খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আজমুল হত্যা: মুখ খুলছেন না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আজমুল হত্যা: মুখ খুলছেন না কেউ
নিহত আজমুল হোসেন

খুলনায় মেসে চুরির অভিযোগ তুলে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আজমুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর মেসের অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ, আর অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের নীরবতা।

শুক্রবার দিবাগত রাতে খুলনা নগরের ইসলামনগর এলাকার মসজিদ গলির একটি চারতলা ছাত্র মেসে এ ঘটনা ঘটে। মেসটির চতুর্থ তলার একটি কক্ষে থাকতেন আজমুল।

নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিনের ভাষ্য, ঘটনার রাতে আজমুল ফোন করে জানান, মেসে ভাত ও টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ফোনে তিনি ছেলের কাছে জানতে চান, মেসে কারা আছে। আজমুল জানান, অন্যরা সবাই সেখানে রয়েছে।

এরপর মেসে থাকা ব্যক্তিরা আজমুলের বাবাকে ফোনে বলেন, তার ছেলে চুরি করেছে, এ জন্য এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে। পরে খুলনায় এসে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন কুতুব উদ্দিন।

রোববার সকালে ওই মেসে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভবনটি খোলা থাকলেও চারতলার সব কক্ষই ছিল তালাবদ্ধ। প্রতিটি তলায় রয়েছে আটটি করে কক্ষ। আজমুলের কক্ষের পাশেই সিঁড়ি। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে তাকে মারধর করতে করতে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়।

মেসের করিডরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত পোশাক ও জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ছাদের দরজাও খোলা ছিল। তবে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকাংশই কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এলাকার আশপাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরাও মেসে থাকেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের চলাচলও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন পাশের মেসের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় এক নারীসহ তিনজন আগের রাতে ভবনটিতে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাত একটার পর ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এদিকে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন।

তবে রোববার বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অন্যদিকে, হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

/আরএ/