শিরোনাম

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে ক্ষোভ: মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখলেন গ্রাহকেরা

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে ক্ষোভ: মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখলেন গ্রাহকেরা
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের বাগ্‌বিতণ্ডা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল কয়েকগুণ বেশি আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক মিটার রিডারকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন গ্রাহকেরা। পরে অতিরিক্ত বিল সংশোধন ও ত্রুটিপূর্ণ মিটার পরিবর্তনের আশ্বাসে তাকে মুক্ত করা হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কালিতলা মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের আকবর আলী নামে এক গ্রাহকের জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল মাত্র ২০০ টাকা। অথচ আগস্ট মাসে একই মিটারে বিল এসেছে ৩ হাজার টাকা। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহক বিল পরিশোধ না করে অপেক্ষা করছিলেন, পল্লী বিদ্যুতের লোকজন কখন আসবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বাড়িতে বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের মিটার রিডার সবুজকে আটকে রাখেন তিনি। পরে তার সঙ্গে একত্রিত হন গ্রামবাসীরা।

খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা-পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এ সময় আরও ৫ ঘণ্টা ধরে সবুজকে আটকে রাখা হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা চলে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, এমন ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ শুধু আকবর আলীর একার নয়, মধুপুর কালিতলা গ্রামের আরও শতাধিক গ্রাহকের। তবে এসব বিল সংশোধনের জন্য বারবার অফিসে গিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়ে অনেক গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে অতিরিক্ত বিলই পরিশোধ করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় বলেন, ৫ ঘণ্টা পর পুলিশের উপস্থিতিতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল যাচাই-বাছাই করে সংশোধন ও ত্রুটিপূর্ণ মিটার পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা মিটার রিডারকে ছেড়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, আগে দায়িত্বে থাকা এক মিটার রিডার মাঠে না গিয়ে ঘরে বসে রিডিং দেওয়ার অভিযোগে তাকে সরিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনিই আজ গ্রামে বিলের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গ্রামবাসী তাকে আটক করেছে। আমরা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত। সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. হামিদুল হক বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। বিলসংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

/এফআর/