অভিযানের পরও থামছে না মাটি কাটা, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি-কৃষিজমি

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা প্রতিনিধি
অভিযানের পরও থামছে না মাটি কাটা, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি-কৃষিজমি
পাবনা সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটছে প্রভাবশালী একটি মহল। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

‎পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। তবে অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি মাটি কাটা। অভিযোগ রয়েছে, দিনে-রাতে বড় ড্রেজার বসিয়ে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গাছপালা।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় সাত-আট বছর ধরে ইসলামপুর এলাকায় দুটি পয়েন্টে মাটি কাটা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটার ফলে কোনো কোনো স্থানে ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আশপাশের সাত-আটটি দরিদ্র পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারকে নামমাত্র অর্থ দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

‎

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামপুর গ্রামের শাওন প্রামানিক নামের এক ব্যক্তি এসব মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়। তবে কয়েকদিন পর আবার মাটি কাটার কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে তিনি এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ‎এছাড়া, সেলিম নামের আরেক ব্যক্তিও ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটছেন দিন-রাত। প্রশাসন কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মঙ্গলবার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাওন প্রামানিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

‎পাবনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফুয়াদ হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নতুন করে যদি অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসআর/