কক্সবাজারে যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট

কক্সবাজারে যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিন গতকাল সোমবার উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনটির মালিক শহিদুল হকের দাবি, এটি নির্মাণে তার প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে ভবনটির অবস্থান। এর কাছেই রয়েছে দুটি তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ ও বে ওয়াচ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভবনটির সামনে খননযন্ত্র ও শ্রমিক নিয়ে আসা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে ভবনের নিচতলা ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ভবনের কাচ ভেঙে মূল কাঠামোর পিলার অপসারণের কাজ শুরু হয়।
কউক কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।
তবে ভবনমালিক শহিদুল হকের দাবি, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কক্ষ তৈরি করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই রিসোর্টটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল তার।
নোটিশের জবাব না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের বিপরীতে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।’
মেরিন ড্রাইভে অনুমোদনহীন স্থাপনা
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। তিনতলা ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভের পাশে অনুমোদনহীন হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অনেক স্থাপনাই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। অধিকাংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।
তিনি জানান, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। কয়েকটি তারকা হোটেল ছাড়া অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি।
কউক চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্দেশনা না মানায় যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট, কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এ কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।
জেলা প্রশাসক বলেন, কউকের অনুমোদন না থাকলে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানও চলছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কাগজপত্র রয়েছে, কিন্তু সব অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যবসায়ীরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানে সমর্থন
মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অনেক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অবৈধভাবে পরিচালিত হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তাদের সমিতিতে ১৮৭ জন সদস্য রয়েছেন। সমিতির তালিকাভুক্ত অধিকাংশ হোটেল ও গেস্টহাউসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তবে সমিতির বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রের অবস্থা সম্পর্কে তার জানা নেই।

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিন গতকাল সোমবার উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনটির মালিক শহিদুল হকের দাবি, এটি নির্মাণে তার প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে ভবনটির অবস্থান। এর কাছেই রয়েছে দুটি তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ ও বে ওয়াচ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভবনটির সামনে খননযন্ত্র ও শ্রমিক নিয়ে আসা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে ভবনের নিচতলা ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ভবনের কাচ ভেঙে মূল কাঠামোর পিলার অপসারণের কাজ শুরু হয়।
কউক কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।
তবে ভবনমালিক শহিদুল হকের দাবি, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কক্ষ তৈরি করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই রিসোর্টটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল তার।
নোটিশের জবাব না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের বিপরীতে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।’
মেরিন ড্রাইভে অনুমোদনহীন স্থাপনা
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। তিনতলা ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভের পাশে অনুমোদনহীন হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অনেক স্থাপনাই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। অধিকাংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।
তিনি জানান, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। কয়েকটি তারকা হোটেল ছাড়া অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি।
কউক চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্দেশনা না মানায় যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট, কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এ কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।
জেলা প্রশাসক বলেন, কউকের অনুমোদন না থাকলে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানও চলছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কাগজপত্র রয়েছে, কিন্তু সব অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যবসায়ীরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানে সমর্থন
মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অনেক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অবৈধভাবে পরিচালিত হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তাদের সমিতিতে ১৮৭ জন সদস্য রয়েছেন। সমিতির তালিকাভুক্ত অধিকাংশ হোটেল ও গেস্টহাউসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তবে সমিতির বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রের অবস্থা সম্পর্কে তার জানা নেই।

কক্সবাজারে যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৬ কোটি টাকার রিসোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিন গতকাল সোমবার উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনটির মালিক শহিদুল হকের দাবি, এটি নির্মাণে তার প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে ভবনটির অবস্থান। এর কাছেই রয়েছে দুটি তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ ও বে ওয়াচ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভবনটির সামনে খননযন্ত্র ও শ্রমিক নিয়ে আসা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে ভবনের নিচতলা ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ভবনের কাচ ভেঙে মূল কাঠামোর পিলার অপসারণের কাজ শুরু হয়।
কউক কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।
তবে ভবনমালিক শহিদুল হকের দাবি, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কক্ষ তৈরি করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই রিসোর্টটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল তার।
নোটিশের জবাব না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের বিপরীতে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।’
মেরিন ড্রাইভে অনুমোদনহীন স্থাপনা
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। তিনতলা ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভের পাশে অনুমোদনহীন হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অনেক স্থাপনাই কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। অধিকাংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।
তিনি জানান, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। কয়েকটি তারকা হোটেল ছাড়া অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি।
কউক চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্দেশনা না মানায় যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট, কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এ কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।
জেলা প্রশাসক বলেন, কউকের অনুমোদন না থাকলে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানও চলছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কাগজপত্র রয়েছে, কিন্তু সব অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যবসায়ীরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযানে সমর্থন
মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অনেক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অবৈধভাবে পরিচালিত হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তাদের সমিতিতে ১৮৭ জন সদস্য রয়েছেন। সমিতির তালিকাভুক্ত অধিকাংশ হোটেল ও গেস্টহাউসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তবে সমিতির বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রের অবস্থা সম্পর্কে তার জানা নেই।









