সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, প্রবেশমূল্য নির্ধারন করা একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এতে আশপাশের ভবঘুরে লোকজনে উদ্যানের ঢোকার সুযোগ পাবে না। ফলে উদ্যানের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে। আগে সন্ধ্যার পরেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসতো। কিন্তু আধুনিকায়নের পর এসব অপতৎপরতা বন্ধ হয়েছে।

ডিএসসিসির ভাষ্য, উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্যানের নিরাপত্তায় প্রতিটি স্থানে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া মিলিয়ে সিটি করপোরেশনের ১২ জন আনসার সদস্য পালাক্রমে দিন রাত মিলিয়ে পার্কের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যয় প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী উদ্যানের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। বিভিন্ন জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হয়। পরে এই প্রকল্পে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও দুটি প্রবেশফটক নির্মাণের বিষয়গুলো যুক্ত হয়। এতে ব্যয় হয় আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে উদ্যানটির উন্নয়ন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওসমানী উদ্যান খুলে দেওয়ায় রাজধানীবাসীর জন্য নতুন করে সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন উদ্যানটির পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থাপনাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নগর জাদুঘর, গ্রন্থাগার ও জিমনেসিয়াম দ্রুত চালু করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহনীয় থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নগরবাসীর প্রত্যাশা, আধুনিকায়িত এই উদ্যান যেন শুধু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সবার জন্য কার্যকর ও জনবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠে।

আধুনিক সাজে ওসমানী উদ্যান, সবুজে ফিরলো নগরবাসী
রাকিব হাসান

দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে ওসমানী উদ্যান। রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই উদ্যানটি সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে অনেক সুযোগ-সুবিধা। গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ভাস্কর্ষ, পুকুর ও জলাশয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ একর আয়তনের উদ্যানটি আধুনিকায়নে যুক্ত হয়েছে নতুন জলাশয়, ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামের সুবিধা ও নানা নান্দনিক স্থাপনা। তবে উদ্যানটি চালু হলেও জনপ্রতি ১০ টাকা প্রবেশমূল্য নিয়ে রয়েছে আলোচনা।
রাজধানীর নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে অবস্থিত ওসমানী উদ্যান নগরবাসীর হাঁটাচলা, বিশ্রাম ও অবসর কাটানোর অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত। উন্নয়নকাজের কারণে ৯ বছর বন্ধ থাকার পর উদ্যানটি আবার খুলে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তাঁদের মতে, ব্যস্ত নগরজীবনে সবুজের সান্নিধ্যে সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য উদ্যানটি গুরুত্বপূর্ণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যানকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি নতুন জলাশয়। এখানে আগে থেকে থাকা গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম
নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা ওসমানী উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের ও ভেতরের রিলিফ ভাস্কর্যে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামের চিত্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন অধ্যায় স্থান পেয়েছে এসব ভাস্কর্যে।
প্রবেশমূল্য ১০ টাকা
উদ্যানটিতে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও দর্শনার্থীদের কেউ কেউ প্রবেশমূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নির্ধারিত অর্থ দিয়ে যদি উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পার্কে ঘুরতে আসা মামুন নামের এক দর্শনার্থী সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, প্রবেশমূল্য নির্ধারন করা একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এতে আশপাশের ভবঘুরে লোকজনে উদ্যানের ঢোকার সুযোগ পাবে না। ফলে উদ্যানের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে। আগে সন্ধ্যার পরেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসতো। কিন্তু আধুনিকায়নের পর এসব অপতৎপরতা বন্ধ হয়েছে।

ডিএসসিসির ভাষ্য, উদ্যানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্যানের নিরাপত্তায় প্রতিটি স্থানে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া মিলিয়ে সিটি করপোরেশনের ১২ জন আনসার সদস্য পালাক্রমে দিন রাত মিলিয়ে পার্কের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যয় প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী উদ্যানের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। বিভিন্ন জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হয়। পরে এই প্রকল্পে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ও দুটি প্রবেশফটক নির্মাণের বিষয়গুলো যুক্ত হয়। এতে ব্যয় হয় আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে উদ্যানটির উন্নয়ন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওসমানী উদ্যান খুলে দেওয়ায় রাজধানীবাসীর জন্য নতুন করে সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন উদ্যানটির পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থাপনাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নগর জাদুঘর, গ্রন্থাগার ও জিমনেসিয়াম দ্রুত চালু করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সহনীয় থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নগরবাসীর প্রত্যাশা, আধুনিকায়িত এই উদ্যান যেন শুধু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সবার জন্য কার্যকর ও জনবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠে।

ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী







