শিরোনাম

৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর পাম্প থেকে জানালো, তেল শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর পাম্প থেকে জানালো, তেল শেষ
ফিলিং স্টেশন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ফরিদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে জেলাবাসীকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

ফরিদপুরের শহরের টেপাখোলা রিয়ো ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে আসেন গোলডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মো হানিফ। তিনি বলেন, সরকার বলে তেলের সংকট নেই। তেল যদি থাকে তাহলে এমন হচ্ছে কেন? রৌদে ২ ঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছি না।

ফরিদপুর শহরতলীর ধলার মোড় এলাকার ট্রাকচালক উজ্জ্বল শেখ বলেন, দু্ইদিন সিরিয়ালে থেকেও ট্রাকে তেল নিতে পারিনি। আগের দিন ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে যখন কাছে কাছে পৌঁছে গেছি, তখন পাম্প থেকে জানায়, তেল শেষ। আজ (শনিবার) ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। গাড়িতে তেল নিতে না পারলে ভাড়া মারতে পারবো না। আগে হাজার বারোশ টাকা আয় করতাম। এখন তিনশও করতে পারছি না।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে তেল না দিলেও প্রভাবশালীরা এসে তাদের ইচ্ছে মতো তেল নিয়ে যাচ্ছে, এগুলো দেখার বা বলার কেউ নাই।

ফিলিং স্টেশন

চরমাধবদিয়ার আফজাল মিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, অনেকে গাড়িতে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করে ধান্দাবাজি করছে। প্রশাসনের এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত।

জে কে ফিলিং স্টেশনে বিলমাহমুদপুরের শাফায়াত সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আমি মার্কেটিংয়ে কাজ করি। আমার প্রতিদিন তিন থেকে চারশ টাকার তেল দরকার। সেখানে কোনো পাম্পে একশ কেউ দুইশ টাকার তেল দিচ্ছে। আমি এক পাম্প থেকে নিয়ে আবার অন্য পাম্পে গিয়ে সিরিয়াল দাঁড়াচ্ছি। এরফলে আমার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। কমপক্ষে ৫শ টাকার তেল দেওয়া উচিত।

শহরের প্রগতি ফিলিং স্টেশনের মালিক ফরহাদ হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, সমস্যা শুধু ফরিদপুরে বা বাংলাদেশে না। যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে কমবেশি জ্বালানি তেলের সমস্যা রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় মোট ৪২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে ২০টি। জেলার বাকি ৮টি উপজেলার মধ্যে চরভদ্রাসন উপজেলায় কোনো ফিলিং স্টেশন নেই। বাকি ৭টি উপজেলাতে ২২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ সীমিত থাকায় কোনটি সকালে চালু থাকলে বিকালে বন্ধ থাকে। আবার কোনোটি বিকালে চালু থাকলে সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছ।

/এসআর/