বিএনপির ৯ নেতার স্ত্রী ও চারজনের সন্তান সারের ডিলার

বিএনপির ৯ নেতার স্ত্রী ও চারজনের সন্তান সারের ডিলার
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা

ঠাকুরগাঁওয়ের চার উপজেলার ২৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ৩১ জন সার ডিলারের মধ্যে ২৮ জনেরই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও স্বজনরাও রয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির সার ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ৪ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বালিয়াডাঙ্গীর সাতটি ইউনিয়ন, রানীশংকৈলের আটটি (একটি পৌরসভাসহ), হরিপুরের পাঁচটি এবং পীরগঞ্জের ১১টি (একটি পৌরসভাসহ) ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির পদধারী ৪ জন, একজন সাবেক নেতা, একজন সমর্থক, দুজন সাবেক ছাত্রদল নেতা, একজন মহিলা দলের নেত্রী এবং তাঁতী দল ও ওলামা দলের একজন করে নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া নয়জন বিএনপি নেতার স্ত্রী, চারজনের সন্তান, দুজনের ভাই, এক নেতার স্বজন এবং সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড নেতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাহীন দুজনও নিয়োগ পেয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানূল হকের স্ত্রী শ্যামলী আক্তার, ভোমরাদহে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম, কোষারানীগঞ্জে সাবেক উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মেজবাহুল পারভেজ, খনগাঁওয়ে বিএনপি সভাপতি রুস্তম আলীর স্ত্রী মিরা আক্তার, পীরগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদের মেয়ে শবনম মুস্তারী সিনথিয়া, হাজীপুরে সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম এবং দৌলতপুরে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ মোজাফর রহমান সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এছাড়া, সেনগাঁওয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফফর রহমান, সৈয়দপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন, জাবরহাটে বিএনপি সভাপতি জাহিদুর রহমানের ছেলে আহমেদ আব ইয়াজ, বৈরচুনায় বিএনপি সমর্থক লুৎফর রহমান, পারিয়ায় আরফান আলীর স্ত্রী নাজনীন বেগম, ধনতলায় সেলিম জাবেদের স্ত্রী সাবিনা আক্তার, বড় পলাশবাড়ীতে আব্দুল বাতেন, দুওসুওতে তাঁতী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, ভানোরে বিএনপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, আমজানখোরে সাবেক বিএনপি নেতা মো. মাসুদের বড় ভাই জহিরুল হক এবং বড়বাড়ীতে বিএনপি সভাপতি জুলফিকার আলীর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এদিকে, রানীশংকৈল পৌরসভায় মহসিন আলীর স্ত্রী পারুল বেগম, হোসেনগাঁওয়ে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি নাজির হোসেন, লেহেম্বায় সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাসানের মেয়ে মিথিলা সানজিদা সিমি, কাশিপুরে যুবদল সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ময়না আক্তার এবং নন্দুয়ারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদের খালাতো ভাই রকিবুল হাসান, রাতোর ইউনিয়নে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএস ট্রেডার্স, আমগাঁওয়ে আবু তাহেরের ছেলে মশিউর রহমান, ডাঙ্গীপাড়ায় সাবেক বিএনপি সভাপতি করিমুল হক, হরিপুরে ওলামা দলের সভাপতি দরিবুল ইসলাম এবং ভাতুরিয়ায় জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, বাচোরে রতন রায় ও গেদুরায় সায়েদ আলীও নিয়োগ পেয়েছেন। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে নেই বলে জানা গেছে।
হরিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিলারশিপ পেতে অর্থ দিয়েও নিয়োগ পাই নি। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই পেলেন সারের ডিলারশিপ।
রানীশংকৈলের এক সার ব্যবসায়ীর বলেন, দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের মনোনীত করা হয়েছে, তাদের অনেকের অভিজ্ঞতা নেই, গুদামও নেই। এতে প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, কৃষিপ্রধান দেশে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করতে সারের সরবরাহ সহজলভ্য করা জরুরি; কিন্তু সেখানে আমরা সারের ডিলার নিয়োগেও দলীয়করণ দেখছি। এতে একদিকে কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে; অন্যদিকে সার সরবরাহের চেইন একধরনের সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত হতে পারে।
