শিরোনাম

শিশু আয়নী হত্যাকাণ্ড: আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
শিশু আয়নী হত্যাকাণ্ড: আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড
আদালতে শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ রুবেল

চট্টগ্রামে ৯ বছরের শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা মামলায় আসামি মোহাম্মদ রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. সাইফুর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ বলেন, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে ধর্ষণচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শিশু আয়নীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি মোহাম্মদ রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় তার মা পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। লাশ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

তবে বিচার চলাকালে মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ধর্ষণের অভিযোগের পরিবর্তে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিচারকার্য পরিচালনা করেন। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে রুবেল শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দেন।

/এসবি/