স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক: পুলিশ
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পঙ্কজ বড়ুয়া

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত ছাত্রীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পঙ্কজ বড়ুয়া।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে জান্নাতুল। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ হয়। তবে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাকে অন্য পথে নিয়ে যান। অন্ধকার ও নির্জন এলাকায় পৌঁছানোর পর বিষয়টি বুঝতে পেরে জান্নাতুল অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সুমন তাকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করেন। জান্নাতুল চিৎকার করলে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন তিনি। একপর্যায়ে জান্নাতুল দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সুমন। পরে মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে জান্নাতুলের ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে চলে যান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর সুমন বাখরাবাদ এলাকায় একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও লালমাই থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুমনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/