হরিপুরের ভাতুরিয়া ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে মনোনীত জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন বলেন, আমার পরিবার অনেক বছর ধরে ব্যবসা করে। সেই হিসাবে সার ডিলার হতে আবেদন করি। যাচাই-বাছাই শেষে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দীর্ঘদিন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন তাদের অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগ দিচ্ছেন। এ কারণে সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেছেন। ডিলার নিয়োগে দলের কোনো প্রভাব ছিল না।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, যারা ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাননি, তারা এখন নানা কথা ছড়াচ্ছেন। সারের ডিলার নিয়োগ ইউএনও ও ডিসির মাধ্যমে হয়েছে, অনিয়ম হলে সেটা তাদের দায়। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আওয়ামী লীগের যিনি নিয়োগ পেয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তিনি আমার নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। নীতিমালার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সারের ডিলারের আবেদন উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নীতিমালায় বলা ছিল। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা কমিটি যে সুপারিশ করেছে, সেটা নীতিমালার আলোকেই হয়েছে। আমরা সেই সুপারিশে কোনো পরিবর্তন আনিনি। সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও আমরা পাইনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের চার উপজেলার ২৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ৩১ জন সার ডিলারের মধ্যে ২৮ জনেরই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও স্বজনরাও রয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির সার ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ৪ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বালিয়াডাঙ্গীর সাতটি ইউনিয়ন, রানীশংকৈলের আটটি (একটি পৌরসভাসহ), হরিপুরের পাঁচটি এবং পীরগঞ্জের ১১টি (একটি পৌরসভাসহ) ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির পদধারী ৪ জন, একজন সাবেক নেতা, একজন সমর্থক, দুজন সাবেক ছাত্রদল নেতা, একজন মহিলা দলের নেত্রী এবং তাঁতী দল ও ওলামা দলের একজন করে নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া নয়জন বিএনপি নেতার স্ত্রী, চারজনের সন্তান, দুজনের ভাই, এক নেতার স্বজন এবং সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড নেতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাহীন দুজনও নিয়োগ পেয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানূল হকের স্ত্রী শ্যামলী আক্তার, ভোমরাদহে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম, কোষারানীগঞ্জে সাবেক উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মেজবাহুল পারভেজ, খনগাঁওয়ে বিএনপি সভাপতি রুস্তম আলীর স্ত্রী মিরা আক্তার, পীরগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদের মেয়ে শবনম মুস্তারী সিনথিয়া, হাজীপুরে সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম এবং দৌলতপুরে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ মোজাফর রহমান সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এছাড়া, সেনগাঁওয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফফর রহমান, সৈয়দপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন, জাবরহাটে বিএনপি সভাপতি জাহিদুর রহমানের ছেলে আহমেদ আব ইয়াজ, বৈরচুনায় বিএনপি সমর্থক লুৎফর রহমান, পারিয়ায় আরফান আলীর স্ত্রী নাজনীন বেগম, ধনতলায় সেলিম জাবেদের স্ত্রী সাবিনা আক্তার, বড় পলাশবাড়ীতে আব্দুল বাতেন, দুওসুওতে তাঁতী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, ভানোরে বিএনপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, আমজানখোরে সাবেক বিএনপি নেতা মো. মাসুদের বড় ভাই জহিরুল হক এবং বড়বাড়ীতে বিএনপি সভাপতি জুলফিকার আলীর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এদিকে, রানীশংকৈল পৌরসভায় মহসিন আলীর স্ত্রী পারুল বেগম, হোসেনগাঁওয়ে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি নাজির হোসেন, লেহেম্বায় সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাসানের মেয়ে মিথিলা সানজিদা সিমি, কাশিপুরে যুবদল সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ময়না আক্তার এবং নন্দুয়ারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদের খালাতো ভাই রকিবুল হাসান, রাতোর ইউনিয়নে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএস ট্রেডার্স, আমগাঁওয়ে আবু তাহেরের ছেলে মশিউর রহমান, ডাঙ্গীপাড়ায় সাবেক বিএনপি সভাপতি করিমুল হক, হরিপুরে ওলামা দলের সভাপতি দরিবুল ইসলাম এবং ভাতুরিয়ায় জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, বাচোরে রতন রায় ও গেদুরায় সায়েদ আলীও নিয়োগ পেয়েছেন। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে নেই বলে জানা গেছে।
হরিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিলারশিপ পেতে অর্থ দিয়েও নিয়োগ পাই নি। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই পেলেন সারের ডিলারশিপ।
রানীশংকৈলের এক সার ব্যবসায়ীর বলেন, দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের মনোনীত করা হয়েছে, তাদের অনেকের অভিজ্ঞতা নেই, গুদামও নেই। এতে প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, কৃষিপ্রধান দেশে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করতে সারের সরবরাহ সহজলভ্য করা জরুরি; কিন্তু সেখানে আমরা সারের ডিলার নিয়োগেও দলীয়করণ দেখছি। এতে একদিকে কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে; অন্যদিকে সার সরবরাহের চেইন একধরনের সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত হতে পারে।
হরিপুরের ভাতুরিয়া ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে মনোনীত জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন বলেন, আমার পরিবার অনেক বছর ধরে ব্যবসা করে। সেই হিসাবে সার ডিলার হতে আবেদন করি। যাচাই-বাছাই শেষে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দীর্ঘদিন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন তাদের অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগ দিচ্ছেন। এ কারণে সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেছেন। ডিলার নিয়োগে দলের কোনো প্রভাব ছিল না।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, যারা ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাননি, তারা এখন নানা কথা ছড়াচ্ছেন। সারের ডিলার নিয়োগ ইউএনও ও ডিসির মাধ্যমে হয়েছে, অনিয়ম হলে সেটা তাদের দায়। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আওয়ামী লীগের যিনি নিয়োগ পেয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তিনি আমার নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। নীতিমালার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সারের ডিলারের আবেদন উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নীতিমালায় বলা ছিল। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা কমিটি যে সুপারিশ করেছে, সেটা নীতিমালার আলোকেই হয়েছে। আমরা সেই সুপারিশে কোনো পরিবর্তন আনিনি। সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও আমরা পাইনি।

বিএনপির ৯ নেতার স্ত্রী ও চারজনের সন্তান সারের ডিলার
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা

ঠাকুরগাঁওয়ের চার উপজেলার ২৯টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ৩১ জন সার ডিলারের মধ্যে ২৮ জনেরই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও স্বজনরাও রয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির সার ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ৪ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বালিয়াডাঙ্গীর সাতটি ইউনিয়ন, রানীশংকৈলের আটটি (একটি পৌরসভাসহ), হরিপুরের পাঁচটি এবং পীরগঞ্জের ১১টি (একটি পৌরসভাসহ) ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির পদধারী ৪ জন, একজন সাবেক নেতা, একজন সমর্থক, দুজন সাবেক ছাত্রদল নেতা, একজন মহিলা দলের নেত্রী এবং তাঁতী দল ও ওলামা দলের একজন করে নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া নয়জন বিএনপি নেতার স্ত্রী, চারজনের সন্তান, দুজনের ভাই, এক নেতার স্বজন এবং সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড নেতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাহীন দুজনও নিয়োগ পেয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানূল হকের স্ত্রী শ্যামলী আক্তার, ভোমরাদহে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম, কোষারানীগঞ্জে সাবেক উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মেজবাহুল পারভেজ, খনগাঁওয়ে বিএনপি সভাপতি রুস্তম আলীর স্ত্রী মিরা আক্তার, পীরগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদের মেয়ে শবনম মুস্তারী সিনথিয়া, হাজীপুরে সভাপতি আমিনুল ইসলামের