আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংগঠনগুলোই শ্রমিকদের উস্কানি দিচ্ছে: জি-ফপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংগঠনগুলোই শ্রমিকদের উস্কানি দিচ্ছে: জি-ফপ
সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের নেতারা

তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ (জি-ফপ)। সংগঠনটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে ঘিরে আন্দোলন জোরদার করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এই উস্কানির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহবায়ক মির্জা আল শামীম বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সরকারের ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে একটি মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে ।

সংগঠনটির দাবি, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও তাদের রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শ্রমিক ফেডারেশন অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মজুরি বোর্ড গঠন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক পরিচয়ে একদল বহিরাগত লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়ক অবরোধ করে এবং বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করে। এ সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তারা।

গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের নেতাদের ভাষ্য, মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া যখন এগিয়ে চলছে, তখন এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি আদায়ের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়া এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তারা আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা জড়িত। এ খাতের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ শ্রমিকেরা। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং উত্তরার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ।

/এফসি/