বাঁচার জন্য কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়েছিল তাজমিন

বাঁচার জন্য কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়েছিল তাজমিন
কুমিল্লা সংবাদদাতা

বাঁচার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। ছুটে বেড়িয়েছিলেন এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তাজমিনের বাবা বলেন, ৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় তার মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে সে মেসেজ (খুদে বার্তা) এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে কক্সবাজারে গিয়েছিল। গত বুধবার বিকালে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল, রাতে কুমিল্লায় ফিরবে। কিন্তু তার আর বাসায় ফেরা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে খোঁজ করেন। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে তারা মরদেহটি দেখতে পায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে নির্জন পাকা সড়ক চলে গেছে। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তাজমিন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে থাকতে দেখে। এর কিছু দূরেই একটি ভেনেটি ব্যাগ পাওয়া যায়। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন রয়েছে। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে তরুণীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে তারা একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দেন। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে বলে জানান তারা। সেটি ধানক্ষেতের দেখলেই বুঝা যায়। মেয়েটি সম্ভবত নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হত্যাকারীদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।
ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায়। তার পরিবার কুমিল্লা শহরে থাকে। শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ফেব্রুয়ারির পর ওই ছাত্রী আর বিদ্যালয়ে আসেনি।
এই বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধারের সময় ওই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়। কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পদুয়ার বাজারে নামার পর ওই কিশোরী কীভাবে লালমাইয়ের ওই স্থানে গেল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়েও তদন্ত চলছে। আমরা অটোরিকশা ধরে তদন্ত এগোচ্ছি।’
পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লা এসে পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাটির ভেতর পোশাক ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো ওই কিশোরীর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। পরে তার মরদেহ নিয়ে পরিবার যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

বাঁচার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। ছুটে বেড়িয়েছিলেন এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তাজমিনের বাবা বলেন, ৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় তার মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে সে মেসেজ (খুদে বার্তা) এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে কক্সবাজারে গিয়েছিল। গত বুধবার বিকালে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল, রাতে কুমিল্লায় ফিরবে। কিন্তু তার আর বাসায় ফেরা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে খোঁজ করেন। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে তারা মরদেহটি দেখতে পায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে নির্জন পাকা সড়ক চলে গেছে। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তাজমিন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে থাকতে দেখে। এর কিছু দূরেই একটি ভেনেটি ব্যাগ পাওয়া যায়। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন রয়েছে। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে তরুণীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে তারা একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দেন। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে বলে জানান তারা। সেটি ধানক্ষেতের দেখলেই বুঝা যায়। মেয়েটি সম্ভবত নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হত্যাকারীদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।
ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায়। তার পরিবার কুমিল্লা শহরে থাকে। শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ফেব্রুয়ারির পর ওই ছাত্রী আর বিদ্যালয়ে আসেনি।
এই বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধারের সময় ওই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়। কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পদুয়ার বাজারে নামার পর ওই কিশোরী কীভাবে লালমাইয়ের ওই স্থানে গেল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়েও তদন্ত চলছে। আমরা অটোরিকশা ধরে তদন্ত এগোচ্ছি।’
পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লা এসে পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাটির ভেতর পোশাক ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো ওই কিশোরীর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। পরে তার মরদেহ নিয়ে পরিবার যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

বাঁচার জন্য কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়েছিল তাজমিন
কুমিল্লা সংবাদদাতা

বাঁচার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। ছুটে বেড়িয়েছিলেন এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তাজমিনের বাবা বলেন, ৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় তার মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে সে মেসেজ (খুদে বার্তা) এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে কক্সবাজারে গিয়েছিল। গত বুধবার বিকালে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল, রাতে কুমিল্লায় ফিরবে। কিন্তু তার আর বাসায় ফেরা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে আশপাশে খোঁজ করেন। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে তারা মরদেহটি দেখতে পায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে নির্জন পাকা সড়ক চলে গেছে। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তাজমিন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে থাকতে দেখে। এর কিছু দূরেই একটি ভেনেটি ব্যাগ পাওয়া যায়। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন রয়েছে। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে তরুণীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে তারা একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দেন। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।
মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে বলে জানান তারা। সেটি ধানক্ষেতের দেখলেই বুঝা যায়। মেয়েটি সম্ভবত নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হত্যাকারীদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি।
ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায়। তার পরিবার কুমিল্লা শহরে থাকে। শহরের একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ফেব্রুয়ারির পর ওই ছাত্রী আর বিদ্যালয়ে আসেনি।
এই বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধারের সময় ওই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়। কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পদুয়ার বাজারে নামার পর ওই কিশোরী কীভাবে লালমাইয়ের ওই স্থানে গেল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়েও তদন্ত চলছে। আমরা অটোরিকশা ধরে তদন্ত এগোচ্ছি।’
পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লা এসে পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশাটির ভেতর পোশাক ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো ওই কিশোরীর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন ওই কিশোরীর বাবা। পরে তার মরদেহ নিয়ে পরিবার যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।

খুঁজে পেতে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল মেয়ে, বাবা গিয়ে পেলেন মরদেহ
সাইবার বুলিংয়ের আতঙ্কে বরিশালের তরুণীরা