স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম এবং দৌলতপুরে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ মোজাফর রহমান সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এছাড়া, সেনগাঁওয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফফর রহমান, সৈয়দপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন, জাবরহাটে বিএনপি সভাপতি জাহিদুর রহমানের ছেলে আহমেদ আব ইয়াজ, বৈরচুনায় বিএনপি সমর্থক লুৎফর রহমান, পারিয়ায় আরফান আলীর স্ত্রী নাজনীন বেগম, ধনতলায় সেলিম জাবেদের স্ত্রী সাবিনা আক্তার, বড় পলাশবাড়ীতে আব্দুল বাতেন, দুওসুওতে তাঁতী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, ভানোরে বিএনপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, আমজানখোরে সাবেক বিএনপি নেতা মো. মাসুদের বড় ভাই জহিরুল হক এবং বড়বাড়ীতে বিএনপি সভাপতি জুলফিকার আলীর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এদিকে, রানীশংকৈল পৌরসভায় মহসিন আলীর স্ত্রী পারুল বেগম, হোসেনগাঁওয়ে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি নাজির হোসেন, লেহেম্বায় সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাসানের মেয়ে মিথিলা সানজিদা সিমি, কাশিপুরে যুবদল সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ময়না আক্তার এবং নন্দুয়ারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদের খালাতো ভাই রকিবুল হাসান, রাতোর ইউনিয়নে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএস ট্রেডার্স, আমগাঁওয়ে আবু তাহেরের ছেলে মশিউর রহমান, ডাঙ্গীপাড়ায় সাবেক বিএনপি সভাপতি করিমুল হক, হরিপুরে ওলামা দলের সভাপতি দরিবুল ইসলাম এবং ভাতুরিয়ায় জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
অন্যদিকে, বাচোরে রতন রায় ও গেদুরায় সায়েদ আলীও নিয়োগ পেয়েছেন। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে নেই বলে জানা গেছে।
হরিপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিলারশিপ পেতে অর্থ দিয়েও নিয়োগ পাই নি। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই পেলেন সারের ডিলারশিপ।
রানীশংকৈলের এক সার ব্যবসায়ীর বলেন, দলীয় বিবেচনায় অযোগ্য ব্যক্তিদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের মনোনীত করা হয়েছে, তাদের অনেকের অভিজ্ঞতা নেই, গুদামও নেই। এতে প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, কৃষিপ্রধান দেশে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করতে সারের সরবরাহ সহজলভ্য করা জরুরি; কিন্তু সেখানে আমরা সারের ডিলার নিয়োগেও দলীয়করণ দেখছি। এতে একদিকে কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে; অন্যদিকে সার সরবরাহের চেইন একধরনের সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত হতে পারে।
হরিপুরের ভাতুরিয়া ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে মনোনীত জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন বলেন, আমার পরিবার অনেক বছর ধরে ব্যবসা করে। সেই হিসাবে সার ডিলার হতে আবেদন করি। যাচাই-বাছাই শেষে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, দীর্ঘদিন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন তাদের অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগ দিচ্ছেন। এ কারণে সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেছেন। ডিলার নিয়োগে দলের কোনো প্রভাব ছিল না।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, যারা ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাননি, তারা এখন নানা কথা ছড়াচ্ছেন। সারের ডিলার নিয়োগ ইউএনও ও ডিসির মাধ্যমে হয়েছে, অনিয়ম হলে সেটা তাদের দায়। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আওয়ামী লীগের যিনি নিয়োগ পেয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তিনি আমার নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। নীতিমালার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সারের ডিলারের আবেদন উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নীতিমালায় বলা ছিল। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা কমিটি যে সুপারিশ করেছে, সেটা নীতিমালার আলোকেই হয়েছে। আমরা সেই সুপারিশে কোনো পরিবর্তন আনিনি। সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও আমরা পাইনি।

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে ক্ষোভ: মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখলেন গ্রাহকেরা







