শিরোনাম

ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: শিক্ষা কর্মকর্তার সামনে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা প্রতিনিধি
ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: শিক্ষা কর্মকর্তার সামনে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
শ্রীদাসখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পাবনার চাটমোহরে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্কুলে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এতে ভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শ্রীদাসখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, হামলায় দুইজন আহত হলেও, এসব ঘটনায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিস অথবা স্কুলের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারি বিধি মোতাবেক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তিকে সভাপতি ও কয়েকজনকে সদস্য বানিয়ে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা অফিসে পাঠান। বিষয়টি জানার পর চাটমোহর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শ্রীদাসখালি গ্রামের আব্দুল মালেক ও তার চাচাতো ভাই আবু সাঈদ (পূর্বের সভাপতি) ক্ষিপ্ত হয়ে বাধা দেয়।

শুধু তাই নয়, আব্দুল মালেককে সভাপতি বানানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন আবু সাঈদ। কিন্তু প্রধান শিক্ষক দাবি মেনে না নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ইউএনও এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা। গতকাল সোমবার অভিযোগের তদন্তে ওই স্কুলে যান সহকারী শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম ও আসলাম উদ্দিন।

বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা
বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা

হঠাৎ দুই সহকারী শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতেই আব্দুল মালেক ও আবু সাঈদের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোকজন স্কুলে হামলা চালায়। এ সময় প্রধান শিক্ষককে অফিস কক্ষ থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন হামলাকারীরা। প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন বাধা দিতে গেলে বহিরাগত লোকজনের মারধরে স্থানীয় জিয়ারুল ইসলাম ও সোহাগ ইসলাম নামে দুইজন আহত হয়।

এদিকে, প্রধান শিক্ষককে মারধর ও আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এসব ঘটনায় স্কুলে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মারধরের শিকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু আমি সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে কমিটির প্রস্তাব জমা দেয়।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে বহিরাগত লোকজন এনে হামলা ও আমাকে মারধর করতে পারে? তিনি ও আবু সাঈদের নেতৃত্বে স্কুলে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রধান শিক্ষকের রুমে হামলা
প্রধান শিক্ষকের রুমে হামলা

ঘটনার সময় উপস্থিত সহকারী শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা দুইজন অফিসার গিয়েছিলাম অভিযোগের তদন্ত করতে। কিন্তু সংঘবদ্ধ হয়ে লোকজন এসে স্কুলে হামলা করবে বা প্রধান শিক্ষককে মারধর করবে এটা ভাবতেই পারিনি। সেই সময় স্কুলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রভাষক আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, আমাকে দাতা সদস্য থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ইউএনও স্যারের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলাম। সেটার তদন্ত ছিল সোমবার। সেখানে আমি কাগজপত্র দেখাতে গিয়েছিলাম। হামলা-মারধরের ঘটনার সাথে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি বলেন, স্কুলে হামলা ও প্রধান শিক্ষককে অফিসারের সামনে মারধর– এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এফআর/