নাছিমের ৩৫ কোটি, কাদেরের ৪ কোটি, আর কার কত সম্পদ

নাছিমের ৩৫ কোটি, কাদেরের ৪ কোটি, আর কার কত সম্পদ
সিজেডএন ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাদের সবাই বর্তমানে পলাতক।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।
শেখ ফজলে শামস পরশ কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তার হলফনামা থেকে সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। নিচে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী বাকি চারজনের ঘোষিত সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হলো।
ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে হলফনামায় ওবায়দুল কাদের তার সম্পদের বিবরণ দেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার।
একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম দেখানো হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্রের তথ্য ছিল।
সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ হলফনামা অনুযায়ী ওবায়দুল কাদেরের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
তার হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার।
দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য সোয়া ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হিসাবে নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে মোট ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে রয়েছে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সম্পদ
ঢাকা-১৭ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় তার নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নয়টি কোম্পানিতে তার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী রয়েছে।
সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পদ
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষি জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।
একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি রয়েছে ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ রায়ে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাদের সবাই বর্তমানে পলাতক।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।
শেখ ফজলে শামস পরশ কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তার হলফনামা থেকে সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। নিচে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী বাকি চারজনের ঘোষিত সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হলো।
ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে হলফনামায় ওবায়দুল কাদের তার সম্পদের বিবরণ দেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার।
একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম দেখানো হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্রের তথ্য ছিল।
সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ হলফনামা অনুযায়ী ওবায়দুল কাদেরের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
তার হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার।
দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য সোয়া ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হিসাবে নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে মোট ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে রয়েছে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সম্পদ
ঢাকা-১৭ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় তার নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নয়টি কোম্পানিতে তার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী রয়েছে।
সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পদ
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষি জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।
একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি রয়েছে ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ রায়ে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

নাছিমের ৩৫ কোটি, কাদেরের ৪ কোটি, আর কার কত সম্পদ
সিজেডএন ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাদের সবাই বর্তমানে পলাতক।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।
শেখ ফজলে শামস পরশ কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তার হলফনামা থেকে সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। নিচে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী বাকি চারজনের ঘোষিত সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হলো।
ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে হলফনামায় ওবায়দুল কাদের তার সম্পদের বিবরণ দেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার।
একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম দেখানো হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্রের তথ্য ছিল।
সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ হলফনামা অনুযায়ী ওবায়দুল কাদেরের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
তার হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার।
দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য সোয়া ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হিসাবে নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে মোট ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে রয়েছে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সম্পদ
ঢাকা-১৭ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় তার নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নয়টি কোম্পানিতে তার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী রয়েছে।
সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পদ
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষি জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।
একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি রয়েছে ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ রায়ে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড







