৪ ঘণ্টা পর অবরোধ স্থগিত, ট্রেন-যান চলাচল স্বাভাবিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
৪ ঘণ্টা পর অবরোধ স্থগিত, ট্রেন-যান চলাচল স্বাভাবিক
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬টি গ্রাম পার্শ্ববর্তী বরিশল ইউনিয়নে যুক্ত করার প্রতিবাদে রেলপথ ও সড়ক অবরোধের ৪ ঘণ্টা পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারীরা। জেলা বিএনপির আশ্বাসে রবিবার (৮ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে আগামী ৩ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এতে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। একই সঙ্গে আখাউড়া-আগরতলা সড়কেও যান চলাচল শুরু হয়। এর আগে এদিন সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রেলপথ অবরোধ করেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

রেলপথ অবরোধের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী অন্তত সাতটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম আলাদা করে বরিশল নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। গ্রামগুলো হলো- কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল। নতুন ইউনিয়নটি আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে শুরু থেকেই বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বিষয়টি সমাধান হয়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন ভেঙে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা বরিশল ইউনিয়নের আওতায় এনে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ প্রস্তাবের নেপথ্যে জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ আহমেদ ভূঁইয়া কাজ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রতিবাদে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা।

পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা আগামী ৩ দিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।

সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করা হবে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে এ সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে গ্রামবাসী রেলপথ অবরোধ করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনগুলো বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে অবরোধ স্থগিত হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

/জেএইচ/