চালু হচ্ছে এনইআইআর, যেসব ফোন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই

চালু হচ্ছে এনইআইআর, যেসব ফোন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই
সিজেডএন ডেস্ক

অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এ ব্যবস্থা চালু হলে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসা, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা এবং ক্লোন করা মোবাইল ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে শুরুতেই সব অনিবন্ধিত ফোন বন্ধ করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে।
বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
দুই ধাপে যেভাবে চালু হবে
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। এ পর্যায়ে বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে যুক্ত করা হবে। এ ধাপে নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালু হবে না।
তবে অবৈধভাবে আমদানি করা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা ফোন শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগেও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল
বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়নি। এতে ব্যবস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
একই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তির আশঙ্কায় ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।
চলতি বছরের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও এ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।
সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।
বন্ধ হতে পারে ২জি ফোনের ব্যবহারও
সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
এনইআইআর চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অবৈধ ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ফোন নিবন্ধন ও বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন-পদ্ধতি জানতে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।

অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এ ব্যবস্থা চালু হলে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসা, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা এবং ক্লোন করা মোবাইল ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে শুরুতেই সব অনিবন্ধিত ফোন বন্ধ করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে।
বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
দুই ধাপে যেভাবে চালু হবে
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। এ পর্যায়ে বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে যুক্ত করা হবে। এ ধাপে নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালু হবে না।
তবে অবৈধভাবে আমদানি করা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা ফোন শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগেও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল
বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়নি। এতে ব্যবস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
একই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তির আশঙ্কায় ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।
চলতি বছরের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও এ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।
সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।
বন্ধ হতে পারে ২জি ফোনের ব্যবহারও
সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
এনইআইআর চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অবৈধ ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ফোন নিবন্ধন ও বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন-পদ্ধতি জানতে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।

চালু হচ্ছে এনইআইআর, যেসব ফোন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই
সিজেডএন ডেস্ক

অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এ ব্যবস্থা চালু হলে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসা, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা এবং ক্লোন করা মোবাইল ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে শুরুতেই সব অনিবন্ধিত ফোন বন্ধ করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে।
বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
দুই ধাপে যেভাবে চালু হবে
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। এ পর্যায়ে বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রীত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে যুক্ত করা হবে। এ ধাপে নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালু হবে না।
তবে অবৈধভাবে আমদানি করা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা ফোন শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগেও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল
বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়নি। এতে ব্যবস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
একই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তির আশঙ্কায় ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।
চলতি বছরের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও এ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।
সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।
বন্ধ হতে পারে ২জি ফোনের ব্যবহারও
সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
এনইআইআর চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অবৈধ ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ফোন নিবন্ধন ও বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন-পদ্ধতি জানতে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।








