শিরোনাম

সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় অবাধে চলছে মাছ-কাঁকড়া শিকার

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় অবাধে চলছে মাছ-কাঁকড়া শিকার
নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও মাছ ও কাঁকড়া শিকার করছেন কয়েকজন জেলে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও প্রকাশ্যে চলছে মাছ ও কাঁকড়া শিকার। বনবিভাগের স্টেশনের সামনেই অবৈধ এ শিকার কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বনবিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে দেদারসে চলছে মাছ ও কাঁকড়া শিকার।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) সরেজমিনে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা দাতিনাখালি থেকে ডিঙি নৌকা হয়ে বুড়িগোয়ালিনির দিকে যেতে যেতে দেখা যায়, বুড়িগোয়ালিনি বনবিভাগ স্টেশনের সামনে নদী পার হয়ে বনের একটু ভিতরেই চলছে অবাধে কাঁকড়া শিকার। কোনো কোনো জেলে নৌকায় করে আবার কয়েকজন বনের ভেতর হেঁটে হেঁটে কাঁকড়া শিকার করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, ‘কাঁকড়া বেশি পায়নি। আপনারা দেখে ফেলেছেন, তাই আমি উঠে যাচ্ছি।’

বনবিভাগের সামনেই কাঁকড়া ধরছেন, সমস্যা হবে না– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কাঁকড়া শিকার না করলে, খাবো কি। তাই বনে ঢুকলাম। যদি কিছু কাঁকড়া পায়, তাহলে কিছু ভাগ দিয়ে দেবো।’

অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া, চিংড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিষ দিয়ে ধরা হচ্ছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়ও অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় শত শত নৌকা নিয়ে সংগঠিতভাবে এই শিকার চলছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান। তবে কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের সংরক্ষিত এলাকায় আগের চেয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় ফরেস্ট ক্যাম্প ছাড়াও স্মার্ট টিম গঠন করে টহল করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মাছ ধরার কোনো তথ্য পেলে আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের নিয়মিত পাশ দেওয়া হবে। তখন পর্যটক ও বনজীবীরা বনে প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু অভয়ারণ্য এলাকায় সব সময় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।’

/এফআর/