হন্যে হয়ে বাসার সন্ধানে সাবলেট ভাড়াটিয়ারা

হন্যে হয়ে বাসার সন্ধানে সাবলেট ভাড়াটিয়ারা
আয়নাল হোসেন

হন্যে হয়ে বাসার সন্ধান করছেন সরকারি কলোনিতে বসবাসকারী সাবলেট ভাড়াটিয়ারা। বিশেষ করে পুরান ঢাকার আজিমপুর কলোনিতে সাবলেট ভাড়াটিয়ার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অবৈধভাবে বসবাসকারী এসব ভাড়াটিয়াকে আজ শনিবারের মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
এই নোটিশের পর বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসার মালিকেরা তাদের বাসায় থাকা সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর স্বল্প সময়ের মধ্যে বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। তারা হন্যে হয়ে বাসা খুঁজছেন।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে আজিমপুর কলোনির বি জোনের অনেক সাবলেট ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে দেখা গেছে। কারণ, কারও বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে তাদের বাসা বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। এ জন্য বাসার মালিকেরাও দ্রুত বাসা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন সাবলেট ভাড়াটিয়াদের। কোনো সময় না দিয়ে হঠাৎ বাসা খালি করার ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়েছেন এসব সাবলেট ভাড়াটিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইডেন মহিলা কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে গতকাল (শুক্রবার) বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ে আমি বাসা কীভাবে পাব, তা বুঝতে পারছি না। আমার মতো অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছেন।
গত সপ্তাহে কলোনি পরিদর্শনে আসেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি লিটল অ্যাঞ্জেলস স্কুলের পাশের একটি ক্লাব খালি করার নির্দেশ দেন। সেখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক ও খেলার মাঠ করার ঘোষণা দেন। ছাপড়া মসজিদের পাশে নকশার বাইরে থাকা গেটটি বন্ধ করে সেখানে দেয়াল নির্মাণের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
জানা গেছে, আজিমপুর ও আশপাশে বেশ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে যাতায়াত করা যায়। সব মিলিয়ে আজিমপুর অনেকের পছন্দের একটি স্থান। বিশেষ করে যাঁদের ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য সহজে বাসা পাওয়ার নির্ভরযোগ্য স্থান ছিল আজিমপুর কলোনি। এসব সাবলেট ভাড়াটিয়া কলোনির পরিবেশ বিপন্ন করে ফেলেছেন। কারণ, সাবলেট ভাড়াটিয়াদের প্রায় শতভাগই নারী শিক্ষার্থী। এঁদের কারণে অনেক ছেলে কলোনিতে আড্ডা দেন। এতে বিব্রত ছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। মাঝেমধ্যে কমিটির পক্ষ থেকে আনসারদের নিয়ে তাদের তুলে দেওয়া হলেও তা ছিল কয়েক মিনিটের বিষয়। আবার তারা অন্য স্থানে গিয়ে আড্ডা জমাতেন।
গত বুধবার আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক ফ্ল্যাট বা বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটের এক বা একাধিক কক্ষ অথবা পুরো ফ্ল্যাট অন্য কাউকে সাবলেট ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কাজ ‘১৯৮২ সালের বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা’র স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে সাবলেট ভাড়া দেওয়া যাবে না। যারা ইতিমধ্যে সাবলেট দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও যদি কোনো বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ওই বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধিমালার বিধি ১৪(৩) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
গত ১৭ অক্টোবর শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন আজিমপুর কলোনির বি জোনে। সেখানকার নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সময় উপস্থিত লোকজন সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কলোনির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর কলোনির দুটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর পাশের গেটটি আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। আর পূর্ব পাশের গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৭ অক্টোবর শনিবার আকস্মিকভাবে আজিমপুর কলোনির জোন-বি পরিদর্শন করেন। সেখানে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরো আবাসিক এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নতি করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কলোনির সার্বিক পরিবেশ ও চলাচলের পথের উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ জানালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, ঢাকা শহরের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মাধ্যমে পূর্ণ বা সাবলেট ভাড়া দেওয়া বাসা চিহ্নিত করতে চারটি দল গঠন করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
রাজধানীর শাহজাহানপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, মালিবাগ, ইলিশিয়াম রেস্ট হাউস, গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায় পরিদর্শন দল-১ কাজ করবে। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন, নিউ ইস্কাটন, বেইলি রোড, বেইলি স্কয়ার, সোবহানবাগ ও সার্কিট হাউস এলাকায় পরিদর্শন দল-২ কাজ করবে। আজিমপুর, পলাশী, মৌচাক কলোনি, চায়না বিল্ডিং, রায়েরবাজার, ঝিগাতলা ও মিরপুরের সব এলাকায় পরিদর্শন দল-৩ কাজ করবে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি, এলেনবাড়ী, মগবাজার, আগারগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় পরিদর্শন দল-৪ কাজ করবে।
আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসিক ভবন, পূর্ণ ভাড়া বা উপভাড়া (সাবলেট) চিহ্নিতকরণ এবং আঙিনা, চলাচলের পথ, ড্রেনেজ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার বর্তমান অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ দিতে হবে। সরেজমিনে পরিদর্শনের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

হন্যে হয়ে বাসার সন্ধান করছেন সরকারি কলোনিতে বসবাসকারী সাবলেট ভাড়াটিয়ারা। বিশেষ করে পুরান ঢাকার আজিমপুর কলোনিতে সাবলেট ভাড়াটিয়ার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অবৈধভাবে বসবাসকারী এসব ভাড়াটিয়াকে আজ শনিবারের মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
এই নোটিশের পর বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসার মালিকেরা তাদের বাসায় থাকা সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর স্বল্প সময়ের মধ্যে বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। তারা হন্যে হয়ে বাসা খুঁজছেন।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে আজিমপুর কলোনির বি জোনের অনেক সাবলেট ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে দেখা গেছে। কারণ, কারও বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে তাদের বাসা বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। এ জন্য বাসার মালিকেরাও দ্রুত বাসা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন সাবলেট ভাড়াটিয়াদের। কোনো সময় না দিয়ে হঠাৎ বাসা খালি করার ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়েছেন এসব সাবলেট ভাড়াটিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইডেন মহিলা কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে গতকাল (শুক্রবার) বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ে আমি বাসা কীভাবে পাব, তা বুঝতে পারছি না। আমার মতো অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছেন।
গত সপ্তাহে কলোনি পরিদর্শনে আসেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি লিটল অ্যাঞ্জেলস স্কুলের পাশের একটি ক্লাব খালি করার নির্দেশ দেন। সেখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক ও খেলার মাঠ করার ঘোষণা দেন। ছাপড়া মসজিদের পাশে নকশার বাইরে থাকা গেটটি বন্ধ করে সেখানে দেয়াল নির্মাণের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
জানা গেছে, আজিমপুর ও আশপাশে বেশ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে যাতায়াত করা যায়। সব মিলিয়ে আজিমপুর অনেকের পছন্দের একটি স্থান। বিশেষ করে যাঁদের ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য সহজে বাসা পাওয়ার নির্ভরযোগ্য স্থান ছিল আজিমপুর কলোনি। এসব সাবলেট ভাড়াটিয়া কলোনির পরিবেশ বিপন্ন করে ফেলেছেন। কারণ, সাবলেট ভাড়াটিয়াদের প্রায় শতভাগই নারী শিক্ষার্থী। এঁদের কারণে অনেক ছেলে কলোনিতে আড্ডা দেন। এতে বিব্রত ছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। মাঝেমধ্যে কমিটির পক্ষ থেকে আনসারদের নিয়ে তাদের তুলে দেওয়া হলেও তা ছিল কয়েক মিনিটের বিষয়। আবার তারা অন্য স্থানে গিয়ে আড্ডা জমাতেন।
গত বুধবার আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক ফ্ল্যাট বা বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটের এক বা একাধিক কক্ষ অথবা পুরো ফ্ল্যাট অন্য কাউকে সাবলেট ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কাজ ‘১৯৮২ সালের বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা’র স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে সাবলেট ভাড়া দেওয়া যাবে না। যারা ইতিমধ্যে সাবলেট দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও যদি কোনো বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ওই বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধিমালার বিধি ১৪(৩) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
গত ১৭ অক্টোবর শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন আজিমপুর কলোনির বি জোনে। সেখানকার নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সময় উপস্থিত লোকজন সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কলোনির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর কলোনির দুটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর পাশের গেটটি আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। আর পূর্ব পাশের গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৭ অক্টোবর শনিবার আকস্মিকভাবে আজিমপুর কলোনির জোন-বি পরিদর্শন করেন। সেখানে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরো আবাসিক এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নতি করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কলোনির সার্বিক পরিবেশ ও চলাচলের পথের উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ জানালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, ঢাকা শহরের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মাধ্যমে পূর্ণ বা সাবলেট ভাড়া দেওয়া বাসা চিহ্নিত করতে চারটি দল গঠন করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
রাজধানীর শাহজাহানপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, মালিবাগ, ইলিশিয়াম রেস্ট হাউস, গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায় পরিদর্শন দল-১ কাজ করবে। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন, নিউ ইস্কাটন, বেইলি রোড, বেইলি স্কয়ার, সোবহানবাগ ও সার্কিট হাউস এলাকায় পরিদর্শন দল-২ কাজ করবে। আজিমপুর, পলাশী, মৌচাক কলোনি, চায়না বিল্ডিং, রায়েরবাজার, ঝিগাতলা ও মিরপুরের সব এলাকায় পরিদর্শন দল-৩ কাজ করবে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি, এলেনবাড়ী, মগবাজার, আগারগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় পরিদর্শন দল-৪ কাজ করবে।
আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসিক ভবন, পূর্ণ ভাড়া বা উপভাড়া (সাবলেট) চিহ্নিতকরণ এবং আঙিনা, চলাচলের পথ, ড্রেনেজ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার বর্তমান অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ দিতে হবে। সরেজমিনে পরিদর্শনের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

হন্যে হয়ে বাসার সন্ধানে সাবলেট ভাড়াটিয়ারা
আয়নাল হোসেন

হন্যে হয়ে বাসার সন্ধান করছেন সরকারি কলোনিতে বসবাসকারী সাবলেট ভাড়াটিয়ারা। বিশেষ করে পুরান ঢাকার আজিমপুর কলোনিতে সাবলেট ভাড়াটিয়ার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অবৈধভাবে বসবাসকারী এসব ভাড়াটিয়াকে আজ শনিবারের মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
এই নোটিশের পর বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসার মালিকেরা তাদের বাসায় থাকা সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর স্বল্প সময়ের মধ্যে বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। তারা হন্যে হয়ে বাসা খুঁজছেন।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে আজিমপুর কলোনির বি জোনের অনেক সাবলেট ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে দেখা গেছে। কারণ, কারও বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে তাদের বাসা বরাদ্দ বাতিলের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। এ জন্য বাসার মালিকেরাও দ্রুত বাসা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন সাবলেট ভাড়াটিয়াদের। কোনো সময় না দিয়ে হঠাৎ বাসা খালি করার ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়েছেন এসব সাবলেট ভাড়াটিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইডেন মহিলা কলেজের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে গতকাল (শুক্রবার) বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ে আমি বাসা কীভাবে পাব, তা বুঝতে পারছি না। আমার মতো অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছেন।
গত সপ্তাহে কলোনি পরিদর্শনে আসেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি লিটল অ্যাঞ্জেলস স্কুলের পাশের একটি ক্লাব খালি করার নির্দেশ দেন। সেখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক ও খেলার মাঠ করার ঘোষণা দেন। ছাপড়া মসজিদের পাশে নকশার বাইরে থাকা গেটটি বন্ধ করে সেখানে দেয়াল নির্মাণের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
জানা গেছে, আজিমপুর ও আশপাশে বেশ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে সহজে যাতায়াত করা যায়। সব মিলিয়ে আজিমপুর অনেকের পছন্দের একটি স্থান। বিশেষ করে যাঁদের ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য সহজে বাসা পাওয়ার নির্ভরযোগ্য স্থান ছিল আজিমপুর কলোনি। এসব সাবলেট ভাড়াটিয়া কলোনির পরিবেশ বিপন্ন করে ফেলেছেন। কারণ, সাবলেট ভাড়াটিয়াদের প্রায় শতভাগই নারী শিক্ষার্থী। এঁদের কারণে অনেক ছেলে কলোনিতে আড্ডা দেন। এতে বিব্রত ছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। মাঝেমধ্যে কমিটির পক্ষ থেকে আনসারদের নিয়ে তাদের তুলে দেওয়া হলেও তা ছিল কয়েক মিনিটের বিষয়। আবার তারা অন্য স্থানে গিয়ে আড্ডা জমাতেন।
গত বুধবার আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক ফ্ল্যাট বা বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটের এক বা একাধিক কক্ষ অথবা পুরো ফ্ল্যাট অন্য কাউকে সাবলেট ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কাজ ‘১৯৮২ সালের বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা’র স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে সাবলেট ভাড়া দেওয়া যাবে না। যারা ইতিমধ্যে সাবলেট দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও যদি কোনো বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ওই বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধিমালার বিধি ১৪(৩) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
গত ১৭ অক্টোবর শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন আজিমপুর কলোনির বি জোনে। সেখানকার নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সময় উপস্থিত লোকজন সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কলোনির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর কলোনির দুটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর পাশের গেটটি আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। আর পূর্ব পাশের গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৭ অক্টোবর শনিবার আকস্মিকভাবে আজিমপুর কলোনির জোন-বি পরিদর্শন করেন। সেখানে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরো আবাসিক এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নতি করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কলোনির সার্বিক পরিবেশ ও চলাচলের পথের উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ জানালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, ঢাকা শহরের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মাধ্যমে পূর্ণ বা সাবলেট ভাড়া দেওয়া বাসা চিহ্নিত করতে চারটি দল গঠন করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
রাজধানীর শাহজাহানপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, মালিবাগ, ইলিশিয়াম রেস্ট হাউস, গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায় পরিদর্শন দল-১ কাজ করবে। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন, নিউ ইস্কাটন, বেইলি রোড, বেইলি স্কয়ার, সোবহানবাগ ও সার্কিট হাউস এলাকায় পরিদর্শন দল-২ কাজ করবে। আজিমপুর, পলাশী, মৌচাক কলোনি, চায়না বিল্ডিং, রায়েরবাজার, ঝিগাতলা ও মিরপুরের সব এলাকায় পরিদর্শন দল-৩ কাজ করবে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি, এলেনবাড়ী, মগবাজার, আগারগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় পরিদর্শন দল-৪ কাজ করবে।
আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসিক ভবন, পূর্ণ ভাড়া বা উপভাড়া (সাবলেট) চিহ্নিতকরণ এবং আঙিনা, চলাচলের পথ, ড্রেনেজ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার বর্তমান অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ দিতে হবে। সরেজমিনে পরিদর্শনের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারে অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী
শনিবারের মধ্যে সরকারি বাসা-ফ্ল্যাট থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের নির্দেশ







